কোডিং নয়, সন্তানের বুদ্ধি বাড়াতে চাইলে ছোট থেকেই ভর্তি করুন মিউজিক স্কুলে; বলছে সমীক্ষা!

কোডিং নয়, সন্তানের বুদ্ধি বাড়াতে চাইলে ছোট থেকেই ভর্তি করুন মিউজিক স্কুলে; বলছে সমীক্ষা!

যদি সন্তানকে চৌখস করে তুলতেই হয়, তার বুদ্ধি ধারালো করতে হয়, তাহলে তাকে একেবারে ছোট বয়সেই ভর্তি করে দেওয়া উচিত কোনও মিউজিক স্কুলে।

যদি সন্তানকে চৌখস করে তুলতেই হয়, তার বুদ্ধি ধারালো করতে হয়, তাহলে তাকে একেবারে ছোট বয়সেই ভর্তি করে দেওয়া উচিত কোনও মিউজিক স্কুলে।

  • Share this:

#লন্ডন: যুগ এখন ক্লিকের আর কপি-পেস্টের! এই দুই যান্ত্রিক পদ্ধতির সাহায্যেই সেরে ফেলা যায় জটিল সব কাজ। তবে এই কাজে যন্ত্র কেবল মাত্র পরিশ্রম কমিয়ে দেয়, আদতে কিন্তু কাজে আসে আমাদের বুদ্ধি! তাই ক্লিক, কপি, পেস্ট সবাই করলেও বুদ্ধি খাটিয়ে যে যত ভালো ভাবে কাজ করতে পারে, সে থাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে। এই ব্যাপারে আজকাল অনেকেই সন্তানদের একেবারে অল্প বয়স থেকেই কোডিং শেখাতে চান, ভর্তি করিয়ে দেন কোডিং শেখানোর নানা প্রতিষ্ঠানে। কমপিউটার যখন আজকের পৃথিবীতে অতি মাত্রায় আবশ্যক, তখন কোডিং শেখানোর সিদ্ধান্ত ভুল কিছু নয়। এই প্রথাগত শিক্ষার সুবাদে সারা পৃথিবীতেই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, উপার্জনের অঙ্কটাও মন্দ হয় না।

কিন্তু এই জায়গায় এসে একটা ব্যাপার সামান্য হলেও মাথায় রাখা উচিত। বাচ্চাদের যে কোডিং শেখানো হয়, তা কিন্তু পেশাগত ক্ষেত্রের কোডিং নয়। তাহলে কোডিং শেখানো কেন? এর একটা কারণ যদি হয় বিষয়টার সঙ্গে একেবারে অল্প বয়স থেকেই পরিচয় করিয়ে দেওয়া, তবে দুই নম্বরটা হল বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ। কোডিং যেহেতু গণিতনির্ভর বিদ্যা, তাই ছোট থেকে শিখলে মস্তিষ্ক তুখোড় হবে এমনটাই ভেবে নেওয়া হয়। কিন্তু ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) সম্প্রতি যে গবেষণার ফলাফল সামে নিয়ে এসেছে, তা সন্তানদের অল্প বয়স থেকে কোডিং শেখানো নিয়ে একটা খটকার জায়গা তৈরি করে দেবে। এই গবেষণা বলছে যে কোডিং গণিতনির্ভর হলেও আদতে তা গণিত নয়, ফলে এক্ষেত্রে শিশুরা শুধু কোডিংটাই শেখে, গণিতের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ হওয়ার সুযোগ এখানে নেই। বরং, এই শিক্ষা তাদের যান্ত্রিক করে তুলতে পারে। তাই যদি সন্তানকে চৌখস করে তুলতেই হয়, তার বুদ্ধি ধারালো করতে হয়, তাহলে তাকে একেবারে ছোট বয়সেই ভর্তি করে দেওয়া উচিত কোনও মিউজিক স্কুলে।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে জুরিখ ইউনিভার্সিটিতে MIT দ্বারা এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে, এখানে যাঁরা মিউজিক শিখেছেন এবং যাঁরা শেখেননি এমন দুই দলের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে দেখা হয়েছিল। তার পর সমীক্ষা বলছে যে যাঁরা মিউজিক শিখেছেন, তাঁদের মস্তিষ্ক অনেক বেশি সুসংবদ্ধ ভাবে চিন্তাভাবনা করে। মস্তিষ্কের যে অংশ শব্দ শব্দ শুনে সাড়া দেয় এবং কথা বলায় সাহায্য করে, সেই অংশ বিশেষ করে উদ্দীপিত হয় মিউজিক শিখলে। কেন না, কোনও কিছু বাজানোর জন্য এক দিকে যেমন একাগ্রতা প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন নিয়মানুবর্তিতা। এই দুইয়ের মিশেলে নির্দিষ্ট ছন্দ অনুসরণ করলে তবেই কোনও কিছু বাজানো যায়। ফলে কোনও বাদ্যযন্ত্র বাজানোর শিক্ষা মস্তিষ্কের কার্যনির্বাহী বিষয়গুলোকে সামগ্রিক ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

তাই যাঁরা ছোট থেকেই মিউজিক শেখেন, তাঁরা সংবেদনশীলতা এবং বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে এগিয়ে থাকেন অন্যদের চেয়ে। পরে বাজানো ছেড়ে দিলেও মস্তিষ্ক একই রকম সক্রিয় থাকে, সেক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তি কমে যায় না বলেই দাবি করছে গবেষণা!

First published: