লোকসভার ফল নিয়ে আজ বৈঠক তৃণমূলনেত্রীর, প্রশ্নের মুখে জেলা নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ

News18 Bangla
Updated:May 25, 2019 10:49 AM IST
লোকসভার ফল নিয়ে আজ বৈঠক তৃণমূলনেত্রীর, প্রশ্নের মুখে জেলা নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ
News18 Bangla
Updated:May 25, 2019 10:49 AM IST

#কলকাতা: আজ লোকসভার ভোটের ফলাফল নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করবেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রীর বাড়িতে হবে বৈঠক। বৈঠকে থাকবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। ডাকা হয়েছে সব জেলার পর্যবেক্ষকদের। থাকবেন জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরাও। এবার লোকসভা ভোটে ২২টি আসন পেয়েছে তৃণমূল। কেন এই ফল? কোথায় গাফিলতি? এসব নিয়ে কাটাছেঁড়া চলবে পর্যালোচনা বৈঠকে। ২০২১-র বিধানসভা নির্বাচনে দলের স্ট্রাটেজি নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা বৈঠকে।

তাঁরা ভোটে দলের মুখ ছিলেন না। কিন্তু দলীয় প্রার্থীদের জেতানোর দায়-দায়িত্ব ছিল তাঁদের ঘাড়েই। দিনের শেষে বিজেপির কাছে জমি হারিয়ে, প্রশ্নের মুখে তৃণমূলের একডজন জেলা নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

তিনি তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা। দলীয় সমীকরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। তাই জেলা তৃণমূল সভাপতি হিসেবে, উত্তর চব্বিশ পরগনার পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থীদের জেতানোর দায়িত্ব ছিল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ঘাড়েও। কিন্তু ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে, বারাকপুর আর বনগাঁয় ঘাসফুল ছেঁটে পদ্মের চাষ করেছে গেরুয়া শিবির। বারাকপুরে অর্জুনের সঙ্গে সম্মানের লড়াইয়ে এঁটে উঠতে পারেননি জ্যোতিপ্রিয়। ঠাকুরনগরের মতুয়া বাড়িতে বারে বারে ছুটে বেড়ালেও, ধরে রাখতে পারেননি মতুয়া ভোট। এমনকি নদিয়ার মতুয়া অধ্যুষিত রানাঘাটও হাতছাড়া তৃণমূলের। সবমিলিয়ে ব্যর্থদের তালিকায় শীর্ষে তৃণমূলের বালু।

রবীন্দ্রনাথ ঘোষ

কোচবিহার ছিল তাঁর কাছে সম্মানের লড়াই। কারণ প্রতিপক্ষ তৃণমূলেরই প্রাক্তনী। যে বয়স এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় তাঁর থেকে অনেকটাই ছোট। দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে তাই রাস্তায় নেমে ভোট করিয়েছিলেন জেলা তৃণমূল সভাপতি এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কিন্তু ভোটে বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের কাছে হেরে সম্মানের লড়াইয়েও হারলেন রবীন্দ্রনাথ।

Loading...

সৌরভ চক্রবর্তী

একদিকে তিনি আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতি। অন্যদিকে আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রের বিধায়কও। তাই তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানোর মূল দায়িত্ব ছিল সৌরভ চক্রবর্তীর ঘাড়ে। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী জন বার্লার কাছে ধরাশায়ী হয়ে, দলের মান রাখতে ব্যর্থ সৌরভ চক্রবর্তী।

অমল আচার্য

ভোটের অনেক অগে থেকেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জেরবার ছিল উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল। ইভিএমে তার প্রতিফলন আটকানোই চ্যালেঞ্জ ছিল জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্যের কাছে। কিন্তু ভোটের ফলে স্পষ্ট, সে কাজে পুরোপুরি ব্যর্থ তিনি। রায়গঞ্জ কেন্দ্রে কানাইয়ালাল আগরওয়ালের হারের পিছনে উঠে আসছে দলের গোষ্ঠী কোন্দলের তত্ত্বই।

বিপ্লব মিত্র

তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের একই ছবি দক্ষিণ দিনাজপুরেও। জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্রের আপত্তি উড়িয়েই দ্বিতীয়বারের জন্য বালুরঘাটে প্রার্থী করা হয়েছিল নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষকে। ভোটের ফলে অর্পিতার হারে তাই প্রশ্ন উঠে গেল বিপ্লব মিত্রের ভূমিকা নিয়ে।

বিনয় তামাং

পাহাড়ে গুরুংয়ের প্রভাব ঠেকাতে, তাঁকে জিটিএ চেয়ারম্যান পদে বসিয়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়ে তৃণমূল প্রার্থীকে জেতানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে সমর্থন দিয়েছিলেন দার্জিলিং বিধানসভা উপনির্বাচনেও। দিনের শেষে সবেতেই হার বিনয় তামাংয়ের। লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থীকে জেতাতেও ব্যর্থ। নিজেও দার্জিলিং বিধানসভায় জিততে ব্যর্থ।

শান্তিরাম মাহাত

গতবছরের নির্বাচনে পুরুলিয়া জেলায় কার্যত জেলা পরিষদই হাতছাড়া হয়েছিল তৃণমূলের। তাই গড় ধরে রাখার চাপ ছিল জেলা তৃণমূল সভাপতি শান্তিরাম মাহাতর। কিন্তু ভোটে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয়ে প্রশ্নের মুখে শান্তিরামের ভূমিকা।

অজিত মাইতি

গত লোকসভা ভোটে মেদিনীপুর আসন থেকে বিপুল ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যা রায়। মেদিনীপুরের সাতটির মধ্যে ছ’টি বিধানসভা আসনেই ফুটেছিল ঘাসফুল। পাচবছর পেরিয়ে লোকসভা ভোটে সেই ঘাসফুলই পদ্মে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি।

জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও মলয় ঘটক

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত লোকসভা ভোটে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছিল আসানসোল লোকসভা আসনটি। সেই দ্বন্দ্ব মেরামতি করে, দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর দায়িত্ব ছিল আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি এবং মন্ত্রী মলয় ঘটকের ঘাড়ে। মুনমুন সেনকে জেতানোর প্রশ্নে কার্যত মেয়র পদ বাজি রেখেছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। কিন্তু দ্বিতীয়বার বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়র কাছে হারের পর, জিতেন্দ্র তিওয়ারি ও মলয় ঘটকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল।

কোথাও দুর্নীতি, স্বজনপোষণ। কোথাও গোষ্ঠীকোন্দল। কোথাও আবার বিজেপির ধর্মীয় মেরুকরণ ঠেকাতে না পারার ব্যর্থতা। তৃণমূলের ফলাফল কাঁটাছেঁড়া করতে বসে, এই কারণগুলির দিকেই আঙুল তুলছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞতা। এরফলেই উন্নয়ন সত্ত্বেও সব মানুষের পূর্ণ সমর্থন পেল না ঘাসফুল শিবির। বাংলার উর্বর মাটিতে ফুটল পদ্মফুল।

First published: 10:49:13 AM May 25, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर