Football World Cup 2018

নোটবন্দির বস্তায় হারিয়ে গেল ‘নভেম্বর বিপ্লব’, কেমন আছেন কমরেডরা?

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 09, 2017 05:15 PM IST
নোটবন্দির বস্তায় হারিয়ে গেল ‘নভেম্বর বিপ্লব’, কেমন আছেন কমরেডরা?
November Revolution and DeMo
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Nov 09, 2017 05:15 PM IST

#কলকাতা: বিপ্লবের মাস নভেম্বর ৷ নোটবন্দির মাস নভেম্বর ৷ এক বছর বয়সী ব্রহ্মাস্ত্রের দাপটে শতবর্ষে পা দেওয়া বিপ্লবের রোমান্টিকতা আজ ফিকে ৷ নোট বাতিলের লাভ-ক্ষতির হিসেবের দড়ি টানাটানিতে হারিয়েই গিয়েছে বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার গৌরবময় জন্ম উপাখ্যান ৷

সালটা ১৯১৭ ৷ রাশিয়ায় তখন জারের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়েছে ৷ দেশের শাসনব্যবস্থাকে ঘিরে অদ্ভূত এক দ্বন্দ্ব ৷ রাশিয়ার বিত্তশালী শ্রেণীর রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের প্রবল ইচ্ছার সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বিধ্বস্ত শ্রমজীবী ও কৃষকদের আকাঙ্খার সংঘাত ৷ মার্কসের ভাষায় দেশের সর্বহারারা তখন চাইছেন যুদ্ধ শেষে শিল্প ও কৃষিক্ষেত্রে ফিরুক মনযোগ ৷ হোক গণতান্ত্রিকরণ ৷

১০০ বছর আগে এই নভেম্বরেই গোটা পৃথিবীকে চমকে দিয়ে ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক বিপ্লব ৷ তারই গর্ভে জন্ম নেয় বিশ্বের প্রথম সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ৷ লেনিনের নেতৃত্বে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে বলশেভিক পার্টি ৷ এই পথেই ১৯২২ সালে জন্ম নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন ৷ বিশ্বের বড় বড় পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের বদলে সামাজিক ও শাসনব্যবস্থার বিপ্লব ঘটে তথাকথিত পিছিয়ে পড়া একটি দেশে ৷ সেই নভেম্বর বিপ্লবই পথ দেখায় বিশ্বব্যাপী বামপন্থীদের ৷

তারপর ইতিহাসের পাতা বেয়ে গড়িয়েছে অনেক জল ৷ কালের ক্রমে বামপন্থীদের মধ্যে আসে বিভাজন ৷ একদল গণতান্ত্রিকরণের পক্ষপাতী, তো অপর দলের বিশ্বাস রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনেই আসবে সাধারণ মানুষের কাম্য সমাজ ব্যবস্থা ৷ বিভাজন সত্ত্বেও এই দু’পক্ষের জন্যই পথপ্রদর্শক ছিল বলশেভিক বিপ্লব ৷ মার্কস, তারপর লেনিন ও স্তালিনের আদর্শকে অনুসরণ করেই সাফল্য পেয়েছে কমরেডরা ৷ পূর্ব ইউরোপে ভাঙন ও সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের পরও ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল কমিউনিষ্ট পার্টিগুলির ৷ শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয় জাতীয় রাজনীতিতেও ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে ওঠে বামফ্রণ্ট ৷

ইউপিএ সরকারের শরিক হয়েও ২০০৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কেন্দ্রের পরমাণু চুক্তি সাক্ষরের বিরোধিতা করে সমর্থন সরিয়ে নেয় বামফ্রণ্ট ৷ রাজনীতিবিদদের মতে, নীতিগত অবস্থান ঠিক রাখতে গিয়েই বামেদের এই চরম ভুল পদক্ষেপ ৷ ভারতে কমরেডদের পতনের সেই শুরু ৷ এরপর জাতীয় রাজনীতির পর আঞ্চলিক রাজনীতিতেও প্রাসঙ্গিকতা হারাতে থাকে বামফ্রণ্ট ৷ ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৷ রঙ বদলায় কেন্দ্রীয় সরকারও ৷

সর্বসাধারণের উন্নয়নের লক্ষ্যে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সেই বলশেভিক বিপ্লবের ৯৯ বছর পরের এক সন্ধেয় আবারও ঘটে এক আশ্চর্যজনক ঘটনা ৷ তৃতীয় বিশ্বের অন্যতম প্রগতিশীল দেশে মাত্র ৩৫ মিনিটে ঘটে যায় এক নিঃশব্দ বিস্ফোরণ ৷ কালো টাকা ও সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে সরকারের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, নেতৃত্বে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি ৷

প্রতিদিনের রুটিনটা হঠাৎই বদলে যায়। সাতসকালে বাজারের বদলে ব্যাঙ্কের লাইনে দাঁড়াল গোটা দেশ। ৮ নভেম্বর ২০১৬ রাত ৮ টায় প্রধানমন্ত্রীর ৩৫ মিনিটের ভাষণ বদলে দিল দেশবাসীর প্রাত্যহিক জীবন। রাতারাতি কাগজে পরিণত হয় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। অর্থনৈতিক কাঠামোর সম্পূর্ণ সংস্কারের লক্ষ্যে মোদি সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে তোলপাড় গোটা দেশ । এটিএম, ব্যাঙ্কে টাকা তোলা, লেনদেনে চাপল একাধিক নিষেধাজ্ঞা। প্রতিশ্রুতি, মাত্র ৫০ দিনের মধ্যে কালো টাকা মুক্ত হবে অর্থনীতি। লোকসভায় বিরাট জয়ের পর মাত্র গুটি কয়েক ব্যক্তির সম্মতিতে ও সিদ্ধান্তে এটাই ছিল মোদি সরকারের প্রথম বড় পদক্ষেপ। গণতন্ত্রের বদলে খানিক একনায়কতান্ত্রিক ৷ নোটবাতিলের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই আবর্তিত গত এক বছরের জাতীয় রাজনীতি ৷

আবারও হাজির বিপ্লবের মাস নভেম্বর ৷ কমরেডরা এমন দিনের মাহাত্ন্য না ভুললেও মোদির নোটবাতিলের গুঁতোয় লাইম লাইট হারিয়েছে নভেম্বর বিপ্লব ৷ নভেম্বর মানেই এখন মোদির নোট বন্দি ৷

এক বছর আগের নোট বাতিলের ধামাকায় পিছু হটেছে নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষ ৷ সংবাদপত্রে হোক বা সোশ্যাল মিডিয়া, দাপট শুধু নোট বন্দির ৷ তারই মাঝে রাজ্যে ভোটের খাতায় বামেদের সঞ্চিত সমর্থনের মতোই টিমটিম করে জ্বলছে ঐতিহাসিক বলশেভিক বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ৷ কিন্তু কোথায় গেলেন কমরেডরা?

প্রধানমন্ত্রীর নোট বাতিল সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে সবার আগে প্রতিবাদ জানান তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বামেদের সরকার থেকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসার মূল কান্ডারী তিনিই ৷ গত এক বছর ধরে সোচ্চারে তিনি কেন্দ্রের নোট বন্দির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও কমরেডদের তরফে তেমন তীব্র প্রতিবাদ চোখে পড়েনি ৷ ৭ নভেম্বরের লাল পতাকার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসীদের মতো ৮ নভেম্বরের জন্য কালো পতাকা কাঁধে তুলে হাঁটতে দেখা যায়নি বামপন্থার বর্তমান সূত্রধরদের ৷ কিন্তু অসুবিধাটা কোথায়?

তাহলে কি বাস্তবের জমিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় রাজনীতির অভিমুখ বুঝতে বার বার ভুল করছেন কমরেডরা? সমাজতন্ত্রের জটিল প্রেক্ষিতে ভারতীয় রাজনীতির হালহকিকত কি ভুলতে বসেছেন তারা? কী চান সাধারণ মানুষ, কী তাদের দাবী-দাওয়া, এইগুলি কিছু কঠিন শব্দের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে না তো কমরেড?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে আপনাদেরই ৷ নইলে ভারতীয় আমজনতার দাবী চুরি হয়ে যাবে অন্য শিবিরে ৷ এতদিনের বিপ্লবের স্লোগান ক্ষমতা হারাতেই পানসে হয়ে গেল কেন? একটু ভেবে দেখবেন কমরেড ৷ না হলে সাধারণের দাবী তুলে ধরতে না পারলে ক্রমশ কালের গভীরে ডাইনোসরের মতো হারিয়ে যাওয়াই হয়ে উঠবে আপনাদের ভবিতব্য ৷ একটু ভেবে দেখবেন কমরেড ৷

First published: 08:37:57 PM Nov 08, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर