কলেজ স্ট্রিটে প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের অবরোধ, বন্ধ রাস্তায় দুর্ভোগে 'অসহায়' ট্রাম

কলেজ স্ট্রিটে প্রেসিডেন্সির পড়ুয়াদের অবরোধ, বন্ধ রাস্তায় দুর্ভোগে 'অসহায়' ট্রাম

প্রেসিডেন্সি পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে চারটি ট্রামের ১২ জনকে আটতে থাকতে হল তাঁদের ট্রামেই

  • Share this:

#কলকাতা: দুপুর সাড়ে তিনটেয় ডিউটি শুরুতে সবাই যে যার কাজ ভাগ করে নিয়েছিলেন।  প্রতিদিনের মত ট্রাম চলছিল ব্যাস্ত কলকাতার লাইন ধরে এক ডিপো থেকে অন্য ডিপো।  একটি বেলের আওয়াজেই রোজের মত থেমে যাচ্ছিল ট্রাম। যে যার মত ট্রামে উঠে পড়ে আবার নেমেও যায় গন্তব্যে। তখন ট্রাম কর্মীদের ডিউটি শেষ হতে বাকি মাত্র ২ঘণ্টা।  সন্ধ্যা ৬ টায় উল্টোডাঙ্গাগামী ও শ্যামবাজারগামী একজোড়া ট্রাম এসে দাঁড়ায় এম জি রোড ক্রসিং-এ।

অবরোধ, আন্দোলনের মহানগরে ট্রামের সামনে অবরোধ নতুন নয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্সি পড়ুয়াদের অবরোধ শুরু হতেই ট্রাম চালক ও কন্ডাক্টররা শুরু করেন অবরোধ উঠে যাওয়ার অপেক্ষা।  তবে এই অপেক্ষা যে এত দীর্ঘ হতে পারে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।  মিনিট দশের মধ্যে সব যাত্রী ট্রাম ছেড়ে পায়ে হেঁটে চলে গেলেও যেতে পারেননি চালক ও কন্ডাক্টর।  চাকরির বিভিন্ন নিয়মের মধ্যে এই দায়বদ্ধতা থাকলেও ত্রিশ বছরের এই অভিজ্ঞতা হয়নি ৭০৭ নম্বর ট্রাম কন্ডাক্টর মলয় শঙ্কর শাহুর। সন্ধ্যায় অবরোধের সময় এক ঘণ্টা পাড় হতেই পুলিশের সাহায্য নেওয়া হয়। পুলিশ ট্রামের জন্য আন্দোলনকারীদের আবেদন জানালেও সাড়া দেয়নি কেউ। অগত্যা, পরিবহন দফতরের কর্তৃপক্ষের কাছে ফোন করে সমস্ত সমস্যার কথা জানানো হলেও প্রেসিডেন্সি পড়ুয়াদের আন্দোলনের জেরে চারটি ট্রামের ১২ জনকে আটতে থাকতে হল তাঁদের ট্রামে।

শহরে ট্রাম অনেক রাস্তাতেই বন্ধ,  ট্রামের গুরুত্ব হয়তো কমেছে ব্যাস্ত শহরের মানুষের কাছে। বৃহস্পতিবার রাতে আটকে পড়া ট্রাম কর্মীদের কাছে এখনও  গুরুত্বপূর্ণ এই দুই কামড়ার ট্রাম। এদিন হাওড়া থেকে শেষবারের মত যাত্রা শুরু করেছিল ৭০৭ ও ২২৫ নম্বর ট্রাম উল্টোডাঙ্গার উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে ধর্মতলা থেকে দ্বিতীয়বার যাত্রা চলছিল ৭০২ ও ৬৩৭ নম্বর ট্রামের, শ্যামবাজারের উদ্দেশ্যে। ঘটনাচক্রে একই সময়ে এম জি রোডে চলে আসে  ৪টি ট্রাম।  সন্ধে ৬ টায় অবরোধ শুরু,  ব্যাস, রাতভর এম জি রোড ক্রসিং-এ  দাঁড়িয়ে ট্রাম।  চাকরির মেয়াদ শেষ হতে আর ৯মাস বাকি মলয়বাবুর। বৃহস্পতিবার ট্রামের জন্য আটকে পড়ে তিনি জানালেন, ' এতদিনের চাকরি জীবনে ট্রাম অবরোধের জন্য অনেকবার অপেক্ষা করেছি, কিন্তু সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত হয়নি কোনওদিনই। এখন ভরসা সকাল হলেই নতুন কর্মীর, উনি এলেই ছুটি, এম জি রোডে এটাই শেষ ডিউটি।'

Susovan Bhattacharjee

First published: March 6, 2020, 12:12 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर