প্রাইমারি শিক্ষক পদে শুধু প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিতরাই নয়, চাকরি পাচ্ছেন এরাও!

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 19, 2017 01:31 PM IST
প্রাইমারি শিক্ষক পদে শুধু প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিতরাই নয়, চাকরি পাচ্ছেন এরাও!
Picture For Representation
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 19, 2017 01:31 PM IST

#কলকাতা: প্রাইমারি শিক্ষক পদে নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ-বিক্ষোভে জেরবার পর্ষদ ৷ কোথাও নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়ার অভিযোগ, কোথাও পার্শ্বশিক্ষকের পদে নিয়োগের বদলে পূর্ণ শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবীতে বিক্ষোভ ৷ অন্যদিকে, প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের অভিযোগ আদালতের নির্দেশ মতো প্রশিক্ষিতদের অগ্রাধিকার না দিয়ে অপ্রশিক্ষিতদের নিয়োগ করা হয়েছে ৷ এই মর্মে হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা ৷

তবে এক যোগে চাকরিপ্রার্থীদের একটাই অভিযোগ নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে ৷ এরই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি স্ক্রিন শট, যাতে দেখা যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছেন এমন ব্যক্তি যার কোনও নাম নেই ৷

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এমপ্যানেলড প্রার্থীদের তৃতীয় তালিকায় চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নাম রয়েছে ‘Y’ নামক প্রার্থীর ৷ এখানেই উঠেছে বিতর্কের ঝড় ৷ নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির জল্পনাকে হাওয়া যুগিয়েছে এই ক্রিনশট ৷ প্রশ্ন উঠেছে, যে ব্যক্তির সঠিক কোনও নাম পর্ষদে নথিভুক্ত নেই তাঁকে কিভাবে চাকরি দেওয়া হল? যেখানে যে কোনও প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতার নথিপত্রের সঙ্গে তাঁর পরিচয় পত্র মিলিয়ে দেখে যাচাই করে নিয়োগ করাই হচ্ছে প্রাথমিক নিয়ম ৷

ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে আমরা ক্রিনশটে উল্লেখিত রোল নং 070064796 ও প্রার্থীর নামের জায়গায় Y দিয়ে পর্ষদের ওয়েবসাইটে রেজাল্টের জায়গায় ক্লিক করি ৷ এরপর যা ঘটে তাতে চক্ষু চড়ক গাছ ৷ দেখা যায়, রোল নং 070064796-এর প্রার্থী Y প্রাথমিক শিক্ষকের প্যানেলভুক্ত ৷

sreen shot of primary results

এবিষয়ে পর্ষদ সভাপতি মাণিক ভট্টাচার্যের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি ৷ তবে কিছুদিন আগেই নিয়োগের মেসেজ পেয়ে কিছু প্রার্থীদের কাউন্সেলিংয়ে ডাক না পাওয়ার ঘটনায় পর্ষদ সভাপতি সাবধান করে বলেছিলেন, অনেকে ভুয়ো এসএমএস পাঠিয়ে জাল চক্র চালাচ্ছে ৷ যদিও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের রেজাল্ট পেজে একটি Disclaimer-ও রয়েছে, যে রেজাল্ট ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে ৷ তাতে কোনও ভুল থাকলে তা ক্ষমাযোগ্য ৷

প্রার্থীদের ধোঁয়াশা মেটাতে মানিক ভট্টাচার্যের বক্তব্য,  ‘অহেতুক বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে ৷’ শুধু তাই নয় তিনি বলেন, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ সমস্ত নিয়ম মেনেই চলছে ৷ অনেকে সেই সঠিক নথি জমা না দিতে পারায় পর্ষদের বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করছেন ৷ প্যানেলে নাম থাকলেই নিয়োগ হবে না ৷ প্যারা টিচারের শংসাপত্রও দিতে হবে ৷ তবেই শিক্ষক পদে নিয়োগ হবে ৷ সংসদ আগেই এব্যাপারে জানায় ৷ সেই শর্তেই ফর্মফিলাপ করেন প্রার্থীরা ৷ অনেকেই শংসাপত্র দিতে পারছেন না ৷ তাঁদেরই একটা বড় অংশ বিক্ষোভে সামিল ৷’

টেট চাকরিপ্রার্থীদের আশ্বাস দিয়ে পার্থবাবু শনিবার জানিয়েছেন, ‘ ৭২ হাজার শিক্ষক চাকরি পাবেন ৷ তাঁদের বঞ্চিত করা ঠিক নয় ৷ OMR সিটে কোনও ভুল নেই ৷ প্রাথমিকে পার্শ্বশিক্ষকদের সংরক্ষণ আছে ৷ আমরা তা নিয়ে ভাবব ৷ আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা আছে ৷ কর্মরত শিক্ষকদের পরীক্ষায় বসা আইনে নেই ৷ ’

যারা বিক্ষোভ করছেন, তাদের উদ্দেশ্য পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বিক্ষোভে পার্শ্বশিক্ষকরা ৷ সবাই যাতে নিয়োগপত্র হাতে পান সেই চেষ্টাটাই করা হচ্ছে ৷ সরকারকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই ৷ কোথাও গাফিলতি থাকলে জানান ৷ তা না করে শুধু আন্দোলন করছেন ৷ বেকাররা চাকরি চান ৷ তাঁদের বিপথে পরিচালনা করা হচ্ছে ৷ এটা একেবারেই ঠিক কাজ হচ্ছে না ৷ ’

First published: 01:20:22 PM Feb 19, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर