লাইফস্টাইল

corona virus btn
corona virus btn
Loading

মাথা যন্ত্রণা, বমি-বমি ভাব ? শরীরে বাসা বাধেনি তো কোনও ভয়ঙ্কর জটিল রোগ

মাথা যন্ত্রণা, বমি-বমি ভাব ? শরীরে বাসা বাধেনি তো কোনও ভয়ঙ্কর জটিল রোগ

কী করে বোঝা যাবে ব্রেন অ্যানিউরিসমস (Brain Aneurysm)-এর সমস্যা?

  • Share this:

#কলকাতা: শিরা বা রক্তনালীর প্রাচীর দুর্বল হওয়ায় অনেক সময়ই তা কোথাও কোথাও ফুলে যায়। সেখানে রক্ত চলাচলের মাত্রা বেড়ে যায় এবং তা একাধিক সমস্যা তৈরি করে। এই রক্তনালী বা শিরা ফুলে যাওয়ার সমস্যাকে অ্যানিউরিজমস (Aneurysms) বলা হয়ে থাকে। অ্যানিউরিজমস (Aneurysms) শরীরে যে কোনও জায়গায়, যে কোনও শিরাতেই হতে পারে। তবে, ব্রেনে হলে তা ব্রেন হ্যামারেজ (Haemorrhage) বা মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। সমীক্ষা বলছে, বিশ্বে এক লক্ষ মানুষের মধ্যে তিন শতাংশ এই ধরনের ব্রেন অ্যানিউরিজমসের শিকার হন। যার মধ্যে ৫০ শতাংশ মানুষের এর থেকে মৃত্যু হতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের Université de Genève-র কয়েকজন গবেষক বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। Nature Genetics-এ তাঁদের প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা যায়, এই ব্রেন অ্যানিউরিজমস (Brain Aneurysm) জেনেটিক কারণেও হতে পারে। ব্রেন অ্যানিউরিজমস হওয়ার সাতটি জেনেটিক অ্যাবনরমালিটি (genetic abnormalities) সম্বন্ধেও তথ্য গবেষণায় তুলে ধরেন তাঁরা।

সমীক্ষা অনুযায়ী, একাধিক জেনেটিক অ্যাবনরমালিটি (Genetic Abnormalities) -এর জন্য Endothelial বা রক্তনালীর ভিতরের পর্দায় সমস্যা তৈরি হয় এবং তা অ্যানিউরিজমস (Aneurysms)-এর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে, ঠিক কী কারণে অ্যানিউরিজমস (Aneurysms)-এর সমস্যা হয় তা এখনও জানা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত বলে থাকেন, উচ্চ রক্তচাপ High Blood Pressure), ট্রমা (Trauma) বা এই ধরনের সমস্যা থেকে ব্রেন অ্যানিউরিসমস (Brain Aneurysm) হতে পারে।

কী করে বোঝা যাবে ব্রেন অ্যানিউরিসমস (Brain Aneurysm)-এর সমস্যা?

রক্তনালীতে যদি ছোট ছোট অ্যানিউরিজমস থাকে বা খুব ছোট আকারে রক্তনালী ফুলে যায়, তা হলে সে ভাবে কোনও উপসর্গ থাকে না। তবে, যদি অ্যানিউরিজমস বড় আকারের হয়, তা হলে তার উপসর্গ থাকে।

১. ফেশিয়াল পেইন (Facial Pain) বা মুখমণ্ডলে ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে চোখের উপরের ও নিচের অংশে।

২. শরীর ক্লান্ত লাগতে পারে।

৩. চোখে ডবল ডবল জিনিস দেখা।

৪. মুখের এক দিকে প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়া।

যদি অ্যানিউরিজমস রক্তের চাপে ফেটে যায়, তা হলে -

১. বমি বা বমি-বমি ভাব বতে পারে।

২. বার বার মাথা যন্ত্রণা হতে পারে।

৩. ঘাড় নাড়াতে সমস্যা হতে পারে।

৪. বেশি আলোয় থাকতে না পারার সমস্যা হতে পারে।

৫. কার্ডিয়াক অ্য়ারেস্ট হতে পারে।

৬. খিঁচুনি অনুভব হতে পারে।

৭. অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কেন হয় অ্যানিউরিজমস (Aneurysms)?

অ্যানিউরিজমস (Aneurysms)-এর সঠিক কারণ এখনও অজানা। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শারীরিক বেশ কয়েকটি কারণে ও শারীরিক গঠনের উপরে নির্ভর করে এই অ্যানিউরিজমস।

১. কেউ ধূমপান (Smoking) করলে তাঁর অ্যানিউরিজমস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

২. উচ্চ রক্তচাপের রোগী হলে সম্ভাবনা থাকে।

৩. ৪০-এর উপরে বয়স হয়ে গেলেও অ্যানিউরিজমসের সম্ভাবনা থাকে।

৪. মহিলাদের অ্যানিউরিজমস হওয়ার আশঙ্কা বেশি।

৫. কারও যদি পরিবারে অ্যানিউরিজমস আগে হয়ে থাকে, তা হলে তাঁর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

৬. মাথা যন্ত্রণার সমস্যা থাকলেও এই রোগ হতে পারে।

৭. পাশাপাশি কেউ যদি অ্যালকোহলিক হন, তা হলেও তাঁর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

ব্রেন অ্যানিউরিজমস (Brain Aneurysm) নির্ণয় করার কিছু পদ্ধতি থাকে। শুধু উপসর্গ দেখলেই হয় না।

১. এটি বোঝা যায় সেরিব্রাল অ্যানজিওগ্রাম (Cerebral Angiography) করলে।

২. ধরা পড়ে CT Scan করলে।

৩. ব্রেন অ্যানিউরিজমস ধরা পড়ে MRI-তে।

৪. তা ছাড়াও এই রোগ নির্ণয় করা যায় সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড অ্যানালিসিস (Cerebrospinal Fluid Analysis) টেস্টের মাধ্যমে।

ব্রেন অ্যানিউরিজমস (Brain Aneurysm)-এর চিকিৎসা:

এর সঠিক কারণ জানা না থাকলেও চিকিৎসা সম্ভব। ছোটো অ্যানিউরিজমস হলে সাধারণত তার উপরে নজর দেওয়া হয়। সেটি যাতে ফেটে না যায়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা হয়। এবং চিকিৎসকরা ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শও দেন।

আর যদি বড় অ্যানিউরিজমস হয়, তা হলে সার্জারি করতে হয় অনেক সময়ে। সে ক্ষেত্রে দু'রকম চিকিৎসা পদ্ধতিতে সার্জারি করা হয়ে থাকে।

১. মাইক্রোভাসকুলার ক্লিপিং (Microvascular Clipping)- অ্যানিউরিজমসে যেহেতু রক্তের গতি বেড়ে যায় এবং তা গিয়ে শিরার দেওয়ালে বা গায়ে ধাক্কা দেয়, তাই রক্তের ফ্লো বা গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়। যার জন্য শিরার মাঝে মাঝে ক্লিপ বসিয়ে দেওয়া হয়।

২. এন্ডোভাসকুলার কয়লিং (Endovascular Coiling)- এই পদ্ধতিতে রক্তের চাপ বা গতি নিয়ন্ত্রণে কয়েল বসিয়ে দেওয়া হয়।

এ ছাড়াও Anticonvulsants ও Calcium Channel Blockers-এর মতো কিছু ওষুধও দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। যাতে অপারেশন না করেও রোগীকে সুস্থ করে তোলা যায়

Published by: Ananya Chakraborty
First published: December 9, 2020, 8:59 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर