corona virus btn
corona virus btn
Loading

গড়িয়া শ্মশানকাণ্ডে ক্ষমা চাওয়ার দাবি রাজ্যপালের, পাল্টা জবাব দিল রাজ্য সরকার

গড়িয়া শ্মশানকাণ্ডে ক্ষমা চাওয়ার দাবি রাজ্যপালের, পাল্টা জবাব দিল রাজ্য সরকার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়৷

কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের প্রধান ফিরহাদ হাকিমকেও এ দিন ট্যুইটবার্তায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যপাল৷

  • Share this:

#কলকাতা: গড়িয়া শ্মশানে দাবিদারহীন মৃতদেহ পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষমা চাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে ট্যুইট করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়৷ তার পাল্টা জবাবও দিয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ রাজ্যপালের মন্তব্য করোনা যোদ্ধাদের মনোবল ভেঙে দেবে এবং তাঁদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন বলেও অভিযোগ করেছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর৷ অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের প্রধান ফিরহাদ হাকিমকেও এ দিন ট্যুইটবার্তায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যপাল৷ তিনি অভিযোগ করেছেন, নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নন ফিরহাদ৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে ট্যুইটারে এ দিন রাজ্যপাল লেখেন, 'এমন অসামাজিক এবং অসম্মাজনক ভাবে মৃতদেহ সৎকার দেখে সব মহল থেকেই তীব্র ধিক্কার জানানো হয়েছে৷ নির্মম ভাবে লোহার শিক দিয়ে পর পর মৃতদেহ টেনে নিয়ে গিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসা আমাদের রীতিনীতিকে উপেক্ষা করা হয়েছে৷ অবিলম্বে সমাজের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আর্জি জানাচ্ছি৷'

রাজ্যপাল আরও লেখেন, 'কলকাতা পুরসভার কমিশনার বিনোদ শর্মা আমাকে ১৪টি মৃতদেহ সৎকারের দুঃখজনক কাহিনি শুনিয়েছেন৷ তিনি আমায় সমস্ত তথ্য জানিয়েছেন৷ হাসপাতালে ভর্তি থেকে সৎকার পর্যন্ত সব তথ্যই আমাকে দিয়েছেন তিনি৷ এই ঘটনায় যাঁরা দোষী এবং জড়িত, তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন৷'

একই সঙ্গে অন্য একটি ট্যুইটে ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, 'কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন জনসমক্ষেই জানিয়েছেন তিনি আমায় ফোন করবেন না, যা অকল্পনীয়৷ তিনি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে অসচেতন৷ কলকাতা পুরসভার কমিশনারের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব তাঁকে আমার সঙ্গে দেখা করতে বলেছি৷ একই সঙ্গে অনুরোধ করব, কলকাতা পুরসভার গাফিলতিতে আমফানের জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কলকাতার মানুষ যে বেনজির হয়রানির মুখে পড়েছেন, তা নিয়েও আলোচনা করতে চাই৷'

রাজ্যপালের এই ট্যুইট বার্তার পরেই পাল্টা জবাব দেয় রাজ্য সরকার৷ রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের ট্যুইটারে লেখা হয়, 'পশ্চিমবঙ্গ সরকার মৃতদেহ সৎকারের সময় যথাযথ সম্মান দিতে জানে৷ করোনা অতিমারির মোকাবিলার সময়েও স্বচ্ছতার সঙ্গেই সমস্ত পদ্ধতি মেনে চলা হয়েছে৷ যাবতীয় তথ্য জনসমক্ষে আনা, পরিবারের সদস্যদের মৃতের শেষবার দেখতে দেওয়া, মৃতদেহ সৎকারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা রক্ষা করা হয়েছে৷ সাম্প্রতিক একটি এজেন্সির ভুলে দাবিহীন এবং পচন ধরে যাওয়া (দুর্ঘটনা জনিত কারণে) কয়েকটি মৃতদেহ সৎকারের ঘটনা যার সঙ্গে করোনা অতিমারির কোনও সম্পর্ক নেই, তা নিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশনের চেষ্টা চলছে৷ রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা লিখিত ভাবে এবং দেখা করে মাননীয় রাজ্যপালকে তা জানিয়েছেন৷'

রাজ্যের তরফে আরও লেখা হয়, 'বিশদে তথ্য দেওয়ার পরেও বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনাকে অতিমারির সঙ্গে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সমাজের উপর প্রভাব ফেলে, প্রশাসনের মনোবল ভেঙে দেয়, স্বাস্থ্যকর্মী সহ সামনের সারিতে থাকা করোনা যোদ্ধাদের অসম্মান করা হয়৷ গোটা রাজ্য যখন কোভিড এবং আমফানের জোড়া ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের ভুল তথ্য সমস্ত পদ্ধতি মসৃণভাবে এগনোর কাজ ব্যাহত করে৷ পশ্চিমবঙ্গ সরকার অসত্যের নিন্দা করছে৷'  
Published by: Debamoy Ghosh
First published: June 13, 2020, 7:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर