একের পর এক ট্রেন বাতিল, চরম দূর্ভোগে রোগী থেকে পর্যটকেরা

একের পর এক ট্রেন বাতিল, চরম দূর্ভোগে রোগী থেকে পর্যটকেরা

পর্যটকেরা কোনো সমস্যায় পড়লে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে হিমালয়ান হসপিটালিটি এণ্ড ট্যুরিজম নেটওয়ার্কের কর্তারা।

  • Share this:

PARTHA PRATIM SARKAR

#কলকাতা: সোমবারেও বাতিল একাধিক ট্রেন। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে। সি এ এ ইস্যুতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক স্টেশনে ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগের ঘটনার জেরেই রবিবার থেকে বাতিল সব ট্রেনই। পদাতিক এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, পাহাড়ীয়া এক্সপ্রেস, শতাব্দী, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস। একের পর এক ট্রেন বাতিল। গুয়াহাটি থেকেও ভিন রাজ্যে যাওয়ারও বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আর এর ফলে সমস্যায় পড়েছেন পর্যটক থেকে রোগী এবং রোগীর আত্মীয়রা।

এখানকার অনেক বাসিন্দাই চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্গালোর, চেন্নাই, দিল্লি, হায়দ্রাবাদ যান। টিকিটও কেটে রেখেছিলেন মাস দুই-তিনেক আগে থেকেই। কিন্তু ট্রেন বাতিলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। কবে আবার টিকিট মিলবে তার চিন্তায় রুগী এবং তাদের আত্মীয়রা। অন্যদিকে ভিন রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নামও লিখিয়ে রেখেছিলেন বহু দিন আগে থেকেই। ট্রেন বাতিলের জেরে এখন আতঙ্কের ছবি তাদের চোখে মুখে। আবার কবে মিলবে চিকিৎসকের সময়? তা নিয়েই উদ্বিগ্ন তারা।

ঠিক তেমনি উত্তরবঙ্গে বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকেরা। দার্জিলিং, সিকিম এবং ডুয়ার্সে অনাবিল আনন্দে কাটিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দূর্ভোগ চরমে উঠেছে পর্যটকদের। ঘোরার পুরো মজাটাই ফিকে হয়ে গেল বাড়ি ফেরার সময়ে। একের পর এক ট্রেন বাতিলে চরম দূর্ভোগে পর্যটকেরা। গতকাল রাতভর এনজেপি স্টেশনেই কাটিয়েছেন অনেক পর্যটক। ঘোরার খরচের বাজেট বাড়িয়ে দিয়েছে ট্রেন বাতিল। বিমানের টিকিটও ঊর্ধমুখী। বাসেও লম্বা লাইন। সবমিলিয়ে নাজেহাল অবস্থা তাদের। দ্রুত রাজ্য সরকার পদক্ষেপ নিক। পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান পর্যটন ব্যবসায়ীদের।

পর্যটকেরা কোনো সমস্যায় পড়লে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে হিমালয়ান হসপিটালিটি এণ্ড ট্যুরিজম নেটওয়ার্কের কর্তারা। সংগঠনের সভাপতি সম্রাট সান্যাল জানান, সামনেই বড় দিনের মরসুম। পুজোয় পর্যটনের মরসুম মন্দা ছিল। বছরের শেষ মরসুমে তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন এমনটাই ভেবে ছিল পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু উল্টে আরও অনিশ্চয়তার মাঝে তারা। এখন পর্যটকেরা প্রতিনিয়ত ফোন করে খোঁজখবর নিচ্ছেন। পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সের সব কটেজ, হোটেল, হোম স্টে প্যাকড আপ। এমনটা চললে বুকিং দ্রুত বাতিল হবে। পর্যটকেরাও ফোনে তেমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন। ঘুরতে এসে হয়রানির শিকার পর্যটকেরাও চাইছেন দ্রুত সরকার পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করুক। প্রতিনিয়ত এখন সোশ্যাল মিডিয়া আর টিভির পর্দায় চোখ পর্যটকদের। পরিস্থিতির আপডেট জেনে নিচ্ছেন। ঘোরার দিনও যে ঘনিয়ে আসছে। সবমিলিয়ে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ পর্যটন শিল্পেও। কেননা পর্যটন শিল্পে যোগাযোগ মাধ্যমই সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। সংগঠনের পক্ষ থেকে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল, বাগডোগরা বিমান বন্দরের কর্তাদের কাছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার আর্জি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

First published: 04:20:48 PM Dec 16, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर