ই-শুনানিতেই কি সরবে পাহাড় প্রমাণ মামলার বোঝা ? আশায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীরা

ই-শুনানিতেই কি সরবে পাহাড় প্রমাণ মামলার বোঝা ? আশায় কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী, বিচারপ্রার্থীরা

রাজ্যে সংশোধনাগার কতগুলি জানেন না খোদ রাজ্য পুলিশের ডিজি! রাজ্য পুলিশের ডিজির এমন 'না' জানায় বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্ট

  • Share this:

ARNAB HAZRA

#কলকাতা: রাজ্যে সংশোধনাগার কতগুলি জানেন না খোদ রাজ্য পুলিশের ডিজি! রাজ্য পুলিশের ডিজির এমন 'না' জানায় বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে স্বশরীরে হাজিরা দেন ডিজি বীরেন্দ্র।

রাজ্যের আদালত গুলির সঙ্গে সংশোধনাগার গুলির ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থাপনার হালহদিশ নিতে ডিজিকে ডেকে পাঠানো। আদালতে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয় হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার প্রশাসনকেও। দু'জনকে এজলাসে রেখে এদিন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য , ' রাজ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার ই-প্রজেক্ট কাগজেকলমেই আবদ্ধ হয়ে থাকছে। তার বাস্তবিক প্রয়োগের কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ১৯ জেলার জেলা জজ-আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা আছে। একইরকমভাবে হাইকোর্টেরও একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা রয়েছে। সব আদালতকক্ষে ভিডিও কনফারেন্স না করা গেলে দ্রুত বিচার কিভাবে সম্ভব।'

এমন মন্তব্যে থেমে না থেকে, এরপর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী রাজ্য পুলিশের ডিজি'র উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছোঁড়েন,  'রাজ্যে কতগুলি সংশোধনাগার আছে ? " সঠিক সংখ্যা জানা নেই তাঁর।  উত্তরে জানান ডিজি বীরেন্দ্র। ' 'অসম্পূর্ণ তথ্যে কিভাবে হলফনামা দাখিল করলেন ? ডিজি (সংশোধনাগারের) সঙ্গে কি আপনার কথা হয় না ? আপনি রাজ্য পুলিশের অধিকর্তা, সারা রাজ্যের পুলিশ পরিচালনার দায়িত্বে। আপনার এই তথ্য জানা উচিত ' - ডিজির উদ্দেশ্যে পাল্টা মন্তব্য ছোঁড়েন বিচারপতি বাগচি।

এইসময় মুখ্য সরকারি কৌঁসুলি শাশ্বত গোপাল মুখোপাধ্যায় আদালতকে জানান, '৫৭ টি সংশোধনাগার রাজ্যে। সংশোধনাগারের বিষয়টি দেখেন সংশ্লিষ্ট দফতরের ডিজি।"

ডিজির সংশোধনাগারের সংখ্যা না জানা প্রসঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আরও মন্তব্য করেন,  'রাজ্য পুলিশের ডিজি কোনওরকম সরকারি কৌঁসুলির সঙ্গে আলোচনা না করেই এজলাসে এসে গিয়েছেন!'

রাজ্যের ১৯টি জেলা আদালতে ভিডিও কনফারেন্সের জন্য আলাদা ঘর আছে। ১৮টি সংশোধনাগারে ভিডিও কনফারেন্স বন্দোবস্ত আছে বলে হলফনামায় জানায় রাজ্য।

' নিম্ন আদালতের প্রতিটি ঘরে যদি ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা করা না যায় তাহলে মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হবে। গোটা পরিকল্পনা শুধুমাত্র কাগজপত্রেই আবদ্ধ থেকে যাবে।  দ্রুত বিচারের সঠিক বাস্তবায়ন হবে না।'

ভরা এজলাসে জানায় ডিভিশন বেঞ্চ।

প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত নাজির মোমিন জামিনের আবেদন নিয়ে আদালতে আসে। তাঁর আইনজীবী সুব্রত গুহবিশ্বাসের কথায়, 'আমার মক্কেলের জামিন বিবেচনা করবে ডিভিশন বেঞ্চ। তবে ভিডিও লিঙ্কিং ব্যবস্থা সব জায়গায় করা গেলে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা কাটবে।'

একাধিক কারণে অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা যাচ্ছে না  নাজির মোমিনের জামিনের মামলায় জানায় পুলিশ। ২৭ নভেম্বর বিচারপতি বাগচী তার পর্যবেক্ষণে জানান, যে কোনো অভিযুক্তকে আদালতে পেশ না করতে পারলে জেল এবং আদালতের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স-এর বন্দোবস্ত আছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকাও রয়েছে ই-ব্যবস্থাপনার। এই ভিডিও কনফারেন্সের ব্যবস্থা কি পর্যায়ে আছে তা জানতেই ডেকে পাঠানো ডিজি পুলিশকে।

আজ, শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং শুভ্রা ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে স্বশরীর হাজিরা দেন ডিজি। এদিন হাইকোর্ট নির্দেশে জানিয়েছে,৩ মাসের মধ্যে রাজ্যের সব চিফ জুডিশিয়াল, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং দায়রা আদালতগুলিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংশোধনাগারগুলি  সংযুক্ত করতে । তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে রাজ্য এবং হাইকোর্ট প্রশাসন।

তিন মাস পর বিশদ হলফনামাও দেবে দুই পক্ষ। বিচারে দেরি কাটাতে অব্যর্থ হতে পারে ই-ট্রায়াল। তবে কি ই-শুনানিতেই সরবে পাহাড় প্রমাণ মামলার বোঝা ? আশায় আইনজীবী আশায় বিচারপ্রার্থীরা।

First published: 02:07:15 PM Dec 13, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर