টানা ১৫ দিন ধরে সন্তানকে ঠিক কীভাবে খুন করা হবে তার পরিকল্পনা করেছিল মা!

টানা ১৫ দিন ধরে সন্তানকে ঠিক কীভাবে খুন করা হবে তার পরিকল্পনা করেছিল মা!
এই সেই ম্যানহোল ৷ নিজস্ব চিত্র ৷

নিজের মেয়েকে খুনের পরে মৃতদেহ কোথায় রেখে তথ্য লোপাট করা যায় তাও পরিকল্পনা করেছিল মা নিজেই। দুই মাসের মৃত শিশুকে ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ ৷

  • Share this:

Susovan Bhattacharjee

#কলকাতা: শিশু ছিনতাইয়ের তদন্তে সামনে এল খুন ৷ বেলেঘাটাকাণ্ডের নতুন মোড়ে অবাক পুলিশই ৷ জেরায় খুনের কথা স্বীকার ওই শিশুর মা সন্ধ্য়া মালুর ৷

পুলিশি জেরায় খুনের ঘটনা বিস্তারিত জানিয়েছেন সন্ধ্য়া ৷ জানিয়েছেন শিশু খুনের পরিকল্পনার কথাও ৷  সোমবার ভোর পর্যন্ত সন্ধ্য়াকে জেরা করে পুলিশ ৷ তদন্তে নেমে পুলিশের প্রথম প্রশ্ন, কেউ যদি জোরে ধাক্কা মেরে শিশু ছিনতাই করে নিয়ে যায়, তাহলে চোখের চশমা কেন ভাঙল না? সেই প্রশ্নের উত্তর সন্ধ্য়ার কাছে না থাকায় তদন্তকারীদের সন্দেহ বাড়তে থাকে ৷

পুলিশের জেরায় সন্ধ্যা মালু জানান, রবিবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে পৌনে একটার মধ্যে খুন করেন তিনি ৷  বাড়িতে কেউ না থাকার সুয়োগ কাজে লাগান তিনি ৷  মেয়ের চেঁচামেচি যাতে কোনওভাবেই সামনে না চলে আসে, সেজন্য় মুখ লিউকোপ্লাস দিয়ে বন্ধ করা হয় ৷ খুন করার পর দেহ ফেলে দেওয়া হয় ফ্ল্য়াটের মেন গেটের সামনে ম্য়ানহোলে ৷ প্রায় পনেরো দিন ধরে সন্তান খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন সন্ধ্য়া৷ কিন্তু খুনের পর দেহ কোথায় ফেলবেন, সেই নিয়ে সন্দিহান ছিলেন ৷

কয়েক দিন আগে ম্য়ানহোল পরিষ্কারের কাজ দেখে, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করেননি সন্ধ্য়া ৷  স্ত্রীয়ের কীর্তিতে অবাক সন্ধ্য়ার স্বামী সুদর্শন মালু ৷  একইভাবে তাজ্জব প্রতিবেশীরাও ৷  ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজানোর জন্য় নিজেই নিজেকে আঘাত করেন সন্ধ্য়া ৷ কিন্তু পুলিশি জেরায় সেই তত্ত্ব কাজে আসেনি ৷

তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর অনেকেরই বিভিন্ন বিষয়ে হতাশা আসে ৷ সেটা কাটিয়ে উঠতে না পেরে অনেকেই এই রাস্তা বেছে নেন ৷ সন্ধ্য়া মালুকে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদহ আদালত ৷

First published: January 27, 2020, 5:46 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर