কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাথরুম জুড়ে পানের পিক, ঘুরছে মাছি, গুটখার প্যাকেট আটকে বন্ধ বেসিনের কল, নেই জল- এ দৃশ্য ট্রেনের!

বাথরুম জুড়ে পানের পিক, ঘুরছে মাছি, গুটখার প্যাকেট আটকে বন্ধ বেসিনের কল, নেই জল- এ দৃশ্য ট্রেনের!

শৌচালয় জুড়ে শুধুই পানের পিক। বেসিন জুড়ে পোড়া বিড়ি আর সিগারেটের টুকরো

  • Share this:

#কলকাতা: গা ঘিনঘিন করা শৌচালয়। বাথরুমের দেওয়াল জুড়ে শুধুই পানের পিক। ভন ভন করে ঘুরে বেড়াচ্ছে মাছি। অধিকাংশ সময় মিলছে না জল। বেসিন জুড়ে গুটখার প্যাকেট নলের মুখে আটকে। কোনও বেসিনে আবার পোড়া বিড়ি বা সিগারেট পড়ে রয়েছে। ফলে জল যাওয়ার ব্যবস্থা  পুরোপুরি বন্ধ। স্টিলের বেসিনের রঙ বদলে বাদামী বা লাল হয়ে আছে। বহুদিন ধরে পরিষ্কার না করায়। এমনটাই দশা ৬৩০১৫ শিয়ালদহ থেকে মুর্শিদাবাদ অবধি লালগোলা মেমু প্যাসেঞ্জারের।

এই ট্রেনে চার ঘন্টার যাত্রায় শৌচালয় ব্যবহার করা রীতিমতো কষ্টকর বলে দাবি যাত্রীদের। অভিযোগ পাওয়ার পরেও রেল কি আদৌ কোন ব্যবস্থা নেবে? প্রশ্ন যাত্রীদের। শিয়ালদহ থেকে লালগোলা অবধি যাওয়ার জন্য ট্রেনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। ফলে যে কয়েকটি ট্রেন যাতায়াত করে তাতে যাত্রীর চাপ প্রচুর থাকে। বিশেষ করে যারা   প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করেন তাদের জন্য রাতের লালগোলা মেমু প্যাসেঞ্জার গুরুত্বপূর্ণ। রাত ৮ঃ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া এই ট্রেন মোট ৩১টি স্টেশনে যাত্রী ওঠা নামা করায়। প্রায় চার ঘন্টা ৪৫ মিনিটের এই যাত্রায় ট্রেন লালগোলা পৌছয় রাত ১ঃ০৫ মিনিটে। রাতের ট্রেন হওয়ার কারণে ২৩১ কিলোমিটার এই যাত্রাপথে অনেকেই শৌচালয় ব্যবহার করেন। ট্রেনের কামরার সেই শৌচালয়ের এমন হাল দেখে বিস্মিত যাত্রীরা। পরিষেবার মান এমন কেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরাও।

 এই মেমু ট্রেনের কারশেড হচ্ছে শিয়ালদহ ও কৃষ্ণপুরে। আদৌ এই দুই কারশেডে এই ট্রেনের কোচগুলির দেখভাল করা হয় কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। গত দু'বছর ধরে ভারতীয় রেলে স্বচ্ছতা অভিযানের ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশনেও চলেছে ক্লিনলেস ড্রাইভ। ডিভিশনের বিভিন্ন আধিকারিকদের এই বিষয়ে জোর দিতেও বলা হয়েছে। এই ট্রেনে যাতায়াত করেন অভয় ভরত শৌচালয়ের এই হাল নিয়ে অভিযোগও দায়ের করেছেন। তার পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তার অভিযোগ। তিনি বলেন, "এই নোংরা পরিবেশে যদি আমাদের যাতায়াত করতে হয়, তাহলে অসুস্থ হতে আমরা বাধ্য। শৌচালয় পরিষ্কার রাখা তো একটা বেসিক কাজের মধ্যে। সেটাই মেনে চলা হচ্ছে না।"

পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন ডিভিশনের আধিকারিকরাও। তাদের বক্তব্য, বেসিন, শৌচালয় সব জায়গাতেই পানের পিক, পোড়া বিড়ি বা সিগারেটের টুকরো পড়ে আছে। এগুলো তো আর রেলের লোক এসে ফেলে যায়নি। এগুলো ফেলে নোংরা করছে যাত্রীরাই। ফলে তারা যদি সচেতন না হয় তাহলে কি আর করা যাবে? ফলে এই নোংরার দায় যাত্রীদের দিকেই ঠেলে দিচ্ছে রেল। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী বলেন, দায় চাপানোর ব্যপার নয়, যদি রেলের তরফে কাজ না হয়ে থাকে সেটা অবশ্যই রেল দেখবে। কিন্তু যাত্রীদেরকেও বুঝতে হবে ট্রেনটা নোংরা করার জায়গা নয়। পরিষ্কার রাখলে সেটা তাদের পক্ষেই স্বাস্থ্যকর হবে।

ট্রেনের এই অবস্থা দেখে হতবাক চিকিৎসকরা। এমন অবস্থা থাকলে জীবাণু থেকে ইউরিনারি ইনফেকশন অবধি হতে পারে বলে মত তাদের। শৌচালয়গুলির অবস্থা অবশ্য দেখে বোঝা যায় বহুদিন এগুলি যথাযথ ভাবে পরিষ্কার করা হয়না। এখন শিয়ালদহ ডিভিশনে বিভিন্ন এজেন্সির লোক ছাঁটাই করা হচ্ছে। যারা শৌচালয় পরিষ্কার করবেন তারাই আবার বেডরোল দেবেন। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেনে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ফলে কারশেডে আদৌ যথাযথ ভাবে পরিষ্কারের কাজ হয় কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তবে ডি আর এম শিয়ালদহ জানিয়েছেন, পরিষ্কার ভাবে যাতে ট্রেন যাত্রীদের নিয়ে যাতায়াত করতে পারে সেই ব্যবস্থাই করা হবে।

ABIR GHOSHAL

Published by: Elina Datta
First published: March 2, 2020, 8:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर