Jagdeep Dhankhar Will Visit Nandigram: এবার একেবারে নন্দীগ্রামে রাজ্যপাল, বরখাস্তের দাবি উঠতেই আরও আগ্রাসী ধনখড়

চূড়ান্ত সংঘাত

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেরে যাওয়া আর শুভেন্দু অধিকারীর জিতে যাওয়া নন্দীগ্রাম থেকেও ফল পরবর্তী অশান্তির খবর মিলেছে। কোচবিহার-অসম সফর সেরে সেই নন্দীগ্রামকেই বেছে নিলেন জগদীপ ধনখড়।

  • Share this:

#কলকাতা: সবে মাত্র তৈরি হয়েছে নতুন সরকার। অবশ্য মাত্র কয়েক দিনের সরকারের সঙ্গেই চরম সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) প্রতিদিন আক্রমণ শানাচ্ছেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাজ্যের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েই তিনি গিয়েছিলেন কোচবিহারে, সঙ্গে ছিলেন বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিক। এদিন সেই নিশীথকে সঙ্গে করেই তিনি পৌঁছে যান অসমের শ্রীরামপুরে। বলাবাহুল্য, প্রতি ক্ষেত্রেই তিনি যান বাংলায় ভোটের ফল পরবর্তী অশান্তিতে আক্রান্তদের বিজেপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে। আর দুই জায়গা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তোপ দাগেন ধনখড়। এরপরই তাঁকে বরখাস্তের দাবিতে সরব হয় তৃণমূল। কিন্তু তিনি সংঘাতের পথেই থাকতে চাইছেন, তা বোঝাতে শনিবারই নন্দীগ্রামে উড়ে যাচ্ছেন রাজ্যপাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেরে যাওয়া আর শুভেন্দু অধিকারীর জিতে যাওয়া নন্দীগ্রাম থেকেও ফল পরবর্তী অশান্তির খবর মিলেছে। কোচবিহার-অসম সফর সেরে সেই নন্দীগ্রামকেই বেছে নিলেন জগদীপ ধনখড়। এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর সংঘাত যে আরও চরম মাত্রা নেবে, তা নিয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক মহল।

এদিন সন্ধেতে রাজ্যপাল নিজেই ট্যুইট করে তাঁর নন্দীগ্রাম সফরের কথা জানিয়েছেন। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে, BSF-এর কপ্টারে নন্দীগ্রাম যাবেন তিনি। সেখানে দক্ষিণ কেন্দামারি, বঙ্কিম মোড়, চিল্লাগ্রাম, নন্দীগ্রাম বাজার, টাউন ক্লাবের মতো জায়গাগুলিতে যাবেন তিনি। পুজো দেবেন জানকীনাথ মন্দিরেও। সেখান থেকে ফের হরিপুরের হেলিপ্যাডে গিয়ে ফিরে আসবেন কলকাতায়।

প্রসঙ্গত, গতকাল কোচবিহারে গিয়ে চূড়ান্ত বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন রাজ্যপাল। প্রথমে জোড়পাটকি ও পরে দিনহাটায় কালো পতাকা দেখানো হয় ধনখড়কে। ওঠে 'গো ব্যাক' স্লোগানও। তা দেখে রাস্তায় নেমে পড়েন তিনি। আঙুল উঁচিয়ে আইসি-কে ধমক দিয়ে বলেন, 'যা খুশি তাই হচ্ছে, কোনও আইন নেই।' আর এদিনই, তিনি বিজেপি সাংসদ নীশিথ প্রামাণিককে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান অসমের শ্রীরামপুরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করতে। বাংলার ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই বিজেপি দাবি করেছিল, তাদের বেশ কিছু কর্মী অসমে আশ্রয় নিয়েছেন। রাজ্যপাল আজ তাঁদের সঙ্গেই দেখা করেন। সেখান থেকেও আক্রমণ শানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। বলেন, 'ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে বাংলা।'

এরপরই গর্জে ওঠে তৃণমূল। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, 'উনি (রাজ্যপাল) এসব করে কিছু করতে পারবেন না। উনি নিজেকে পালোয়ান ভাবলে কী হবে, উনি তো পালোয়ান নন। উনি বাক্যবাগীশ।' অপর সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় সরাসরি ধনখড়ের বরখাস্তের দাবি তুলে বলেন, 'রাজ্যপাল সমাজবিরোধীদের উস্কানি দিতে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উনি হিংসায় ইন্ধন জোগাচ্ছেন। কুখ্যাত সাংসদ নিয়ে ঘুরছেন। ওনাকে বরখাস্ত করা উচিত। রাজ্যপালের বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই। বিজেপি আর রাজ্যপালের মধ্যে পর্দা উঠে গেছে। বাংলার মানুষ বুঝে নেবে।' আর এরপরই ধনখড়ের নন্দীগ্রাম যাওয়ার ঘোষণা। ফলে শনিবার রাজ্য রাজনীতির একটা বড় অংশই যে ধনখড়-মমতা সংঘাত নিয়েই আবর্তিত হবে, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

Published by:Suman Biswas
First published: