corona virus btn
corona virus btn
Loading

২০২২-এও পর্যটন শিল্প মাথা তুলবে কিনা সন্দেহ, হাজার হাজার ছাঁটাইয়ে দিশেহারা কর্মীরা

২০২২-এও পর্যটন শিল্প মাথা তুলবে কিনা সন্দেহ, হাজার হাজার ছাঁটাইয়ে দিশেহারা কর্মীরা

পর্যটন শিল্প খুব খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে। কবে এর বদল হবে, আদৌ কতটা বদল হবে, তা বলা শক্ত। এখন থেকে যদি পরিস্থিতির বদল হতে শুরু করে, তা হলেও স্বাভাবিক হতে ২০২২ সাল তো লাগবেই।

  • Share this:

SHALINI DATTA

#কলকাতা: পরিস্থিতি এক। করোনার হানায় বাড়ি থেকে বেরনোই দায়, তার উপর বেড়াতে বেরনোর তো কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

পরিস্থিতি দুই। করোনার বাড়বাড়ন্তে বিদেশির আনাগোনায় কড়া নিষেধাজ্ঞা। কবে আবার তা উঠবে, বিদেশিরা এ দেশে বেড়াতে আসবেন, তা-ও কেউ জোর দিয়ে বলতে পারছেন না।

পরিস্থিতি তিন। করোনার প্রকোপে কর্পোরেট মানে এখন কার্যত ঘরে বসে কাজ। কাজেই কর্পোরেট মিটিং বা সেমিনার বলতে এখন আর ব্যাঙ্কক, সিঙ্গাপুরের মতো কোনও ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন নয়, ঘরে বসে স্রেফ ভিডিও কলে ভার্চুয়াল মিটিং।

এ সব রকম পরিস্থিতির জন্য অবশ্যই করোনার প্রকোপ দিন দিন বেড়ে চলাই কারণ। কিন্তু ফলাফলটা মারাত্মক। আচমকা করোনা হামলায় যদি বিভিন্ন শিল্পের ক্ষতি কিংবা মন্দা এসে থাকে তো পর্যটন শিল্প কার্যত লাটে ওঠার মুখে। কোথায়, কবে, কী ভাবে পর্যটন আবার শুরু হবে, তা হলফ করে কেউই বলতে পারছেন না। যদি বা পারছেন, তা স্থানীয় পর্যটকরা কবে আসবেন, তার হিসেবনিকেশ। কিন্তু পর্যটনে তো লাভের মুখ দেখান বিদেশি পর্যটকেরা। সেই বিদেশি পর্যটকেরা আবার কবে আসতে পারবেন, আদৌ আসতে পারবেন কি না, তা পর্যটন শিল্পে যুক্ত মালিক-কর্মী তো নয়ই, খোদ কেন্দ্রীয় সরকারও বলতে পারছে না।

এই অবস্থায় ক্রমেই অন্ধকারে চলে যাচ্ছে ভারতের অন্যতম সফল পর্যটন শিল্প। বহু সংস্থা বিশেষত ছোটখাটো সংস্থা ইতিমধ্যেই পাততাড়ি গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়েছে। বড় সংস্থাগুলি যদিও বা কোনও রকমে টিকে রয়েছে, কিন্তু তাতেও কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার কর্মী। দীর্ঘদিন পর্যটন শিল্পে কর্মরত উত্তম থাপা যেমন কাজ হারিয়ে কার্যত দিশেহারা। উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দা উত্তম কলকাতায় ভাড়া থাকেন। বলছেন, "৩-৪ মাস হয়ে গেল মাস গেলে কোনও বেতন পাই না। ঘরভাড়া দিতে পারছি না। জমানো পুঁজি শেষ হওয়ার মুখে। এ বার মনে হয় বাড়িতেই ফিরে যেতে হবে।" আর এক পর্যটন-পেশাদার প্রিয়ম দত্ত অবশ্য কলকাতারই মেয়ে । ওঁর কথায়, "চাকরি তো নেই। বাচ্চাদের স্কুলের মাইনে কোথা থেকে দেব, তাও বুঝতে পারছি না। ভাবছি, পর্যটন ছেড়ে অন্য কোনও পরিষেবা শিল্পে চাকরি খুঁজব। কিন্তু পরিস্থিতি যা, সেটাও যে পাব তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই।"

পরিস্থিতি যে ফিরবে বা আদৌ ফিরবে কি না, এমন কথা কেউই বলতে পারছেন না। এমনকী দিশা দেখাতে পারছেন না সংস্থাগুলির সংগঠনও। আইএটিও-র চেয়ারম্যান দেবজিৎ দত্ত যেমন বলছেন, "এই পরিস্থিতির চট করে কোনও উন্নতি হবে বলে তো মনে হচ্ছে না। পর্যটন শিল্প খুব খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে। কবে এর বদল হবে, আদৌ কতটা বদল হবে, তা বলা শক্ত। এখন থেকে যদি পরিস্থিতির বদল হতে শুরু করে, তা হলেও স্বাভাবিক হতে ২০২২ সাল তো লাগবেই।"

এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুর অপারেটর্সের চেয়ারম্যান কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বিদেশি পর্যটক না আসা পর্যন্ত এই পরিস্থিতির বদল হওয়া মুশকিল। আর তা না হলে আরও ছাঁটাই হবে। আরও সংস্থা বন্ধ হবে। এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।"

Published by: Simli Raha
First published: June 10, 2020, 8:22 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर