শহরের কোন কোন রাস্তায় সাইকেল চলতে পারে, ট্র্যাফিক গার্ডগুলিকে প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ লালবাজারের

লালবাজার থেকে কলকাতার প্রত্যেকটি ট্র্যাফিক গার্ডে পাঠানো হয়েছে ই-মেল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, কলকাতার কোন কোন রাস্তা সাইকেল চলাচলের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, তার প্রস্তাব পাঠাতে হবে লালবাজারে।

লালবাজার থেকে কলকাতার প্রত্যেকটি ট্র্যাফিক গার্ডে পাঠানো হয়েছে ই-মেল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, কলকাতার কোন কোন রাস্তা সাইকেল চলাচলের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, তার প্রস্তাব পাঠাতে হবে লালবাজারে।

  • Share this:

#কলকাতা: সাইকেল প্রেমীদের জন্য আরও সুখবর। কলকাতায় পৃথক সাইকেল লেন ঘোষণার স্বপ্ন বাস্তব হওয়ার পথে আরও একধাপ এগলো। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, "যাদের সাইকেল রয়েছে, তাঁরা ছোট ও মাঝারি রাস্তাকে ব্যবহার করে যাতে অফিসে বা নিজের গন্তব্যে যেতে পারেন, সেজন্য পুলিশকে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছে।"

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার কিছু সময় পরই লালবাজার থেকে কলকাতার প্রত্যেকটি ট্র্যাফিক গার্ডে পাঠানো হয়েছে ই-মেল। সেখানে জানতে চাওয়া হয়েছে, কলকাতার কোন কোন রাস্তা সাইকেল চলাচলের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, তার প্রস্তাব পাঠাতে হবে লালবাজারে। প্রত্যেক ট্র্যাফিক গার্ড এলাকায় যত ছোট ও মাঝারি রাস্তা রয়েছে, সেই রাস্তাগুলির নাম-সহ প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে লালবাজারে। ডিসি ট্র্যাফিক রুপেশ কুমার বলেন, "সাইকেলের জন্য প্রস্তাবিত রাস্তার তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রত্যেক ট্র্যাফিক গার্ডের কাছে সাইকেল লেনের জন্য প্রস্তাবিত রাস্তার নাম পাঠাতে বলা হয়েছে।"

লালবাজারের ই-মেল পাওয়ার পরই প্রত্যেক ট্র্যাফিক গার্ড তাদের এলাকায় সাইকেলের জন্য ব্যবহারযোগ্য প্রস্তাবিত রাস্তার তালিকা পাঠানো শুরু করেছে লালবাজারে। প্রত্যেক ট্র্যাফিক গার্ডের থেকে গোটা কলকাতার সাইকেল লেনের জন্য প্রস্তাবিত রাস্তার তালিকা পাওয়ার পরই বৈঠকে বসবে ডিসি ট্রাফিক-সহ লালবাজারের অন্য পুলিশ কর্তারা। তারপরেই মিলবে সাইকেল লেনের অনুমোদন।

কলকাতার রাস্তায় পৃথক সাইকেল লেনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে আসছিল বিভিন্ন সাইকেল প্রেমী সংগঠনগুলি। কিন্তু শহরের ৭০ টিরও বেশি রাস্তায় সাইকেল চালানো নিষিদ্ধ তো ছিলই বড় রাস্তায় সাইকেল চালালে জরিমানাও করা হত। কিন্তু লকডাউনের ফলে সাইকেলকেই যাতায়াতের সবথেকে সুবিধাজনক বাহন হিসেবে বেছে নিয়েছে সাধারণ মানুষ। গণপরিবহণ ব্যবস্থা অমিল থাকায় অফিস-বাজার থেকে শুরু করে সবরকম কাজেই সাইকেলের ব্যবহার বেড়ে গিয়েছিল শহরে। এমনকী, দূর-দূরান্ত থেকেও কলকাতায় সাইকেল চালিয়ে কলকাতায় আসছেন বহু মানুষ। বাসের ভিড়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয়, তাই নিজের সুরক্ষার জন্য দু'চাকার পরিবেশবান্ধব এই বাহনকই নতুন করে ভালবাসতে শুরু করেছে কলকাতা। তাই সরকারের কাছে পৃথক সাইকেল লেন চেয়ে আবার আবেদন করেছিল সাইকেল প্রেমীদের সংগঠনগুলি। এতদিন না হলেও এবার সাইকেল প্রেমীদের আবেদনে সাড়া দিয়েছে সরকার। মানুষের প্রয়োজনে সাইকেল লেনের গণদাবিতে সিলমোহর দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তাতেই খুশি সাইকেল প্রেমীরা।

সাইকেল প্রেমীদের দীর্ঘদিনের আবেদনে সিলমোহর দিলেও তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় রাস্তার বদলে শুধুমাত্র ছোট ও মাঝারি রাস্তাতেই সাইকেল চলার অনুমতি দিতে চলেছে সরকার। তাতেও খুশি সাইকেল প্রেমীরা। সাইকেল প্রেমীদের সংগঠন কলকাতা সাইকেল সমাজের কলকাতার মেয়র শতনজীব গুপ্ত বলেন, " মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের দাবী মেনে নেওয়ার জন্য। তবে সাইকেলকে স্থায়ীভাবে তার যোগ্য সম্মান দেওয়ার আবেদন রাখছি। পরিবেশ ও অর্থনীতিগত কারণেই সাইকেলের প্রয়োজন রয়েছে।"

Sujoy Pal

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: