• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • রিক্সাচলক বাবার নেই কাজ, দুই বিশেষভাবে সক্ষম ছেলেকে নিয়ে পড়েছেন চরম সমস্যায়

রিক্সাচলক বাবার নেই কাজ, দুই বিশেষভাবে সক্ষম ছেলেকে নিয়ে পড়েছেন চরম সমস্যায়

  • Share this:

#ইসলামপুর: দুই সন্তান বিশেষভাবে সক্ষম৷ তাদের নিয়ে অথৈ জলে পড়েছেন উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ব্লকের শিয়ালতোর গ্রামের এক দম্পতি। দ্রুত তাদের হাতে মানবিক ভাতা তুলে দেবার আশ্বাস দিয়েছেন ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি। ইসলামপুর ব্লকের শিয়ালতোর গ্রামের বাসিন্দা আশুতোষ বিশ্বাস। পেশায় রিক্সাচালক তিনি৷ স্ত্রী দিপালী বিশ্বাস এবং তার দুই বিশেষভাবে সক্ষম সন্তানদের নিয়ে কোনক্রমে দিন গুজরান করেন তিনি। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারা রাজ্যে কার্যত লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউনের ফলে ভ্যান রিক্সার কাজও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই আশুতোষবাবু দৈনিক শ্রমিকের কাজ বেছে নেন। দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারে দুই দু’জন সন্তান।  নিজেদের খাওয়ার জোগারে যখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তখন এই বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের ভরণপোষণ তাদের পক্ষে চরম কষ্টকর হয়ে পড়ে। প্রতিবেশী দুই যুবক তাদের হাতে সপ্তাহে দশকেজি চাল, আলু সহ বেশ কিছু খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। এভাবেই চলছে তাদের সংসার।

বিশ্বাস পরিবার দুই বিশেষভাবে সক্ষম সন্তানকে নিয়ে  অনাহার অর্ধাহারে কোনক্রমে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানরা সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের মধ্যে ধরা পড়ে সমস্যা৷ দুই যুবক উজ্বল এবং উৎপলের মা দিপালী দেবী জানান,  বিষয়টি নজরে আসার পরই  ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলেও অবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি।এক সময় তারা দু’জনে বসে পড়লে তাদের চিকিৎসা করা ছেড়েই দেওয়া হয়। প্রতিবেশীর অনেকেই বলেছেন ভেলোরে চিকিৎসা করালে তারা দু’জনেই সুস্থ হয়ে উঠবেন। নিজেদের পেটে যখন ভাত জোগার করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে তখন ছেলেদের চিকিৎসা করার কথা ভাবতেই পারেন না দম্পতি৷ তবে দুই ছেলের প্রতিবন্দী সংশাপত্র শিলিগুড়ির উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে করাতে পেরেছেন। মা দুই ছেলের জন্য বিভিন্ন জায়গায় লড়াই করলেই প্রায় হতাশ হয়ে পড়েছেন আশুতোষবাবু। তিনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন একপ্রকার।

প্রতিবেশী নেপাল মজুমদার জানান, দুই ছেলেকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন পার করছেন আশুতোষবাবু। এই দুঃস্থ অসহায় মানুষগুলোর পাশে সরকারকে দাড়াবার আবেদন করেছেন তিনি। অর্থের অভাবে চিকিৎসা সম্ভব হয়নি৷  ঘরে দুই সন্তান থাকলেও তাদের  আজ পর্যন্ত মানবিক ভাতা চালু হয়নি। দ্রুত তাদের হাতে মানবিক ভাতা পৌঁছে দেবার আশ্বাস দিয়েছেন ইসলামপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শ্যামল সরকার। শ্যামলবাবু জানান, বিষয়টি তাদের নজর ছিল। তাদের বাড়ি অনেকটা দূরে হওয়ায় ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখতে পারেনি। পরিবারের এই অসহায় অবস্থার জন্য তারা বিশেষ উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি। শ্যামলবাবু আরও জানান যে, আশুতোষবাবু বা তাঁর স্ত্রী ব্লক অফিসে আসতে না পারলেও দলের কর্মীদের পাঠিয়ে মানবিক ভাতার আবেদন করানো হবে।

Published by:Pooja Basu
First published: