শুধু মানুষের নয়, অরণ্যের স্বাস্থ্যরক্ষাতেও কাজে আসে কফি, বলছে গবেষণা!

শুধু মানুষের নয়, অরণ্যের স্বাস্থ্যরক্ষাতেও কাজে আসে কফি, বলছে গবেষণা!

শুধু মানুষের নয়, অরণ্যের স্বাস্থ্যরক্ষাতেও কাজে আসে কফি, বলছে গবেষণা!

ইকোলজিকাল সলিউশনস অ্যান্ড এভিডেন্স নামক এক পত্রিকায় এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

  • Share this:

#আমেরিকা: কফি প্রস্তুত করার পর কিছু পাল্প বা অবশিষ্ট পড়ে থাকে। খোলা জমিতে, অর্থাৎ যেখানে ফসল কাটা হয়ে গিয়েছে সেখানে এই অবশেষ ছড়িয়ে দিলে জন্ম নিতে পারে ক্রান্তীয় অরণ্য। আর কফি অবশেষের কল্যাণেই সেই অরণ্য বাড়বেও অতি দ্রুত। ইকোলজিকাল সলিউশনস অ্যান্ড এভিডেন্স নামক এক পত্রিকায় এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণা করার জন্য এক অভিনব পন্থা বেছে নিয়েছিলেন গবেষকরা। একটি ৩৫-৪০ মিটার জমিতে ৩০টি ট্রাক ভর্তি কফির অবশেষ ফেলা হয়েছিল। একই আকারের অপর একটি জমি এমনি ফেলে রাখা হয়েছিল। আমেরিকার হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক রেবেকা কোল জানিয়েছেন যে এটা করার পর এক অবিশ্বাস্য তফাৎ দেখা গিয়েছে। যে জমিতে কফির অবশেষ ফেলা হয়েছিল সেখানে মাত্র দুই বছরের মধ্যে একটি ছোটখাট অরণ্য জন্মে গিয়েছে। বলাই বাহুল্য, অপর জমি, যেখানে কিছু ফেলা হয়নি, সেখানে আঞ্চলিক ঘাস ছাড়া কিছুই জন্মায়নি।

যদি কফি যেখানে ফেলা হয়েছিল সেখানে ৮০% জঙ্গল হয়ে থাকে, সেই তুলনায় যে জমিতে কিছু ফেলা হয়নি, সেখানে মাত্র ২০% গাছ জন্মেছে। আর যে জমিতে কফি অবশেষ ফেলা হয়েছে, সেই জমির গাছগুলি অন্য জমির চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘ। গবেষকরা অবাক হয়েছেন যে মাত্র দুই বছরের মধ্যেই এই আশ্চর্য কাণ্ড ঘটেছে।

এমনিতে ফসল কাটার পর জমি ফেলে রাখলে সেখানে চারণভূমি তৈরি হয়ে যায়। এক দুই বছরের মধ্যেই সেখানে ঘাস জন্মে যায়। কিন্তু আধ মিটার উঁচু কফির অবশেষ ফেলার জন্য এই ঘাস আর জন্মাতে পারেনি। জমিতে একবার ঘাস জন্মাতে শুরু করলে সেখানে অরণ্য বা জঙ্গল তৈরি হওয়া খুব মুশকিল। ঘাস না থাকলে পাখি বা অন্যান্য জন্তুর দ্বারা এবং হাওয়ায় জঙ্গলের বীজ ভেসে আসতে পারে কোনও বাধা ছাড়াই।

গবেষকরা এও দেখেছেন যে দুই বছর পর যে জমিতে কফি অবশেষ ফেলা হয়েছিল সেই জমিতে ফসফরাস, নাইট্রোজেন ও কার্বনও বৃদ্ধি পেয়েছে। কফির অবশেষ ফেলার আগে ও পরে মাটির নমুনাও পরীক্ষা করা হয়েছে। ড্রোন ব্যবহার করে গাছের প্রজাতি, তাদের দৈর্ঘ্য ইত্যাদিও দেখা হয়েছে।

Published by:Simli Raha
First published:

লেটেস্ট খবর