হাসলেই তো বিষম বিপদ, ব্রিটিশ তরুণীর রোগ ঘুম ওড়াচ্ছে

হাসলেই তো বিষম বিপদ, ব্রিটিশ তরুণীর রোগ ঘুম ওড়াচ্ছে

জোরে হেসে ফেললেই ঘুমিয়ে পড়েন, ব্রিটিশ তরুণীর বিরল ঘুমের অসুখ ঘুম কেড়েছে বিশ্বের!

জোরে হেসে ফেললেই ঘুমিয়ে পড়েন, ব্রিটিশ তরুণীর বিরল ঘুমের অসুখ ঘুম কেড়েছে বিশ্বের!

  • Share this:

#লন্ডন: স্নায়ু এবং পেশি কখন কী ভাবে কার শরীরে কী রকম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, তা আগে থেকে বলা যায় না। শরীর আদতে যন্ত্র বই আর কিছু তো নয়। কাজেই যন্ত্র নিয়ম মেনে চললে এক-আধটা মডেল তার ব্যতিক্রম হতে পারে বইকি! ব্রিটেনের বার্মিংহামের গ্রেট বারের বাসিন্দা বছর চব্বিশের বেলা কিলমার্টিনের (Bella Kilmartin) ব্যাপারটাও ঠিক তাই! হেসে ফেললে আমি বা আপনি ঘুমিয়ে পড়ি না, কিন্তু বেলা ঘুমিয়ে পড়েন!

সম্প্রতি দ্য মেট্রো সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বেলার এই আশ্চর্য রোগের কথা। জানা গিয়েছে যে এটি অত্যন্ত বিরল এক ধরনের স্লিপ ডিজঅর্ডার। পোশাকি ভাষায় এই অসুখের নাম নার্কোলেপ্সি (Narcolepsy)। এই নার্কোলেপ্সি আবার ক্যাটাপ্লেক্সি (Cataplexy) বলে অভিহিত এক ধরনের শারীরিক সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। কেউ জোরে হেসে উঠলে এই ক্যাটাপ্লেক্সিতে শরীরের সব পেশি শিথিল হয়ে আসে, ফলে নড়াচড়া করার ক্ষমতা থাকে না, ধীরে ধীরে ঘুমিয়ে পড়েন রোগী।

বেলা জানিয়েছেন যে তাঁর ক্ষেত্রেও ঠিক এই রকমটাই হয়। এবং যতটা অনুমান করা যায়, ঘটনাটা তার চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই অসুখ বেশ কয়েকবার তাঁকে ঠেলে দিয়েছে নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে। কখনও আবার বড়সড় দুর্ঘটনার পরিসর রচনা করেছে। ঈশ্বরের আশীর্বাদেই বলতে গেলে এখনও পর্যন্ত একরকম সুস্থ আছেন বেলা। যেমন, একবার সাঁতার কাটতে কাটতে আপন মনে হেসে উঠেছিলেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে শরীর অসাড় হয়ে যায়, সে বার জলে ডুবে মরতে বসেছিলেন বেলা।

আবার, আরেকবার গায়ে পড়ে গিয়েছিল গরম চা। আচমকা হেসে উঠতেই নড়াচড়া করার ক্ষমতা চলে যায়, জামায় চলকে পড়া এক পট চা শরীর পুড়িয়ে দেওয়ার উপক্রম করে! বেলা বলছেন, যে সব পরিস্থিতিতে তিনি স্বতস্ফূর্ত ভাবে হেসে ওঠেন, সেই সব ক্ষেত্রে এই নড়াচড়া না করতে পারার অভিঘাত সব চেয়ে জোরালো হয়। এই সব সময়ে তিনি চারপাশের লোকজনের সব কথা শুনতে পান, কিন্তু জিভ নাড়ানোর ক্ষমতাও তাঁর থাকে না। চোখের পাতা কিছুক্ষণ খোলা থাকে, তার পর ধীরে ধীরে বুজে যায়।

সৌভাগ্যজনক ভাবে বন্ধুদের সাহচর্য বেলাকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে সাহায্য করে। লুবরো ইউনিবার্সিটির সাইকোলজির এই ছাত্রীকে সব সময়ে চোখে চোখে রাখেন বন্ধুরা। বেলা কোথাও ঘুমিয়ে পড়লে তাঁরা তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসেন। বেশ কয়েকবার নাইট ক্লাবে এমন হয়েছে। তখন বন্ধুরা তাঁকে ঘিরে থেকেছেন, ভোরে পৌঁছে দিয়েছেন বাড়ি, জানিয়েছেন বেলা।

Published by:Debalina Datta
First published: