মাথার অস্ত্রোপচারের জন্য লেমোলেড বেচে নিজেই অর্থ সংগ্রহ করছে ৭ বছরের খুদে!

মাথার অস্ত্রোপচারের জন্য লেমোলেড বেচে নিজেই অর্থ সংগ্রহ করছে ৭ বছরের খুদে!

মাথার অস্ত্রোপচারের জন্য লেমোলেড বেচে নিজেই অর্থ সংগ্রহ করছে ৭ বছরের খুদে!

অবিলম্বে অস্ত্রোপচার না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। ইতিমধ্যেই তার লক্ষণ দেখাও দিয়েছে।

  • Share this:

#বার্মিংহাম: প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল এক মাস আগে। খেলনা ও জুতোর কেনার আশায় মায়ের বেকারির বাইরে লেমোনেড স্ট্যান্ড তৈরি করেছিল সাত বছরের লিজা (Liza)। সে সখ পূরণ হয়েছে কবে! তবু বিরতি ঘোষণা করেনি ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের শিশুকন্যা। এবার জীবনের ডাকে ও দায়িত্ববোধে লেমোনেড স্ট্যান্ডে অর্থ সংগ্রহে জুটে রয়েছে লিজা।

দরকারটা আপৎকালীন। কারণ ডাক্তারি পরীক্ষায় ছোট্ট লিজার মস্তিষ্কে বেশ কয়েকটি সিজারস ধরা পড়েছে। তা থেকে আগামী দিনে ওই শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং স্বভাবে আমূল পরিবর্তন সাধিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অবিলম্বে অস্ত্রোপচার না করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। ইতিমধ্যেই তার লক্ষণ দেখাও দিয়েছে। একদিন সকালে সিজারে আক্রান্ত হয় লিজা। প্রায় ৪৫ মিনিট তার প্রভাব অব্যাহত থাকে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে অবস্থার আরও অবনতি হবে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই সাত বছরের শিশু নিজের কাছের মানুষদেরই চিনতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। কিন্তু চিকিৎসার প্রক্রিয়া যথেষ্ট ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। ফলে হুট করে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়া লিজার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।

লিজার মা এলিজাবেথ স্কট (Elizabeth Scott) নিজের মেয়েকে বাবার অভাব অনুভব করতে দেননি। বার্মিংহামে এক বেকারি চালিয়ে মোটামুটি ভালো ভাবেই তাঁদের সংসার চলে যায়। ছেলেকে প্রি-স্কুলে রেখেও লিজার পড়াশোনার খরচ চলাতে সক্ষম এলিজাবেথ। তবে আচমকাই লিজার জীবনে অন্ধকার নেমে আসায় সেই স্বচ্ছলতা যে আপোসের মুখে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও চেষ্টা করে মেয়ের অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব বলে জানিয়েছেন এলিজাবেথ। তা সত্ত্বেও শুধু মায়ের ঘাড়ে এত বড় দায়িত্ব ছাড়তে রাজি নয় লিজা।

জীবনের টানে এবং দায়িত্বভারে আবারও মায়ের দোকানের বাইরে ফের লেমোনেড স্ট্যান্ড নিয়ে হাজির হয়েছে লিজা। নিজের মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করাই তার উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে শিশুকন্যা। পথচলতি মানুষ এবং মায়ের বেকারির খরিদ্দারদের কাছে ৫, ১০, ২০, ৫০ এবং ১০০ ডলারের কুপন কাটছে লিজা। খুব অল্প দিনেই ১২ হাজার ডলার জমিয়ে ফেলেছে লিজা। বন্ধু-আত্মীদের কাছ থেকে ৩ লক্ষ ডলার অনুদান পাওয়া গিয়েছে। যতটা না লেমোনেড কেনার ঝোঁক, তার চেয়েও বেশি অনুদান দিয়েছেন মানুষ। এভাবে সাড়া পাওয়া যাবে, তা ভাবতে পারেননি খোদ লিজার মা এলিজাবেথ। আগামী দিনে অনুদানের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে সাত বছরের কন্যার আশা। সে বিশ্বাস করে যে এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনো সম্ভব। সুস্থ হয়ে সে ফের স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে বলেও আশা লিজার।

আমেরিকার বস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে লিজার। আপাতত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সাত বছরের শিশুকে ওষুধ দিচ্ছেন ডাক্তাররা। আগামী ৩০ তারিখ ওই হাসপাতালে লিজার পরবর্তী চেক-আপ। সেখানেই শিশুকন্যার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের দিন ঠিক হবে বলে জানানো হয়েছে।

First published:

লেটেস্ট খবর