প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেদের হাতেই ভাগ্য গড়তে পথে ২ দৃষ্টিহীন বোন

প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেদের হাতেই ভাগ্য গড়তে পথে ২ দৃষ্টিহীন বোন

প্রতিবন্ধকতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নিজেদের হাতেই ভাগ্য গড়তে পথে নামলেন দুই দৃষ্টিহীন নারী।

  • Share this:

#কলকাতা: শুরু থেকে অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে চলতে হয়েছে। কিন্তু কোনদিনই হার স্বীকার করেননি ওঁরা। অন্বেষা ও অনিন্দিতা ভট্টাচার্য। সম্পর্কে ওঁরা দুই বোন। দুই বোনই জন্ম থেকে দৃষ্টিহীন। পরিবারের অবস্থাও খুব একটা সচ্ছল ছিল না। কিন্তু তাতে কি? প্রতিমুহূর্তে লড়াই করে চলেছেন জীবন যুদ্ধে।

বেহালা ব্লাইন্ড স্কুল থেকে পড়াশোনা। ইতিহাস ও বাংলায় দুই বোনই স্নাতক হয়েছেন। পড়াশোনা শেষ করে নিজের যোগ্যতাতেই চাকরি পেতে চেয়েছেন। দিয়েছেন নানা পরীক্ষা। কিন্তু না তারপরেও ভাগ্য সহায় হয়নি। সরকারি বেসরকারি কোন সংস্থাতেই চাকরি পাননি তাঁরা। এরপরেও হতাশ হননি। সহানুভূতিও চাননি কারও কাছে। স্বল্প পুঁজিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন দুই বোন। শিয়ালদহ দক্ষিণ  শাখায় লজেন্স বিক্রি করেন তাঁরা। একজন আর একজনকে আগলে রাখে সব সময়। দৈনিক আয় কমপক্ষে ৩০০ টাকা। বাজার ভালো হলে আর একটু বেশি। আর সেটাই তাদের কাছে রোজকার রুটিরুজি।

অন্বেষা-অনিন্দিতার ছোটবেলা কেটেছে বনগাঁয়। পরে বিয়ে করে ক্যানিংয়ে। তারপর থেকে সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই শুরু। একদিকে, নিজেদের ছোট ব্যবসাকে বড় করে তোলা। অন্যদিকে চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া। ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সাফল্য আসে। অনিন্দিতা বলেন, 'লড়াই না করলে সাফল্য আসে না। সেটা যে কোনও ক্ষেত্রেই হোক না কেন। তাই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আর সব জিনিসই ছোট থেকেই বড় হয়। পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই। আমরাও একটা ব্যবসা শুরু করেছি। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে চলেছি। সহানুভূতি নয় লড়াই করেই সাফল্য আনতে পারব বলেই আমার বিশ্বাস।'

অন্বেষা জানিয়েছেন, 'প্রতিবন্ধকতা প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আছে। প্রত্যেক জায়গায় সমস্যা রয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চেষ্টা যারা করেন তারাই সফল হন। চেষ্টা না করলে তো জেতার প্রশ্নই নেই। কিন্তু চেষ্টা করলেই সাফল্য আসবে।' শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নিত্য যাত্রীরাও অনেকেই লজেন্স কেনেন দুই বোনের কাছ থেকে। বিকাশ দাস নামে এক নিত্যযাত্রী বলেন, 'দক্ষিণ শাখায় অনেক দৃষ্টিহীন মানুষকে দেখি ভিক্ষা করতে। তাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো কোনও কাজ করতে পারতেন। তার বদলে মানুষের সহানুভূতি নিয়েই চলতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই দুই বোনকে সত্যিই কুর্নিশ জানাতে হয়।' লীলা ঘোষ নামে এক মহিলা যাত্রী বলেন, 'প্রতিটা কাজেই পরিশ্রম রয়েছে। কোনও কাজ ছোট নয়। কিন্তু মানুষের জীবনে জেদ থাকলে স্বপ্ন থাকলে তাঁরা সফল হবেনই। এদের ক্ষেত্রেও সেটাই হবে আজ অথবা কাল।'

UJJAL ROY

First published: March 8, 2020, 9:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर