B.Ed University: কাজ বাকি বহু, তাই অফিসই এখন বাড়ি! করোনায় পথ দেখাচ্ছে বাংলার বিশ্ববিদ্যালয়

অভিনব সিদ্ধান্ত

উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "কর্মী ও আধিকারিকদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই যাবতীয় কাজ পরিচালনা করবেন।"

  • Share this:

কলকাতা: এবার ওয়ার্ক ফ্রম অফিস। অন্তত এই মডেলটা এ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই চালু করে দেওয়া হল। রাজ্য বিএড বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মী থেকে শুরু করে আধিকারিকরা করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে আবার প্রায় ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন সহ পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি বাকি রয়েছে। অনলাইন পরীক্ষা হলেও রেজিস্ট্রেশন এর কাজের জন্যই কার্যত এই সিদ্ধান্ত নিল বিএড বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার রাত থেকেই বিএড বিশ্ববিদ্যালয় কর্মীদের একাংশ হোস্টেলে থেকে কাজ করা শুরু করেছেন। মূলত যারা রেজিস্ট্রেশন এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভাগের সঙ্গে যুক্ত সেই সমস্ত কর্মীদের জন্য এই ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "কর্মী ও আধিকারিকদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই যাবতীয় কাজ পরিচালনা করবেন।"

রাজ্যজুড়ে কয়েকশো বিএড কলেজ রয়েছে। অনলাইনে পরীক্ষা হলেও তার রেজিস্ট্রেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে একের পর এক কর্মী করোনাতে আক্রান্ত হচ্ছিল। এমত পরিস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশনের কাজই করা অত্যন্ত মুশকিল হয়ে যাচ্ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে। এমত অবস্থায় কর্মীদের কাছে অনুরোধ জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে যে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের থেকেই কাজ করতে চায় নাকি। কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয় তরফেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। বৃহস্পতিবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্লস এবং বয়েজ হোস্টেল এ মহিলা ও পুরুষ কর্মীদের জন্য পৃথক ভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু থাকা নয় খাওয়া-দাওয়ার ও যাবতীয় ব্যবস্থাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফেও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার স্বপন রায়।

বিশ্ববিদ্যালয় এই ব্যবস্থাপনা তে খুশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী থেকে শুরু করে আধিকারিকরা। মূলত  বর্ধমান শেওড়াফুলি সহ একাধিক জায়গা থেকে কর্মীরা প্রত্যেকদিন যাতায়াত করছিল। বর্ধমানের কাটোয়া থেকে আসা এক কর্মী বলেন " যেভাবে বাসে ভিড়ের মধ্যে আসতে হচ্ছিল সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ব্যবস্থাপনা তে অনেকটাই আশ্বস্ত হলাম। আমাদের অনেকটাই সুবিধা হলো এর ফলে।" বসিরহাট থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মহিলা কর্মী বলেন " বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পদক্ষেপের ফলে অন্তত করোনা আক্রান্ত হওয়ার জায়গা থেকে অনেকটাই আমরা নিশ্চিন্ত হলাম।" তবে শুধু ওয়ার্কশপ অফিস নয় বিশ্ববিদ্যালয় তরফের যাতে সকল কর্মী এবং আধিকারিকদের ভ্যাকসিন দেওয়া যায় সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে বলেই বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর।

Published by:Suman Biswas
First published: