Mamata Banerjee: তৃণমূলে নবীনের 'অভিষেক' কি প্রবীণের বিদায় বাঁশি? নাকি মমতার আরও এক মাস্টারস্ট্রোক!

‌একদিকে প্রাজ্ঞজন, অন্য দিকে নবীনের জয়গান। নতুন ব্রেনগেম মমতার। অলংকরণ-দিব্যেন্দু সরকার।

অনেকেই বলছেন, এও এক ব্রেনগ্রেম যা আগামিদিনে পাথেয় হতে পারে অন্য রাজনৈতিক দলের। কেমন সেই ব্রেনগ্রেমের নকশা? কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়? তাঁর মূল অভিপ্রায়টা ঠিক কী ? যুক্তির আতসকাচে ফেলে দেখা যাক।

  • Share this:

#কলকাতা: শনিবার তৃণমূলের সাংগঠিনক রদবদল নিয়ে চর্চা চলছে দেশজুড়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) যে ভাবে নবীনে আস্থা দেখালেন, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়াও মিশ্র। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সর্বভারতীয় সম্পাদক হওয়া, সায়নীর হাতে যুব তৃণমূলের দায়িত্ব যাওয়া, রাজ চক্রবর্তী-ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণকে কেউ বলবেন নবীনে আস্থা, কিন্তু প্রশ্নটা আসে তার পিঠেই, তাহলে কি এই সিদ্ধান্ত প্রবীণের বিদায় বাঁশিও! রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য এমনটা মানতে রাজি নন। অনেকেই বলছেন, এও এক ব্রেনগ্রেম যা আগামিদিনে পাথেয় হতে পারে অন্য রাজনৈতিক দলের। কেমন সেই ব্রেনগ্রেমের নকশা? কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়? তাঁর মূল অভিপ্রায়টা ঠিক কী ? যুক্তির আতসকাচে ফেলে দেখা যাক।

এত দিন তৃণমূলের যুব মুখ ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁকে কেউ পছন্দ করুন বা অপছন্দ করুন একটি বিষয়ে সকলেই নির্বিবাদে মানতে বাধ্য, গত এক দশক তৃণমূলের তরুণ ব্রিগেডকে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজে অভিষেক যে শ্রম-মেধা দিয়েছেন তা প্রশংসনীয়। এখন সর্বভারতীয় সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে অভিষেক রাজ্য পেরিয়ে তৃণমূলের সাম্রাজ্য বিস্তারের অন্যতম কাণ্ডারী হতে চলেছেন। এই দায়িত্ব আগে সামলাতেন মুকুল রায়। অভিষেককে সেই শূন্য আসন দেওয়াই বুঝিয়ে দেয় দল কতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে তাঁকে। এক কথায় বললে, অভিষেককে কার্যত সর্বভারতীয় রাজনীতির প্রেক্ষিতে প্রোজেক্ট করতে চাইছে তৃণমূল। সেক্ষেত্রে তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদে যে কোনও হাতে তুলে দেওয়া অদূরদর্শীতার পরিচয় হবে, জানেন তৃণমূল নেত্রী।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী আবার অন্য একটি অঙ্কও খুঁজে পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, "বড় যুদ্ধে নেমে রাশ আগলা হয়ে যাওয়াটা কাম্য নয়। দল এমন লোকেদেরই দায়িত্ব দিচ্ছে যাদের নিয়ন্ত্রণ করা অনেক বেশি সহজ। সায়নী হোন বা রাজ, এদের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণের শর্তটি প্রযোজ্য। "

তাছাড়া আজকের নেটাগরিকের মন পড়তে নেতৃত্ব উঠে আসা চাই এই প্রজন্ম থেকেই উঠে আসা নেতৃত্ব। প্রবীণের কাজ নয় এটা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন এই নেটিজেনদের সঙ্গে দলের যোগাযোগ সংযোগ রক্ষার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন, যুবদের তুলেছেন তিনি। তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করতে দল যে সায়নী ঘোষকে বেছে নিয়েছে তা নেহাতই হঠকারী সিদ্ধান্ত নয়। সায়নী আসানসোল দক্ষিণে ভোটে হেরেছেন ঠিকই। তবে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ অন্য কারণে। ভোট পর্বে তাঁর মরিয়া দৌড়, ভোটে হেরেও বারবার মানুষের কাছে ছুটে যাওয়া, প্রবল আত্মবিশ্বাস যে নবীন প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা দিতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরর জহুরির চোখ তা বিলক্ষণ বুঝেছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার বলেন, তিনি চান তাঁর অবর্তমানেও যাতে তিন প্রজন্ম দলকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি থাকে তার ব্যবস্থা করে যেতে। সায়নী, রাজ, ঋতব্রতদের উঠে আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সাংগঠনিক ব্যুতপত্তির পরিচায়ক। দল চালাতে তাঁর যেমন সুব্রত বক্সী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দোলা সেন দের মত পুরনো সহযোদ্ধাদের প্রয়োজন তেমনই বং-মন পড়তে চাই জেন-ওয়াই নেতৃত্ব। আসলে মমতা চান নবীন প্রবীণের মিশেলে তৈরি এমন একটি দলগঠন যেখানে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর ক্ষিপ্রতার মতো গুণ একে অন্যের পরিপূরক হবে। মমতার এই স্বপ্নের অন্তঃসার যারা বুঝতে পারছেন, তাদের চোখেমুখে তৃপ্তিও ফুটে উঠছে।

নবীনে জোর দেওয়ার আরও একটি কারণ রয়েছে। বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে এই বিরাট জয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নরেন্দ্র মোদির প্রতিস্পর্ধী করে দিয়েছে। মমতা প্রথম থেকে নিজেই বলছিনে যুব-মহিলা এই দুই ব্রিগেডেই ভর করে তিনি বৈতরণী পার করতে চান। সেই নৌকা যখন যখন ঘাটে এসেছে তখন নবীনের অগ্রাধিকার হাতেকলমে প্রমাণ করারও দায় রয়েছে তাঁর। মমতা নিজেই বলে দিয়েছেন, তৃণমূলের বিকল্প উন্নততর তৃণমূল। এই জয়ের কাণ্ডারী যারা, সেই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাই তাঁকে ত্বারিত করেছে শুদ্ধতর তৃণমূলের সন্ধানে, নবীনদের নিয়ে এই ব্রিগেড গঠনে।

অন্য দিকে এই জয়ের কারণেই তৃণমূলের পাখির চোখ এখন দিল্লি। গত চার দশক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখনই নির্বাচনী লড়াই লড়েছেন, তখনই ভরসা হয়েছেন দোলা সেন, পূর্ণেন্দু বসু, সুব্রত বক্সীরা। এবারের দিল্লির লড়াই অনেক বড়। তাতে তাঁর কাজে লাগবে এই প্রবীণের অভিজ্ঞতা। কিন্তু সেই কাজে নেমে যাতে তৃণমূল স্তর অর্থাৎ সংগঠনের নিচুতলা কোনও ভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, কোনও ভাবেই যাতে যোগাযোগ ক্ষুন্ন না হয় তা দেখতে নতুন যোগ্য মুখ চাই। এসব না ভেবে হঠাৎ নতুনদের তুলে আনেননি মমতা।

সর্বোপরি এক ব্যক্তি এক পদ প্রণয়ন করতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী। সে কাজটি বাস্তবায়িত করতে চাইলেও নেতৃত্বদানে নতুন মুখ চাই। পদ নিয়ে আকচাআকচিও থেমে যাবে এই নবাীনের জয়গানে,এই তত্ত্বকেও ফেলে দেওয়া যাবে না। এইসব সাতপাঁচ ভেবেই দলকে ঢেলে সাজানো।

এই সিদ্ধান্তকে আপাত ভাবে মমতার মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বেত্তারা। নতুন পুরনো সকলের বডি ল্যাংগুয়েজও অত্যন্ত ইতিবাচক । তবে ফল কতটা সুমিষ্ট হল তা অবশ্য ক্রমশপ্রকাশ্য।

Published by:Arka Deb
First published: