নিত্য অশান্তি লেগেই আছে সংসারে? বিছানা আলাদা করলেই পাবেন সুফল, বলছে সমীক্ষা!

নিত্য অশান্তি লেগেই আছে সংসারে? বিছানা আলাদা করলেই পাবেন সুফল, বলছে সমীক্ষা!
সংসারে শান্তি বজায় রাখতে হল বিছানা আলাদা করুন!

সংসারে শান্তি বজায় রাখতে হল বিছানা আলাদা করুন!

  • Share this:

#কলকাতা: নেই কাজ তো খই ভাজ! এই প্রবাদবাক্য যে কতখানি যথার্থ, সেটাই কি প্রমাণ করে দিল বিদেশের এক ম্যাট্রেস কোম্পানি? এই যে স্বামী-স্ত্রীতে একটু-আধটু ঝগড়াঝাঁটি হয়, তখন গিন্নি হাঁড়িপানা মুখ করে অন্য ঘরে অন্য বিছানায় শোন, তাতে আর কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়! সমস্যা হল যে এই কোম্পানি বলছে আলাদা আলাদা বিছানায় শুলে না কি প্রেম একেবারে উথালি-পাথালি হয়ে যায়! তাই সংসারে শান্তি বজায় রাখতে হল বিছানা আলাদা করুন!

তা এই কোম্পানি না কি বিছানায়-চাদরে প্রমাণ করে দেখিয়েছেও এই কথা! দাবি তুলেছে যে ছয় জন দম্পতি তাঁদের সুপরামর্শে পরস্পরের থেকে আলাদা ঘুমিয়েছেন যাতে তাঁদের ঘুমে কোনও ব্যাঘাত না হয়। আর তাতেই মিলেছে সব সমস্যার সমাধান! কুম্ভকর্ণের মাসি আর মেসোর মতো সারা রাত অঘোরে ঘুমিয়েছেন সবাই, ভোরে প্রফুল্ল মনে আর পরস্পরকে নিয়ে অভিযোগ করার কথা মাথাতেও আসেনি!

বলিহারি যাই গবেষকের দলের! এঁরা যে কী নিয়ে গবেষণা করেন আর কেনই বা করেন, এই প্রশ্নের উত্তর তাঁরা ছাড়া আর কেউ দিতে পারেন না। এই যেমন ডক্টর নীল স্ট্যানলি! উনি না কি ঘুম নিয়ে ৩৫ বছর নিজে না ঘুমিয়ে গবেষণা করেছেন। ভাবা যায়! তার পর উনি চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে সবাইকে বলেছেন, আলাদা ঘুমাও, আলাদা ঘুমাও, আলাদা বিছানায়!


এখানেই শেষ নয়! ২০০৫ সালের ডেলি মেলের একটি প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী এ হেন ডক্টর স্ট্যানলি একখানা গুপীযন্ত্রের মতো দেখতে জিনিস লাগিয়ে দিয়েছিলেন দম্পতিদের বিছানার সঙ্গে। সে যন্ত্র না কি মাপতে পারে আপনি কখন ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করলেন বা ঘুম থেকে উঠলেন বা বাঁ দিক থেকে ডান দিকে কাত হয়ে শুলেন ইত্যাদি ইত্যাদি। সে সব মেপেজুপে দেখে না কি রিপোর্ট দিয়েছে যন্ত্র যে দু'জন একসঙ্গে ঘুমোনোর সময়ে একজন উঠে পড়লে বা নড়াচড়া করলে আরেকজনও তাই করে। তা বাপু, এটা জানার জন্য যন্তরের কী দরকার বলুন তো? কেউ যদি পাশে শুয়ে দামামা বাজিয়ে নাক ডাকে বা বেমক্কা হুড়মুড় করে উঠে পড়ে, তা হলে কে শান্তিতে ঘুমোতে পারে বলুন দেখি?

তবে কী, বিদেশে অমন উদ্ভট গবেষণা অনেক হয়। এই যেমন আপনার নাক কেন সুড়সুড় করে, পেট কেন কামড়ায়, পিলে কেন চমকায় ইত্যাদি! সে সব নিয়ে যত কম কথা বলা যায়, ততই ভাল।

যাই হোক, আবার ঘুমের প্রসঙ্গে আসা যাক। গুপীযন্ত্রের রিপোর্ট দেখে স্ট্যানলি সাহেব বলেছেন যে আপনার ঘুমের এক তৃতীয়াংশ বরবাদ হয়ে যায় আপনার সঙ্গীর জন্য। মানে আপনার পাশে যে ঘুমোচ্ছে তাঁর জন্য। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য হল, ঠিকঠাক ঘুম না হলে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে সম্পর্কে। মেজাজ তো খিটখিটে হয়েই থাকে! পরে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যাও দেখা যেতে পারে। ঘুম হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। তাই সমাজ যা বলে অর্থাৎ একসঙ্গে ঘুমোতে হবে সেটা না শুনে আলাদা শোয়ার বন্দোবস্ত করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কী ভাবছেন- এতেই শেষ? বাবা রে বাবা! একে গবেষণায় রক্ষা নেই, এই নিয়ে আবার গোটা একখান বইও প্রকাশিত হয়েছে। সেই বইতে নাকি লেখা আছে যে এই দুনিয়ায় সক্কলে একা একা ঘুমোতে ভালোবাসেন। আর যাঁরা মস্ত বড়লোক, এই মানে যারা জন্মদিনে বউকে দ্বীপ উপহার দেন, তাঁদের না কি সব্বার আলাদা আলাদা শোওয়ার ঘর থাকে! হরি, দীনবন্ধু, রক্ষে করো ঠাকুর! গরিব দেশে মানুষের বাড়িতে এত ঘর কই? তা হলে কী হবে?

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published:

লেটেস্ট খবর