খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী ‌কাজল সিনহার মৃত্যুতে কমিশন-কর্তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করলেন স্ত্রী

খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী ‌কাজল সিনহার মৃত্যুতে কমিশন-কর্তাদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করলেন স্ত্রী

কাজল সিনহার মৃত্যুতে কমিশনের কর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁর স্ত্রীর

খড়দহ থানায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছেন তিনি।

  • Share this:

#কলকাতা: করোনা আক্রান্ত হয়ে অকালেই চলে গিয়েছেন খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহা। এবার স্বামীর মৃত্যুর জন্য উপনির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈন ও অন্যান্য বরিষ্ঠ কর্তাদেরই দায়ী করলেন তাঁর স্ত্রী নন্দিতা সিনহা। খড়দহ থানায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছেন তিনি।

নন্দিনীদেবীর বিবৃতিতে ছত্রে ছত্রে অভিযোগ উঠে এসেছে কমিশনের বিরুদ্ধে। তাঁর যুক্তি শুধু তাঁর স্বামীই নয়, কমিশনের ব্যবস্থাপনার অভাবে মৃত্যু হয়েছে জঙ্গিপুরের প্রার্থী রেজাউল হক, প্রদীপ নন্দীর। কিন্তু সংকটের মধ্যে তৃণমূল থেকে বারংবার দফা সংযুক্তিকরণের কথা উঠলেও, কমিশন গা করেনি। নন্দিনীদেবীর অভিযোগ, পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখেও কমিশন সন্ধে সাতটার পর সভা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনও পদক্ষেপই করেনি। তাঁর যুক্তি হাইকোর্টের সাবধধানীতেও নড়েচড়ে বসেনি কমিশন এবং তার ফলেই আরও একজন প্রার্থী সমীর দাস (বৈষ্ণবনগর, নির্দল) প্রয়াত হয়েছেন। নন্দিনীদেবীর যুক্তি, অতীতে প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনা থেকেও কিছুমাত্র শিক্ষা নেয়নি কমিশন। এবং জমায়েত রুখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেয তাঁর স্বামীর মৃ্ত্যুর জন্য সেক্ষেত্রে নন্দিনীদেবী আঙুল তুলছেন সুদীপ জৈন সহ একাধিক অফিসারের দিকে। ২৬৯,২৭০ এবং ৩০৪ নং ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত করছেন তিনি কমিশন সদস্যদের।

এই  প্রসঙ্গে আজ মুখ খোলেন তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ হাকিম নিউজ১৮-কে বলেন,  কাজল সিনহার বউ অভিযোগ করেছেন আজ। একই কথা আমরা বারবার কমিশনকে জানিয়েছিলাম করোনা সংক্রমণ যখন এতটা ছড়ায়নি। প্রচুর লোককে অন্য রাজ্য থেকে আনা হয়েছে। বাংলায় কোভিড নিয়ন্ত্রণেই ছিল তার আগে। এরা এসে কোভিড বাড়িয়ে দিল। কিছুতেই শেষ দফা তিন ভোট সংযুক্ত করল না কমিশন৷ বরং সকাল বেলা প্রচারের সময় ছেড়ে রাখলেন তারা। বিজেপির সভায় লোকাল ভিড় হচ্ছিল না তাই নিয়মিত বাইরে থেকে লোক আনত। বৌদি যা করলেন, সেটা আমরা আগেই বলেছিলাম। ফিরহাদের আরও সংযোজন একজন সংবেদনশীল প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  দরকার ছিল। দুর্ভাগ্য মোদি-শাহ তেমনটা নন। সব প্রতিষ্ঠানকে তারা গ্রাস করে নিয়েছে। সাংবিধানিক সংকট হয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য নির্বাচনী লড়াইয়ের ২৪ ঘণ্টা আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন কাজল সিনহা।  গত ২৫ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার গভীর শোক প্রকাশ করেন কাজল সিনহার মৃত্যুতে।

Published by:Arka Deb
First published: