Viral Video: অভাবের সংসার, দু'বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বের হন এই ডেলিভারি বয়! চোখে জল আনা ভিডিও ভাইরাল

Viral Video: অভাবের সংসার, দু'বছরের সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বের হন এই ডেলিভারি বয়! চোখে জল আনা ভিডিও ভাইরাল

Chinese Delivery Man

বাইকে চেপে প্রতি দিন সময় মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লি। ডেলিভারি বাক্সের সঙ্গে থাকে মেয়েও।

  • Share this:

#বেজিং: সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের আত্মত্যাগ ও দায়িত্ববোধ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অবদানকে কয়েকটি শব্দে বর্ণনা করাও খুব কঠিন। তবে চিনের বাসিন্দা লি যেন এক দৃষ্টান্ত গড়েছেন। অভাবের সংসারে ভাতের জোগাড় করতে স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই কাজে বেরিয়ে যান। তাই ছোট্ট কন্যাসন্তানকে দেখাশোনা করার কেউ নেই। এই পরিস্থিতিতে ২ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই রোজ ডেলিভররির কাজে বেরিয়ে পড়েন বাবা।

বাইকে চেপে প্রতি দিন সময় মতো কাজে বেরিয়ে পড়েন লি। ডেলিভারি বাক্সের সঙ্গে থাকে মেয়েও। দিন কয়েক আগেই South China Morning Post-এর Twitter অ্যাকাউন্টে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। যা ইতিমধ্যেই ব্যাপক মাত্রায় ভাইরাল হয়েছে। ৮০,০০০-এর বেশি ভিউজ রয়েছে ভিডিওটির। লি-এর এই কাজে মুগ্ধ নেটিজেনরাও।

ছ'মাস থেকে বাবার সঙ্গে এই যাত্রা শুরু। লি জানান, মেয়ের বয়স যখন ছয় মাস, তখন থেকেই বাইকে করে মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি। প্রথম প্রথম মেয়েকে ডেলিভারি বাক্সের উপরে বসিয়ে দিতেন। একটু অসুবিধা হত। তবে পরের দিকে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। এক্ষেত্রে সব সময়ে একটি ছোট্ট গদি, দুধ খাওয়ানোর বোতল ও ডায়াপারও রাখা থাকে। তাছাড়া ডেলভারির কাজের সময়ে বাবাকে খুব একটা জ্বালায়নি তার মেয়ে। বরং দু'জনে মিলে এই কাজের সময়টা দারুণ উপভোগ করেন। লি-এর কথায়, মেয়ে সঙ্গে থাকলে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। রোজকার কাজে অনেক সময় হাঁফিয়ে উঠি, তবে ছোট্ট মেয়ের একটি হাসিতেই যাবতীয় ক্লান্তি দূর হয়। কাজের জন্য নতুন করে উৎসাহ পাই।

ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে কাজে বেরোনো খুব একটা সুবিধেরও নয়। মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে হয়। তাই একটা ঝুঁকিও থেকে যায়। মেয়েকে এই ঝামেলা-ঝক্কি দেওয়ার জন্য খানিকটা অপরাধবোধেও ভোগেন তিনি। কিন্তু কোনও বিকল্প পথ নেই তাঁর কাছে। স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই কাজ করেন। তাই সকালে মেয়ের যত্ন নেন লি। আর সন্ধ্যায় মেয়েকে সামলান লি-এর স্ত্রী।

ভাড়ার একটি ছোট বাড়িতে থাকেন এই দম্পতি। দিন আনা দিন খাওয়া সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। এক কথায় বলতে গেলে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তবে এই অভাব আর সমস্যার মধ্যেই নিজেদের মতো করে খুশি লি ও তাঁর স্ত্রী। লি-এর কথায়, অল্পেতেই ভালো আছি আমরা। সত্যি কথা বলতে, সুখী থাকার জন্য খুব একটা অর্থের প্রয়োজন নেই। তবে মেয়ের ভবিষ্যত নিয়ে সদা সচেতন মা-বাবা। তাঁদের কথায়, মেয়ের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যত মজবুত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তাঁরা। আর সেই লক্ষ্যেই দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন।

Published by:Piya Banerjee
First published: