Home /News /life-style /

শহরে কড়া নেড়েছে বসন্ত, সরস্বতী পুজোর সঙ্গে মিশে গিয়েছে বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে!

শহরে কড়া নেড়েছে বসন্ত, সরস্বতী পুজোর সঙ্গে মিশে গিয়েছে বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে!

Photo-Representative

Photo-Representative

  • Share this:

#কলকাতা: প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাগবাজার গঙ্গার ঘাট। ময়দান থেকে মোহর কুঞ্জ, ইকো পার্ক। শহর কলকাতার পাশাপাশি জেলাগুলিরও একই ছবি। চারদিকে হলুদ পাঞ্জাবি আর বাসন্তী-রঙা শাড়িগুলোর ভাব জমে উঠেছে। কোথাও হাত ধরে রাস্তা পার হচ্ছে। কোথাও পার্কের বেঞ্চে খুব কাছাকাছি বসেছে। কোথাও বা একটা সেলফি নিয়ে বিস্তর বিবাদ। বসন্ত পঞ্চমী। সরস্বতী পুজোর এই দিনটা বাঙালির অঘোষিত ভ্যালেন্টাইনস ডে। এ নিয়ে বিবাদও রয়েছে। তবে এই দিনটাই তো খুব কাছের। এই দিনটায় রোজকার বন্ধুটিকে শাড়িতে প্রথমবার আলাদা লাগার অনুভূতি রয়েছে। এই দিনটায় জড়িয়ে রয়েছে প্রথম চুমু কিংবা কাছের মানুষের হাত ধরার সেই মুহূর্তগুলি। লেগে আছে অনেক মনকেমনও!

সরস্বতী পুজো আবার বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে! এ নিয়ে একটা চাপা দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। অনেকের কাছে এটি একটি নির্মল আনন্দের দিন। হঠাৎ করে পাশ্চাত্য ট্রেন্ড ঢুকে গিয়ে সব গুলিয়ে দিয়েছে। একটু বয়স্করা এই দিনটিকে সেই কুল খাওয়া বা হাতেখড়ির এক আলাদা অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন। একাংশের কথায়, সরস্বতী বিদ্যার দেবী, প্রেমের দেবী নন। দিনটা সংযমের। আরাধনার। চারদিকে যেন একটু বাড়াবাড়ি হয়! তাছাড়া কোনও বিশেষ দিনকে ভালোবাসার দিন হিসেবে চিহ্নিত করা মুশকিল। এর সঙ্গে পার্কে, রাস্তায় কিংবা চারদিকের এই হুজুগকে মিলিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এই অংশের মানুষের কাছে, পুজো মানে ভোর ভোর স্নান করে হলুদ পাঞ্জাবি বা শাড়িতে অঞ্জলি দেওয়ার ধুম। রোজকার স্কুল-পোশাক ছেড়ে চেনা স্কুলেই একটু অন্য মেজাজে ঢোকা কিংবা ঠাকুর দেখার নামে অন্য স্কুলগুলো থেকে ঘুরে আসা। এক কথায়, বইপত্র মায়ের পায়ে সঁপে দিয়ে দিন-দু'য়েক মহানন্দে কেটে যায়!

তবে শহরের অন্য প্রান্ত বলছে অন্য কথা। তাদের মতে, এটাই তো আমাদের ভালোবাসার দিন। তাই কিছু বুকে ঝড় ওঠা উনিশ, পোড় খাওয়া পঁচিশ আজ সবাই এক। কেউ বলছে এত ভালো পুজো, বসন্তের শুরু, প্রেমের জন্য আর কী চাই? অনেকের কথায়, প্রেম এসেছিল এই সরস্বতী পুজোতেই। তাই এটাই ভ্যালেন্টাইনস ডে। এই দিনটাতেই সারা বছরের বিরক্তিকর বান্ধবীটাকে প্রথমবার বাসন্তী রঙা শাড়িতে দেখার সৌভাগ্য হয়। ঘ্যান-ঘ্যান করা মেয়েটির মধ্যে প্রথমবার একজন নারী খুঁজে পাওয়ার অনুভূতি হয়। বসন্তের শুরুতেও সে যেন বুকের ভিতর উত্তুরে হাওয়ার কাঁপুনি। তাই এটিই অঘোষিত প্রেমদিবস। এখন করোনা কিছুটা হলেও কমেছে। প্রয়োজনে মাস্ক থাকবে। তা বলে শহর থেমে থাকবে না। প্রেমে থাকবে। এই দিনটা মিস হয়ে গেলে অঞ্জলির ফাঁকে টুক করে ফুল ছুঁড়ে দেওয়ার চান্সটাও মিস হয়ে যাবে। তাই সব তরজা পেরিয়ে সরস্বতী পুজোর বসন্ত প্রেমই বিশেষ। তা সে ভ্যালেন্টাইনস হোক বা অন্য কিছু।

তাছাড়া সব মিলিয়ে প্রেম যদি একটু বাড়াবাড়ি করে, তাতে ক্ষতি কী? প্রেমের জন্য থাক না একটা দিন বরাদ্দ! চারদিকে জাত, ধর্ম, বর্ণের রাজনীতি। আন্দোলন, বিক্ষোভ, না-পাওয়ার মিছিলে ভরেছে রাজপথ। তার মাঝে ফুটপাথ ধরে হাঁটুক না প্রেম, লেকের ধারে হাতে হাত রেখে একটা সূর্যাস্ত দেখুক! শাড়ির আঁচল আর হলুদ পাঞ্জাবিদের ভাব জমে উঠুক। ভ্যালেন্টাইনস ডে হোক বা সরস্বতী পুজো কিংবা অন্য কোনও অজুহাত, এভাবেই তিলে তিলে বেড়ে উঠুক প্রেম। পাশাপাশি থাকার বিশ্বাসে আরও সুন্দর হয়ে উঠুক চারপাশটা!

Published by:Debalina Datta
First published:

Tags: Saraswati Puja

পরবর্তী খবর