কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

কেন কলেজে বসিয়ে পরীক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদের? অধ্যক্ষের থেকে জবাব তলব উচ্চ শিক্ষা দফতর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের

কেন কলেজে বসিয়ে পরীক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদের? অধ্যক্ষের থেকে জবাব তলব উচ্চ শিক্ষা দফতর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজে হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীদের কলেজে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

  • Share this:

#কলকাতা: News18 বাংলার খবরের জের। কেন কলেজে বসে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা দিল তা নিয়ে এবার  অধ্যক্ষের জবাব চাইল রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। বৃহস্পতিবার থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছাত্রীদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজে হাতেগোনা কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীদের কলেজে বসে পরীক্ষা নেওয়া হয়।

কলেজ অধ্যক্ষ দাবি করেন মূলত মালদা,মুর্শিদাবাদের মতো জায়গা থেকে অনেক ছাত্র-ছাত্রী এসেছে বা থাকেন যাদের ইন্টারনেট সমস্যা রয়েছে,অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই তাই তাদেরকে কলেজে বসে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও বাড়িতে বসেই ওপেন বুক সিস্টেমে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা দেবেন এমনটাই জানিয়েছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বৃহস্পতিবার এর সেই খবর দেখানোর পর উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও তরফে কলেজ অধ্যক্ষের থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য গোটা ঘটনা নিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে ফোনে কথাও বলেন বলে জানা গিয়েছে।

পরীক্ষা হবে বাড়িতে বসেই ওপেন বুক পদ্ধতিতে। অনলাইনে প্রশ্ন পত্র পাঠানো হবে ছাত্রছাত্রীরা তার ডাউনলোড করে প্রিন্ট আউট নিয়ে উত্তর পত্র লিখে সেই উত্তরপত্র ইমেইল বা স্ক্যান করে পাঠিয়ে দেবেন বিভাগীয় প্রধানের কাছে। এটাই নিয়ম ছিল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষার। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন যে কলেজে থেকে কোন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষা দেবেন না। কিন্তু বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র কলেজের ছবি অন্য কথা তুলে ধরেছে। কলেজ অধ্যক্ষ পূর্ণ চন্দ্র মাইতি বৃহস্পতিবার দাবি করেছিলেন " আমাদের কলেজের অনেক ছাত্রছাত্রী অ্যান্ড্রয়েড ফোন নেই। ইন্টারনেট সংযোগ অনেক ছাত্রছাত্রী কাছেই সহজলভ্য ছিল না তার জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কলেজে বসেই ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নেব।"

বৃহস্পতিবার এর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ফোন করেন কলেজ অধ্যক্ষকে। কেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে জানতে চাওয়া হয় বলে সূত্রের খবর। যদিও কলেজ অধ্যক্ষ পাল্টা জানিয়ে দেন ইউজিসির নিয়ম মেনেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কলেজ অধ্যক্ষ পূর্ণ চন্দ্র মাইতি শুক্রবার বলেন " উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। আমি যা জানানোর জানিয়েছি। আইনের বিরুদ্ধে বা নিয়মের বাইরে আমি কোনও কিছুই করিনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বা সরকারের থেকে এমন কোনও নির্দেশিকা আসেনি যেখানে বলা হয়নি কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যাবে না।"

সূত্রের খবর, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজের অধ্যক্ষের পাওয়া রিপোর্টের নিরিখে সোমবার উচ্চ শিক্ষা সচিব আধিকারিকদের সঙ্গে এক প্রস্থ আলোচনা করবেন। যদিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তবে সম্প্রতি অধ্যক্ষদের নিয়ে হওয়া বৈঠকে ইউজিসির গাইডলাইন মেনে পরীক্ষা নিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে সে ক্ষেত্রে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ অন্যান্য কলেজগুলি কলেজে বসিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা নেয়নি। সে ক্ষেত্রে দক্ষিণ কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজে বসে পরীক্ষা নেওয়া এক নয়া বিতর্ক তৈরি করে দিল।

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: October 2, 2020, 5:29 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर