উপাচার্যের ইস্তফার জের, বুধবার থেকে অচল হওয়ার আশঙ্কা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়

উপাচার্যের ইস্তফার জের, বুধবার থেকে অচল হওয়ার আশঙ্কা রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়

বুধবার দুপুর ১২টা থেকে জরুরি বৈঠকে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।

  • Share this:

#কলকাতা: বুধবার থেকে কার্যত অচল হতে চলেছে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার রাতে উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী ইস্তফাপত্র পাঠানোর পর পরই এমনই সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠছে। জরুরী ভিত্তিতে বুধবারই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বৈঠক ডেকেছে। ওই বৈঠকে উপাচার্যের ইস্তফা দেওয়ার প্রসঙ্গের পাশাপাশি একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে শিক্ষক সমিতি বলেই জানা গেছে। সূত্রের খবর ওই বৈঠকে অধ্যাপকরা কর্মবিরতি শুরু করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত দাস জানিয়েছেন, "বুধবার দুপুর ১২টা থেকে আমরা বৈঠক দেখেছি। তারপরই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেব।" ইস্তফা দেওয়ার প্রসঙ্গে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা ও শিক্ষক সমিতি উপাচার্যের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যদিও শুক্রবার রাতে ইস্তফা পত্র পাঠানোর পর পর শাসক দলের ছাত্র সংগঠন ও কর্মচারী সংগঠনের ওপর বসন্ত উৎসবের দূষণ নিয়ে অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পড়ুয়াদের একাংশ। বসন্ত উৎসবের দিন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সোশ্যাল মিডিয়ায়় কিছু ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। মেয়েদের খোলা পিঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানকে বিকৃত করে লেখা ও অশ্লীল শব্দ লেখা নিয়ে তুমুল হৈচৈ পড়ে যায় সোশ্যাল সাইটগুলোতে। শুক্রবার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় অভিযুক্ত পড়ুয়ারা এলেও তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় মুচলেকা নিয়েই। ঘটনায়় অভিযুক্ত পড়ুয়াদের কেন পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হল না তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ছাত্রদের একাংশ।শাসক দলের ছাত্র সংগঠন ও কর্মচারী সংগঠনের চাপেই কি অভিযুক্ত পড়ুয়াদের ছেড়ে দেওয়া হল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর বসন্ত উৎসব নিয়ে বহিরাগতদের প্রবেশকে কেন্দ্র করে শাসকদলের কর্মচারী ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে মতানৈক্য হয় উপাচার্যের। মূলত বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপাচার্য আগ্রহী হলেও শাসকদলের কর্মচারী ও ছাত্র সংগঠনের বিরোধিতায় তা করা সম্ভব হয়নি উপাচার্যের পক্ষে। শুধু তাই নয় একাধিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি উপাচার্যের সঙ্গে মতানৈক্য হচ্ছিল শাসকদলের কর্মচারী সংগঠনের এক নেতার সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধাারণ সম্পাদক দেবব্রত দাস জানান "উপাচার্য ইস্তফা দিলেও আমরা তার পাশেই রয়েছি বিশ্ববিদ্যালয় বসন্ত উৎসবে বহিরাগতদের প্রবেশ আটকানোর জন্য আমরা অনেকদিন ধরে দাবি করে আসছি। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। বুধবারের বৈঠকে আমরা সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। তারপরই আমাদের কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।" বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্দোলনে যেতে পারেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা। সে ক্ষেত্রে দোলের ছুটির পর খুললেই বিশ্ববিদ্যালয়় অচল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

First published: March 7, 2020, 9:30 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर