Kolkata ATM Fraud: ATM লুট হলে আপনার টাকা কি সুরক্ষিত? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ...

প্রায় নীরবে খাস কলকাতার বুকে রবিবার চল্লিশ লক্ষ টাকা লুট হয়ে গিয়েছে। নড়েছড়ে বসে প্রশাসন। এরপর সোমবারেও প্রায় একই কায়দায় বউবাজারের একটি এটিএম থেকে খোয়া গিয়েছে ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি৷

প্রায় নীরবে খাস কলকাতার বুকে রবিবার চল্লিশ লক্ষ টাকা লুট হয়ে গিয়েছে। নড়েছড়ে বসে প্রশাসন। এরপর সোমবারেও প্রায় একই কায়দায় বউবাজারের একটি এটিএম থেকে খোয়া গিয়েছে ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি৷

  • Share this:

    #কলকাতাঃ ভাঙা হচ্ছে না এটিএম। ফলে টেরও পাচ্ছে না কেউ। প্রায় নীরবে খাস কলকাতার বুকে রবিবার চল্লিশ লক্ষ টাকা লুঠ হয়ে গিয়েছে। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর সোমবারেও প্রায় একই কায়দায় বউবাজারের একটি এটিএম থেকে খোয়া গিয়েছে ২৫ লক্ষ টাকারও বেশি৷ পর পর দু'দিনে ৬৫ লক্ষেরও বেশি টাকা এ ভাবে লুঠ হয়ে যাওয়ায় স্তম্ভিত লালবাজারের কর্তারা।

    কিন্তু কীভাবে হচ্ছে এই জালিয়াতি? আপনার আমার টাকা সুরক্ষিত রয়েছে তো? সাইবার বিশেষজ্ঞ অভিষেক মিত্র জানিয়েছেন কীভাবে জালিয়াতরা আপনার, আমার টাকা লুঠ করছে এক্কেবারে বিনা বাধায়। অভিষেক ছবি দেখিয়ে এবং বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, 'প্রতিটি এটিএমের মেশিনের ওপর একটা পিন থাকে। সেই পিন খুলে স্ক্রিনের নিচের অংশে একটি পেনড্রাইভ বা RJ ৪৫ কেবল ঢোকানো হচ্ছে। যার সঙ্গে একটা মেশিন যুক্ত অবস্থায় থাকে। বাইরে সেই মেশিনটি বসানো থাকছে, তা দেখতে পাচ্ছেন না কেউ। সেই মেশিনটিই আসলে ভিলেন। ব্যাঙ্কের যে সার্ভার মেশিন রয়েছে এটিএমকে সংযুক্ত করার জন্য, বাইরে থাকা সেই মেশিনটি এটিএমটির সঙ্গে তার ব্যাঙ্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। যার ফলে এটি একটি ডামি সার্ভারে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। যেটির মধ্যে ম্যালওয়্যার থাকতে পারে।'

    অভিষেক আরও বলেন, "মেশিনটি যেহেতু ডামি সার্ভারে পরিণত হয়ে যাচ্ছে, তাতে হ্যাকাররা কোনও কম্যান্ড দিলে, তাতে পরের পর টাকা বেরিয়ে আসছে। সেই অবস্থায় এটিএমের মধ্যে দাঁড়িয়ে কোনও ব্যক্তি ১৫/২০ হাজার টাকা করে লক্ষাধিক টাকা তুলতে পারবেন। এটিএম না ভেঙেও লুঠ হয়ে যাবে টাকা। "

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কাশীপুর, নিউ মার্কেট এবং যাদবপুরের মতো বউবাজারের এটিএম থেকে টাকা চুরির ঘটনাতেও জড়িয়ে রয়েছে একই প্রতারক চক্র৷ এটিএম জালিয়াতির এই ঘটনার পিছনে ফরিদাবাদের একটি গ্যাং রয়েছে বলেই প্রাথমিক অনুমান পুুলিশের৷ কলকাতার জালিয়াতদের সঙ্গে হাত মিলিয়েই তারা এই প্রতারণা চালাচ্ছে বলে অনুমান তদন্তকারীদের৷

    গত ১৪ থেকে ২২ মে-র মধ্যে কাশীপুরের একটি এটিএম থেকে ৭ লক্ষ টাকা, যাদবপুরের একটি এটিএম থেকে ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং নিউ মার্কেটের একটি এটিএম থেকে ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায়৷ এই ঘটনা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করার পর পরই সামনে এল বউবাজারের এটিএম থেকে টাকা চুরি যাওয়ার খবর৷ জানা গিয়েছে, বউবাজারের একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএম থেকেও গত ১৪ মে ২৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খোয়া গিয়েছে৷ গত ২৯ মে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় ব্যাঙ্কের তরফে৷ তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশ দেখেছে, একসঙ্গে তিন প্রতারক ওই এটিএম-এ ঢুকেছিল৷ তাদের প্রত্যেকের মুখেই মাস্ক ছিল৷

    যেভাবে অত্যাধুনিক ডিভাইসের সাহায্যে আগের তিনটি এটিএম থেকে টাকা বের করে নেওয়া হয়েছিল, এক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা ধরে অপারেশন চালানো হয়েছে৷ কাশীপুরে মোট ৩৫টি ট্রানজ্যাকশন চালায় প্রতারকরা৷ নিউ মার্কেটের এটিএম-এ ৯০টি লেনদেন করা হয় আর বউবাজারে ১৩ থেকে ১৪ বারের ট্রানজ্যাকশন করে এই বিপুল টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে৷ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এটিএম-গুলির সিসিটিভি ফুটেজ৷ আশেপাশের কারও যাতে সন্দেহ না হয়, তা নিশ্চিত করতে টাকা বের করে নেওয়ার আগে বার বার এটিএম-র বাইরে বেরিয়ে আসছিল প্রতারকরা৷

    ফরিদাবাদেও একই কায়দায় এটিএম প্রতারণার ঘটনা ঘটেছিল৷ সেই কারণেই পুলিশের অনুমান, কলকাতার এই এটিএম প্রতারণা চক্রের সঙ্গেও ফরিদাবাদের ওই গ্যাং-টিই যুক্ত রয়েছে৷ একই সঙ্গে তদন্তকারীদের সন্দেহ, যে ব্যাঙ্কগুলির এটিএম-এ চুরি ঘটনা ঘটছে তাদের বা এটিএম রক্ষণাবেক্ষণে যুক্ত সংস্থাগুলির এক বা একাধিক কর্মীও এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে৷ সেই কারণেই গত পাঁচ বছরে এই ব্যাঙ্কগুলি এবং রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিরতে কারা চাকরিতে ঢুকেছেন এবং ছেড়েছেন, সেই তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে পুলিশ৷ সূত্রের খবর, ফরিদাবাদের ওই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক অভিযুক্তের সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া এক প্রতারকের মুখের মিলও পাওয়া গিয়েছে ৷

    ABIR GHOSAL

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: