সেদিনের মুখ্যমন্ত্রী মোদির থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শিখতেই পারতেন এই জরুরি পাঠটা...

সেদিনের মুখ্যমন্ত্রী মোদির থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা শিখতেই পারতেন এই জরুরি পাঠটা...
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকালই প্রতি ইঞ্চিতে নিজস্বতায় গড়া এক মানুষ। কিন্তু অন্তত এ ক্ষেত্রে মমতা বোধহয় চাইলে মোদিকেই পাথেয় করতে পারতেন।

  • Share this:

    যাপন কে পাঠক, আমেদাবাদ: সুভাষ স্মরণে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে যে অনুষ্ঠান হল তা দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা মানছেন স্মরণকালে এমন জাঁকজমকপূর্ণ সুচারু অনুষ্ঠান এ শহর দেখেনি। এ হেন সুন্দর অনুষ্ঠানে ছন্দপতন শুধু একটাই, হঠাৎ ধেয়ে আসা জয় শ্রীরাম স্লোগানের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য না রাখার সিদ্ধান্ত।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকালই প্রতি ইঞ্চিতে নিজস্বতায় গড়া এক মানুষ। কিন্তু অন্তত এ ক্ষেত্রে মমতা বোধহয় চাইলে মোদিকেই পাথেয় করতে পারতেন। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে আহমেদাবাদে তদানীন্তন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমনই ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেদিন তিনি যা করেছিলেন, আর এদিন মমতা যা করলেন, তার মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক।

    সময়টা ২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর। সরদার প্যাটেল মিউজিয়াম উদ্বোধনে সেদিন সেখানে আসার কথা ছিল তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের। ২০১৪ ভোট নিয়ে তখন এনডিএ-ইউপিএ যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছে। এনডিএ প্রার্থী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কংগ্রেসের বিরোধাভাসও তখন স্পষ্ট। অনুষ্ঠানমঞ্চে সেদিন স্বাভাবিক ভাবেই ছিল কংগ্রেসিদের ভিড়। এই পরিস্থিতিতে মোদি মঞ্চে উঠলে তাঁকে সাদরে বরণ করা হয়নি। কিন্তু মোদি মুষড়েও পড়েননি, রাগও প্রকাশ করেননি। উল্টে তিনি মহিলা সংরক্ষণ , শহর পরিকল্পনায় সর্দার প্যাটেলের দূরদর্শীতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। পাশাপাশই ইউপিএ সরকারের হাত থেকেই গুজরাট যে পুরস্কারগুলি পেয়েছে তা স্মরণ করিয়ে দেন। ওই মঞ্চ থেকে মাওবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতার কথাও শোনা যায় মোদির মুখে। মোদি দুঃখপ্রকাশ করে প্রশ্ন রেখেছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল কেন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলেন না, কিন্তু কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হেয় করেননি তিনি। অন্য দিকে ধর্মনিরপেক্ষতার সুরে সেদিন বল্লভভাই প্যাটেলের কর্মকে গেথেছিলেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।


    কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভিক্টোরিয়ায় যে ভাবে প্রতিক্রিয়া দিলেন তা ঠিক ১৮০ ডিগ্রি উল্টো। পাশাপাশি মোদি কিন্তু নেতাজিচর্চা থেকে একচুলও সরেননি।

    আসলে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বিপক্ষদলের ক্যাডারদের সম্পর্কের ভিয়েন কখনওই মধুর হয় না। সে আমেদাবাদ হোক আর কলকাতা, শ্রোতার আসন থেকে তির্যক মন্তব্য, শীতল ব্যবহার অপ্রত্যাশিত কিছু নয়। কিন্তু মোদির সাফল্য তিনি বিষয়টির রাজনীতিকরণ থেকে বিরত থেকেছেন সেদিনও, আজও। নেতাজি ভবন যাওয়ার পথে তৃণমূল সমর্থকদের কালো পতাকা আন্দোলন তাঁকে তাঁর লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। আসলে প্রশ্নটা ছিল অনুষ্ঠাটির সম্মানের।

    আর এখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছিয়ে রইলেন। ব্যাপক জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে বসা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেছে নিলেন সবচেয়ে সহজ পথটা। মোদির বেছে নেওয়ার পথটা কিন্তু আজও আকর্ষণীয়ই রইল বহুজনের কাছে।

    -যাপন কে পাঠন

    লেখক গুজরাটের প্রথিতযশা রাজনৈতিক সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক।

    Published by:Arka Deb
    First published:

    লেটেস্ট খবর