মোদির সভাতেই পদ্মে শিশির ফোঁটা? প্রবীণের ইঙ্গিত, ছেলেরা বললে ভাবব

মোদির সভাতেই পদ্মে শিশির ফোঁটা? প্রবীণের ইঙ্গিত, ছেলেরা বললে ভাবব

শিশির অধিকারীর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে লকেট চট্টোপাধ্য়ায়। নিজস্ব চিত্র

পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ শিশির অধিকারীর মুখের এই কথাটিকেই রাজনৈতিক সিগন্যাল বলে ভাবতে শুরু করেছেন রাজনীতির ব্যাপারীরা।

  • Share this:

#কলকাতা: শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়েই বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন সৌজন্য সাক্ষাৎ। কিন্তু তাতে সম্ভবনার দরজাগুলি বন্ধ হচ্ছেই না বরং নতুন জল্পনার জন্ম হচ্ছে। বলা হচ্ছে, আগামী ২৪ মার্চ কাঁথিতে নরেন্দ্র মোদির সভায় থাকতে পারেন শিশির অধিকারীও। আর এই জল্পনী উসকে দিয়েছেন বর্ষীয়াণ নেতা শিশির অধিকারী স্বয়ং। কারণ যাবতীয় প্রশ্নের উত্তরে তিনি হ্যাঁ-ও বলেননি, নাও বললেননি। শুধু বলেছেন, ছেলেরা বললে ভাবব। পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ শিশির অধিকারীর মুখের এই কথাটিকেই রাজনৈতিক সিগন্যাল বলে ভাবতে শুরু করেছেন রাজনীতির ব্যাপারীরা।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত, আজ শান্তিকুঞ্জে মোদির দূত হয়েই গিয়েছিলেন লকেট চট্টোপাধ্য়ায়। অধিকারী বাড়ির সৌজন্য আর আপ্যায়নে নৈকট্য আরও জোরালো হয়। লকেটের জন্য শুক্তো, মাছ,  ভাতের ঘরোয়া আয়োজন ছিল শান্তিকুঞ্জে। শেষে নিজে হাতে পান সেজে খাওয়ান শিশিরবাবুর স্ত্রী গায়ত্রীদেবী। এসবের মধ্যেই লকেট শিশিরবাবুকে বিজেপি যোগের আহ্বান জানিয়েছেন কিনা জানা নেই, তবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে এদিনই সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বাংলার মানুষ চাইছে শিশিরবাবু বিজেপিতে আসুন।  শান্তিকুঞ্জের গেটের বাইরে লকেটের কাছে জানতে চাওয়া হল, সৌজন্যের বাইরে আর কী কথা হল। লকেটও তখন ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি হাসেন। বলেন, "শান্তিকুঞ্জে সপরিবারে থাকন শুভেন্দুদা।  বাবা ছেলের পাশে থাকেন সবসময়ে, ছেলে বাবার পাশে থাকেন, এমনটাই তো হওয়া উচিত। লকেট অবশ্য এটাও বললেন, কোনও রাজনৈতিক কথা হয়নি। যদিও শিশির অধিকারী হ্যাঁ বললে সাদরে বরণ করা হবে, এমন ইঙ্গিতও পরিষ্কার লকেটের কথাবার্তায়।

লকেট এ দিন যখন শান্তিকুঞ্জে শিশির সকাশে মধ্যাহ্নভোজ ছাড়ছেন, শুভেন্দু তখন দিল্লির হেভিওয়েট মিটিংয়ে। বাড়িতে ছিলেন দিব্যেন্দু অধিকারী, যাঁকে নিয়েও কানাঘুষোর অন্ত নেই। শিশির অধিকারী অবশ্য মৌনভাব বজায় রাখছেন। তবে শুভেন্দুর জন্য প্রচার করতে পারেন প্রয়োজনে একথা তিনি বলেছেন নিজেমুখেই। পাশাপাশি তাঁর উবাচ, "ছেলেরা বললে ভাবব।" অর্থাৎ বয়সের ভারে নুব্জ প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জীবনেই এই সন্ধিক্ষণে এসে জরুরি সিদ্ধান্তের জন্য ছেলেদের উপরেই নির্ভরশীল হতে চাইছেন, এমনটাই বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

তৃণমূল অবশ্য এর মধ্যে একটি একাঙ্ক নাটকের মহড়াই দেখতে পাচ্ছে। কুনাল ঘোষের কথায়, "একটা জানা নাটকের পূর্ব পরিকল্পিত চিত্রনাট্য। সবাই জানে কিছুদিন পর কাকে কোথায় দেখা যাবে।"

শ্রদ্ধাভাব বজায় রেখেও নরমেগরমে এক হাত নিলেন সৌগত রায়ও। তাঁর কথায়, "মেদিনীপুরে কিছুই করছেন না। এর আগে ছেলের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছেন। শিশিরবাবু দলবদলের রাজনীতি না করলেই ভালো হবে। এখন ব্যাপারটা উনি যেমন বুঝবে।"

শুভেন্দু অধিকারীকে আটকাতে চেষ্টার কসুর করেননি সৌগত রায়। কিন্তু মন গলেনি শুভেন্দুর। এখন শেষবেলায় তৃণমূলের হয়ে রাজনীতির বিষয়ে প্রায় নিস্ক্রিয় শিশির অধিকারীর থেকে প্রত্যাশা রাখছেন না সৌগত রায়, কুনাল ঘোষেরা।  কিন্তু তিনি শেষমেশ গেরুয়া শিবিরে না গেলে সেটাই যেন হবে  তাদের বড় পাওয়া। দড়িটানাটানির পরে পদ্মে শিশির ফোঁটা পড়বে কিনা তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও দিন দশেক।

Published by:Arka Deb
First published: