• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • WOMAN ARRESTED IN KOLKATA FOR ALLEGEDLY SHARING FAKE INFORMATION PERTAINING TO COVID 19 ON WHATSAPP POLICE ED

‘কলকাতায় করোনা আক্রান্ত ১৫, তথ্য গোপন করছে সরকার,’ হোয়াটসঅ্যাপে 'গুজব' ছড়িয়ে গ্রেফতার শহরের মেয়ে 

হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এক পড়ুয়ার মা।

হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এক পড়ুয়ার মা।

  • Share this:

#কলকাতা: খাস কলকাতার বুকে নিউ আলিপুরে ১৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছে। তাদের বিষয়টি সরকার চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই বলে হোয়াটসঅ্যাপে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিলেন দক্ষিণ কলকাতার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের এক পড়ুয়ার মা। স্কুলের পড়ুয়াদের মায়েদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এই গুজব দিয়েছিলেন ওই মহিলা। খবর পেয়ে বেহালা থেকে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ।

নিউ আলিপুর থানা সূত্রে খবর, ওই এলাকার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পড়ুয়াদের মায়েরা 'স্মার্ট জুনিয়রস' নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেছিল। মায়েদের নিজস্ব আড্ডা বা চ্যাটিং গ্রুপ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল এই গ্রুপটি। সেখানেই সোমবার সকালে পল্লবী পোস্ট করেন নিউ আলিপুরের পি ব্লকে ১৫ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছে। যাদের বিষয়ে সমস্ত তথ্য গোপন করছে সরকার। বাকি মায়েরা যাতে তার কথায় বিশ্বাস করে, সেজন্য তিনি বোঝানোর চেষ্টা করেন বিশ্বস্ত সূত্র থেকেই তার কাছে এই খবর পৌঁছেছে। তাই বাকি মায়েদের সতর্ক করতে পরামর্শ দেন, এই পরিস্থিতিতে ডাল-চাল খেয়েই তাঁরা যেন দিন কাটায়। কেউ যেন বাইরে গিয়ে সবজি কেনাকাটা করার মতো ঝুঁকি না নেয়। করোনা থেকে বাঁচতে ঘরবন্দি থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে তিনি লেখেন ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।

পল্লবীর সেই হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ গ্রুপের অন্য মায়েদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর তারা রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। শুরু হয় বিভিন্ন ভাবে খোঁজ নেওয়া। বিশেষ সূত্রে সেই খবর পায় নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। তারপরেই প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ। তারপরে ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের বিভিন্ন মায়েদের থেকে পল্লবীর ব্যাপারে জানতে পারে তারা। তারপরেই তাকে বেহালা থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউ আলিপুর থানার এক অফিসার বলেন, "কোন খোঁজখবর না নিয়েই পল্লবী ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিল। তাঁর কাছে যখন আমরা জানতে চাই তিনি কিসের ভিত্তিতে এই ভুয়ো খবর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। শুধুমাত্র তার সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি স্তরের অফিসারদের ভালো যোগাযোগ আছে এবং সেজন্য তার কাছে খবর আগে এসে পৌঁছেছে, তা বোঝাতেই তিনি এরকম কাজ করছিলেন। গ্রেফতারের পর তার এই আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আমরা এই খবর পাওয়ার পর সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ যেমন বন্ধ করে দিয়েছি। তার পাশাপাশি যাদের মধ্যে এই গুজব ছড়িয়েছিল তাদেরকেও আতঙ্কিত হতে বারণ করা হয়েছে।"

করোনা নিয়ে কোনও গুজব ছড়াবেন না, গুজবে কান দেবেন না বলে বারবার সতর্ক করছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপরেও ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপে এ ধরনের অসাধু কাজ চলছে বলে অভিযোগ। সেই গুজব ছড়ানো রুখতেই কলকাতা পুলিশ তাদের সাইবার সেলকে সক্রিয় করেছে। গুজব ছড়ানো রুখতে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপে কেউ গুজব ছড়াচ্ছে কিনা সেদিকে কড়া নজর রাখছে সাইবার সেল। ইতিমধ্যেই গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার থানা। এখনও জারি রয়েছে সেই নজরদারি।

Sujoy Pal

Published by:Elina Datta
First published: