সঙ্গে নেই পরিবারের কেউ, রোগীকে ভর্তি নিল না আরজিকর

সঙ্গে নেই পরিবারের কেউ, রোগীকে ভর্তি নিল না আরজিকর

একা থাকার দায়ে চিকিত্‍সা থেকে বঞ্চিত রোগী৷ আরজি কর হাসপাতাল ফিরিয়ে দেয় যন্ত্রণায় কাতর রোগীকে৷

  • Share this:

#কলকাতা: একা থাকার দায়ে চিকিত্‍সা থেকে বঞ্চিত রোগী৷ আরজি কর হাসপাতাল ফিরিয়ে দেয় যন্ত্রণায় কাতর রোগীকে৷

দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা,ঢোলা হাটের, বাসিন্দা সুধাময়ী পণ্ডা। তাঁর বয়স  ৫০৷ তিনদিন আগে অসহ্য পেটে যন্ত্রণা নিয়ে আরজি কর হাসপাতালে আসেন তিনি৷ জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা সুধাময়ী দেবীর অবস্থা দেখে তাঁকে ভর্তির সুপারিশ করেন।

তবে ভর্তি হতে পারেন না সুধাময়ী দেবী৷ তিনি একেবারেই একা৷ তাঁর একটাই অপরাধ৷ সুধাময়ী দেবী একা হাসপাতালে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে পরিবারের কেউ ছিল না। কারণ মা-বাবা মারা যাওয়ার পর, দাদা বৌদির সংসারে তাঁকে চূড়ান্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হতো।

বেশ কয়েকদিন ধরে সুধাময়ী দেবীর পেটে অসহ্য যন্ত্রণা এবং ডায়রিয়া হওয়ার কারণে সুধাময়ী দেবীকে একপ্রকার বাড়ি থেকে বার করে দেয় তাঁর পরিবার। বহু কষ্ট করে তিনি শিয়ালদহ স্টেশনে আসেন। সেখানে একজন সহৃদয় ব্যক্তি সুধাময়ী দেবীকে নিয়ে আসেন আরজিকর হাসপাতালে।

সোমবার দুপুরে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সুধাময়ী দেবীর অবস্থা দেখে দ্রূত তাঁকে ভর্তির জন্য লিখে দেন। তবুও ভর্তি নেওয়া হয় না। কারণ সুধাময়ী দেবীর সঙ্গে কোনও পরিবার-পরিজন নেই। যদিও তাঁর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সবই রয়েছে। তবুও জরুরী বিভাগের কর্মীরা একা থাকার কারণে সুধাময়ী দেবীকে ভর্তি করেন না।

সেই থেকেই জরুরি বিভাগের সামনে রাস্তায় ঠাঁই হয়েছে সুধাময়ী দেবীর। অসহ্য যন্ত্রণা, চোখ দিয়ে জল পড়ছে। শীতের রাতেও মাথায় ঠাঁই জোটেনি। ভরসা অন্য রোগীর আত্মীয়রা। কেউ তাঁকে খাবার এনে দিচ্ছেন,কেউবা তাঁকে শৌচকর্ম করতে নিয়ে যাচ্ছেন৷  যন্ত্রণায় কাহিল সুধাময়ী দেবীর  একটাই প্রশ্ন, ‘একা থাকলে কি এরাজ্যে চিকিৎসা হয় না’

চিকিৎসাধীন এক অন্য রোগীর আত্মীয় সুবীর ভৌমিকেরও একই বক্তব্য, ‘মহিলার সমস্ত পরিচয় পত্র রয়েছে। শুধুমাত্র একা থাকার জন্য কেন তাঁকে হাসপাতাল ভর্তি নেওয়া হবে না?  তিন দিন ধরে যে ভাবে পড়ে আছেন, তা চোখে দেখা যায় না। অবিলম্বে ভর্তি করে সুচিকিৎসা দেওয়া হোক।’

অন্যদিকে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য, একা থাকার জন্য কাউকে ভর্তি নেওয়া যাবে না, এই যুক্তি কোনও মতেই মানা সম্ভব না। এরকম কোন নিয়ম নেই। আরজি কর হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানাচ্ছে, তাঁরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

First published: February 5, 2020, 7:41 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर