গাদাগাদি করে একটা ঘরে দশজন পড়ুয়া, প্রেসিডেন্সির পড়ুয়ারা কি এই জন্যেই পথে?

গাদাগাদি করে একটা ঘরে দশজন পড়ুয়া, প্রেসিডেন্সির পড়ুয়ারা কি এই জন্যেই পথে?

তার মধ্যে দোতলা বিল্ডিংটি আন্দোলনের চাপে এতবছর পর পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেয় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ

  • Share this:

#কলকাতা: ছেলেদের হিন্দু হস্টেল হোক বা মেয়েদের। গাদাগাদি করে একটা ঘরে জনা দশেক পড়ুয়াকে থাকতেই হচ্ছে। আর এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন চলছিলই। কিন্তু গতকাল থেকে ওই আন্দোলন রাস্তায় নেমে আসতেই বিপত্তি বাধল। ব্যস্ত কলেজ স্ট্রিট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় তার প্রভাব পড়ে পুরো মধ্য কলকাতায়। শেষমেশ ২৪ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নিলেও পড়ুয়ারা জানিয়ে দিলেন পুরো হিন্দু হস্টেল পড়ুয়াদের জন্য খুলে না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

হিন্দু হস্টেলের প্রধানত দু’টি বিল্ডিং আছে। তার মধ্যে দোতলা বিল্ডিংটি আন্দোলনের চাপে এতবছর পর পড়ুয়াদের জন্য খুলে দেয় প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তিনতলাটি এখনও বন্ধ। তাতে এখনও মেরামতির কাজ চলছে। ওই কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় এখনও তা বন্ধ। ফলে, হিন্দু হস্টেলের ১৩০ জন পড়ুয়াকেই গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে একটি বিল্ডিংয়ে।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র স্বরূপ বিশ্বাস জানাচ্ছেন, কখনও কখনও তাঁদেরকে একেকটা রুমে দশজন করেও থাকতে হয় এবং এর ফলে পানীয় জলের সমস্যা দেখা দিচ্ছে হোস্টেলে। প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের এক পড়ুয়া দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘শুধু বয়েজ হোস্টেল নয়, গার্লস হোস্টেল নিয়েও একাধিক সমস্যা রয়েছে। পানীয় জল পাওয়া যাচ্ছে না ও অতিরিক্ত গ্যাস-ফি নেওয়া হচ্ছে। আমরা অতিরিক্ত ফি মকুবের দাবি করেছি। কিন্তু কাজ হয়নি। কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকার বকেয়া টাকা না দেওয়াতেই কাজ শেষ হচ্ছে না। কিন্তু তার হ্যাপা আমরা পোহাব কেন?’

গত ৪২ দিন ধরে এই দাবি নিয়ে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসের ভেতরেই আন্দোলন চালাচ্ছিল৷ কিন্তু গতকাল বিকেল পাঁচটা থেকে আজ বিকেল পাঁচটা অবধি তাঁরা কলেজ স্ট্রিট মোড়ে এই দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এর জেরে সমস্যায় পড়তে হয় নিত্য যাত্রীদের এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক পাশেই থাকা মেডিকেল কলেজের রোগী এবং অ্যাম্বুলেন্সগুলিও আটকে যায়। এর ফলে সকাল থেকেই যানজট শুরু হয় মহাত্মা গান্ধী রোড-সহ একাধিক রাস্তা। স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার পড়ুয়াদের অনুরোধ করেন, রাস্তা ছেড়ে এই আন্দোলন করার। যাতায়াতের ভীষণ সমস্যা দেখা যায়। শেষমেষ আজ বিকেল পাঁচটা নাগাদ প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি ছাত্রছাত্রীরা অবরোধ তুলে নেয় । তবে কর্তৃপক্ষ তাঁদের সাথে কথা না বলা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

SHALINI DATTA

First published: March 7, 2020, 9:43 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर