Narada Scam: 'রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছে বিজেপি', জামিন পেয়েই সোশ্যালে ক্ষোভ উগরে দিলেন ফিরহাদ হাকিম

জামিন পেয়েই সোশ্যালে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ফিরহাদ হাকিম

জামিন পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

  • Share this:

    #কলকাতা: সকাল থেকে টানটান উত্তেজনা লেগেছিল সিবিআই ও তৃণমূল নেতামন্ত্রীদের মধ্যে। অবশেষে যেদিন গ্রেফতার হলেন সেদিনই জামিন পেলেন নতুন সরকারের পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim), পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় (Subrata Mukherjee), তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) ও প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় (Sovan Chatterjee)। ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দিয়েছে সিবিআই আদালত। জামিন পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। দাবি করলেন বাংলার মানুষের প্রতি বিজেপির প্রতিশোধমূলক আচরণের জন্যই আজকের এই ঘটনা।

    ফিরহাদ ফেসবুকে লিখেছেন, "আজ শুধু আমাকে ও আমার সহকর্মীদের হেনস্থাই করা হলো না। পাশাপাশি বাংলার মানুষের প্রতিও বিজেপি প্রতিশোধমূলক আচরণ দেখাল। বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে বিপুল ভোটে জয়ী করায় ওদের রাগ প্রকাশ পেল। বাংলাকে দখল করতে বিজেপি কোভিড সংক্রান্ত কাজও থামিয়ে দিতে চায়। দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর থেকেও ওদের কাছে বাংলাকে দখল করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"

    নির্বাচন শুরুর আগেও তৃণমূল শিবিরের একাধিক নেতামন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছিল সিবিআই-এর চিঠি। আর নির্বাচন শেষে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূল সরকার গঠন করতেই ফের সিবিআই তৎপর হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলছেন, "২০১৪-য় মনগড়আ স্টিং অপারেশনের কিছুই প্রমাণ হয়নি। ভোটের আগে আমাদের হেনস্থা করতে বিষয়টিকে টানা হয়েছিল। আর এখন তৃণমূল ক্ষমতায় আসায় প্রতিশোধ নিতে এই বিষয়টি টানা হচ্ছে।"

    নির্বাচনে ঘনঘন বাংলায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়াও বিজেপির নেতা মন্ত্রীদের নিয়ে একাধিক মেগা শো হয়েছে বাংলায় করোনাকালেই। পরিবহন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলছেন, "বিজেপি নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। তথ্যের অধিকার আইনের দ্বারা আমরা পিএম কেয়ার ফান্ডের হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারব না। তাই প্রশ্ন হল দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য কেন দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রস্তুত করেন পিএম কেয়ার ফান্ড।"

    তিনি দাবি করছেন নারদ কেলেঙ্কারির স্টিং অপারেশনটির কোনও ভিত্তি ও প্রমাণ নেই। তাঁর কথায়, "আমার কয়েকজন সহকর্মী এই চাপে নিজেদের মাথা নীচু করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং আজ সিবিআই এর গ্রেফতারি থেকে বেঁচেছেন। দেশের মানুষ যখন সহনাগরিকদের হারাচ্ছেন, তখন বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিশোধ তুলছে।"

    প্রসঙ্গত, সকাল থেকেই রাজ্যরাজনীতি এই ঘটনা নিয়ে তোলপাড়। নারদ কেলেঙ্কারিতে সিবিআই-এর হাতে এদিনই গ্রেফতার হন মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও শোভন চট্টোপাধ্যায়। এরপরই সটান নিজাম প্যালেসে, সিবিআই দফতরে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেখানে প্রায় ৬ ঘণ্টা ছিলেন তিনি। প্রথমে সিবিআই-এর কর্তাদের উদ্দেশে তাঁকে গ্রেফতার করার দাবি জানান মমতা। এরপর অবশ্য দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা বাদে নিজাম প্যালেস থেকে বেরোনোর সময় বলে যান, 'আদালতেই যা হওয়ার হবে।' সেই আদালতেই নির্দেশেই গ্রেফতার হওয়ার দিনই জামিন পেয়ে গেলেন ফিরহাদ, সুব্রতরা।

    Published by:Swaralipi Dasgupta
    First published: