Copyright Law: সৃজনশীলতার স্বত্ব থাক সংরক্ষিত, জেনে নিন দেশের কপিরাইট আইন নিয়ে বিশদে

photo source collected

ভারতের কপিরাইট আইন নিয়ে এবার বিশদে আলোচনা করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রাচী মিশ্র (Prachi Mishra)।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: শিল্পী, লেখক, গায়কের শ্রম যাতে বিফলে না যায়, যাতে তাঁদের সৃজনশীলতার স্বত্ব সংরক্ষিত থাকে, সেই লক্ষ্যে সব দেশেরই কপিরাইট আইন আছে। ভারতের কপিরাইট আইন নিয়ে এবার বিশদে আলোচনা করলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রাচী মিশ্র (Prachi Mishra)।

কপিরাইট আদতে কী? লেখক এবং শিল্পীরা যাঁতে তাঁদের মৌলিক সৃষ্টিকে সর্বতো ভাবে উপভোগ করতে পারেন, তার অপব্যবহার রুখতে পারেন, সেই মর্মে যে একগুচ্ছ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তাকেই বলা হয় কপিরাইট। সাহিত্য, অঙ্কনশিল্প, ভাস্কর্য, নাট্যকলা, সঙ্গীত, সিনেম্যাটোগ্রাফিক ফিল্ম, সাউন্ড রেকর্ডিং এবং শিল্পের আরও বেশ কিছু ক্ষেত্র এর আওতায় পড়ে।

কপিরাইটের গুরুত্ব ঠিক কতটা? ১. এই আইনবলে স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টির রূপান্তর, ভাষান্তর এবং আনুষঙ্গিক পরিবর্তন বিষয়ে সম্পূর্ণ সার্বভৌমতা এবং স্বাধীনতা অর্জন করে থাকেন। ২. সৃষ্টির অপব্যবহার এই আইন প্রয়োগ করে রুখতে পারেন স্রষ্টা। ৩. সৃষ্টি থেকে যে অর্থনৈতিক লাভ হয়, তাও উপভোগ করেন একমাত্র স্রষ্টাই! ৪. ব্যক্তির পাশাপাশি সমষ্টিকেও এই আইন সৃজনশীল কাজের অনুপ্রেরণা দেয়।

কপিরাইট উল্লঙ্ঘণ কী ভাবে হয়? স্রষ্টা যাতে তাঁর সৃষ্টি থেকে উপার্জিত অর্থ উপভোগ করতে পারেন, কপিরাইট সেই বিষয়টি সুনিশ্চিত করে। এক্ষেত্রে সৃষ্টির স্বত্ব শুধুমাত্র স্রষ্টার থাকতে পারে বা তিনি কোনও সংস্থার সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ থাকতে পারেন। এখন এই দুই পক্ষ ছাড়া আর কেউ যদি সেই সৃষ্টি বিশেষ করে পূর্বে উল্লিখিত সংস্থার অনুমতি ব্যতিরেকে নকল করেন বা কোনও কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে তা কপিরাইট উল্লঙ্ঘণের আওতায় পড়ে।

১৯৫৭ সালের কপিরাইট অ্যাক্ট কী ভাবে স্রষ্টাকে সুরক্ষা দেয়? সাহিত্য, অঙ্কনশিল্প, ভাস্কর্য, নাট্যকলা, সঙ্গীত, সিনেম্যাটোগ্রাফিক ফিল্ম, সাউন্ড রেকর্ডিং এবং শিল্পের আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রকে সুরক্ষা দেয় ১৯৫৭ সালের কপিরাইট অ্যাক্ট। স্রষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ তা নকল করলে বা কোনও কাজে ব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যায়। তবে কপিরাইট অ্যাক্ট ঠিক পেটেন্টের মতো কাজ করে না। কপিরাইট কোনও বিষয়ের সঙ্গে জড়িত অভিব্যক্তির মর্যাদা দেয়, উদ্ভাবনের নয়। অর্থাৎ কোনও এক বিষয়ে কাজ যে ভাবে হয়েছে, সেই ক্ষেত্রটিকে সুরক্ষা দেয় কপিরাইট অ্যাক্ট। একই বিষয় নিয়ে আলাদা মৌলিক কাজ কপিরাইটের আওতায় পড়ে না।

স্রষ্টা যদি কোনও সংস্থার অধীনে থাকেন, তাহলে কপিরাইটের অধিকার কার হাতে থাকে? স্রষ্টা কোনও সংস্থায় কাজ করলে তাদের হয়ে যে মৌলিক রচনা করেন, তার কপিরাইট সংস্থার হাতে থাকে। তবে যদি কোনও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেক্ষেত্রে স্রষ্টা একক ভাবে কপিরাইট উপভোগ করতে পারেন, অন্যথায় নয়।

কপিরাইটের অধিকার কি স্রষ্টা অন্য কাউকে দিতে পারেন? স্রষ্টা চাইলে অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর সৃষ্টির পুরোটা বা অংশবিশেষ অন্য কাউকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন, এক্ষেত্রে তা কপিরাইট উল্লঙ্ঘণের আওতায় পড়ে না।

কপিরাইটের মেয়াদ কতটা হয়? স্রষ্টা যত দিন বেঁচে থাকেন, তত দিন পর্যন্ত তো বটেই, তাঁর মৃত্যুর পরেও ৬০ বছর পর্যন্ত কপিরাইট সক্রিয় এবং বৈধ থাকে।

১৯৫৭ সালের কপিরাইট অ্যাক্টের ৫২ নম্বর ধারা অনুসারে কোন কোন ক্ষেত্রে উল্লঙ্ঘণের প্রশ্নটি ওঠে না? ১. কেউ যদি ব্যক্তিগত কারণ, যেমন গবেষণার স্বার্থে কোনও অংশ ব্যবহার করেন, তাহলে তা কপিরাইট উল্লঙ্ঘণের আওতায় পড়ে না। ২. ওই বিশেষ সৃষ্টির সমালোচনা বা অন্য কোনও সৃষ্টির সমালোচনা প্রসঙ্গে কেউ যদি কোনও অংশ ব্যবহার করেন, তাহলে তা কপিরাইট উল্লঙ্ঘণের আওতায় পড়ে না।

১৯৫৭ সালের কপিরাইট অ্যাক্ট অনুসারে কী ভাবে আইনি পদক্ষেপ করা যায়? দুরভিসন্ধিতে শিল্পের কোনও ক্ষতি হলে বা তা কেউ ব্যবহার করলে সিভিল কোর্টে স্রষ্টা আবেদন জানাতে পারেন, এক্ষেত্রে তাঁর স্বার্থ আইন সুনিশ্চিত করে থাকে।

Prachi Mishra

Published by:Piya Banerjee
First published: