তাহলে কি বিজেপি থেকে তৃণমূলেই ফিরছেন সুনীল-বিশ্বজিৎ? প্রশ্নটা সহজ, উত্তর...

তাহলে কি বিজেপি থেকে তৃণমূলেই ফিরছেন সুনীল-বিশ্বজিৎ? প্রশ্নটা সহজ, উত্তর...

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোমবার ২২ মিনিট কথা হয় বিশ্বজিৎদের।

কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যে, কী সমীকরণ তৈরি হল তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে ওদের?

  • Share this:

#কলকাতা: এতদিন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গমনই ছিল চালু শব্দে ট্রেন্ডিং কিন্তু সোমবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশ্বজিৎ দাস এবং সুনীল সিংয়ের ২২ মিনিট কথাবার্তার পরেই নতুন জল্পনার জন্ম হল। সুনীলদের ঘরওয়াপাসির প্রশ্নে কেউ অবাক হয়ে বলছেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়? কেউ আবার নিশ্চিত পুরনো শিবিরেই তাঁরা  ফিরে আসছেন। কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যে, কী সমীকরণ তৈরি হল তৃণমূল সুপ্রিমোর সঙ্গে ওদের? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঘরওয়াপসি হওয়ার সম্ভবনা সুনীলের। কিন্তু,বনগাঁয় তণমূল হয়ে  বিশ্বজিৎ-এর  ফেরা কঠিন

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিশ্বজিৎকে দেখে নিজে থেকে জিজ্ঞেস করেন বিশ্বজিৎ কেমন আছো। তারপরেই শুরু হয় লম্বা কথাবার্তা। সৌজন্য টাল খায়নি কোনও তরফেই , ছবিতেই স্পষ্ট। কিন্তু নিজে কী চান? বিশ্বজিতের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, বনগাঁ উত্তরে প্রার্থীপদ পাওয়া না পাওয়ার প্রশ্নটা বিশ্বজিৎকে খানিকটা হলেও দোলাচলে রেখেছে। গত দেড় বছরে বিজেপির হাওয়ায় খুব ভালো করে সম্পৃক্তও হননি বিশ্বজিৎ। বিশেষত টিকিট দেওয়া না দেওয়ার ব্যাপারে যার সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায়, সেই শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গেও বিশেষ হৃদ্যতা নেই বিশ্বজিতের ফলে টিকিট পাওয়া না পাওয়ার অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে। আর বিজেপি টিকিট না দিলে রাজনৈতিক ইনিংসে পূর্ণচ্ছেদ সময়ের অপেক্ষা একথা বললেও অত্যুক্তি হবে না।

অন্য দিকে, মতুয়া ভোটের কথা মাথায় রেখেই শান্তনুকে কোনও ভাবেই চটাতে চায় না দল। গত কয়েক মাস ধরে বনগাঁর সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে দড়িটানাটানিতেও দল সাম্প্রতিক অতীতে তাঁর কথাই শেষমেষ রাখতে বাধ্য হয়েছে। টিকিটের প্রশ্নেও তিনিই শেষ কথা বলবেন, এমনটাই স্বাভাবিক। এখানেই বিশ্বজিতের সংশয়।

তাছাড়া বিজেপিতে বিশ্বজিৎ মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। সিএএ, এনএনআরসি নিয়ে ক্ষুব্ধ শান্তনু ঠাকুরকে বোঝানোর দায়িত্ব একসময় দেওয়া হয়েছিল মুকুল রায়কে। সেই দায়িত্বেরও হাতবদল হয়েছে। নতুন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। তিনিই শান্তনুর সঙ্গে এখন কথাবার্তা চালান। ফলে এদিক থেকেও খানিকটা ব্যাকফুটে বিশ্বজিৎ। মুকুল রায়ের অঙ্গুলিহেলন সেক্ষেত্রে খাটবে না।

তাহলে কি বিশ্বজিৎ পুরনো দলেই ফিরে আসতে বাধ্য হবেন ? বাধা আছে সেখানেও। রাজনৈতিক মহল বলছে বিশ্বজিতের পথে কাঁটা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘনিষ্ঠরাই। বনগাঁ অঞ্চলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ভরসা গোপাল শেঠ, শঙ্কর আঢ্য। একজন পুরসভার চেয়ারম্যান, অন্য জন সংগঠন সামলান। তাঁরা মনক্ষুন্ন হবেন এমন কোনও পদক্ষেপই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক করবেন না, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের।

আসা যাক সুনীল সিংয়ের প্রসঙ্গে। বিজেপিতে সুনীল সিংকে ঢুকিয়েছিলেন অর্জুন সিংই, বিধায়ক আসনও পেয়েছেন। কিন্তু সুনীল সিংয়ের সঙ্গে অর্জুন সিংদের পারিবারিক সম্পর্ক ভালো নয়। সুনীল ঘনিষ্ঠরা অনেকেই বলেন পারিবারিক কারণেই এই ক্ষমতাবৃত্ত থেকে নিস্কৃতি চান সুনীল।

সূত্রের কথা, সুনীলকে গ্রহণ করতে তৃণমূলের তথা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কোনও অসুবিধে থাকার কথা না। অন্তত আটকানো হবে না। অন্য দিকে সুনীলের বিজেপিতে থেকে যাওয়া নিয়েও নিশ্চিত নন অর্জুন। এদিন তিনি বলেন " ওরা কি করবে আমি জানি না। আমি ধমকালে যদি কাজ হত, তাহলে ওরা বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যেতে পারত? অর্জুনের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য " এবার যা বোঝার বুঝে নিন। " বুঝে নিক জনতা জনার্দন।

Published by:Arka Deb
First published:

লেটেস্ট খবর