ড্রোন নিয়ে কড়া কেন্দ্র, থাকতে হবে কেন্দ্রীয় অনুমতি, না হলেই বিপদ

ড্রোন নিয়ে কড়া কেন্দ্র, থাকতে হবে কেন্দ্রীয় অনুমতি, না হলেই বিপদ

বিয়ের অনুষ্ঠান হোক বা ফটোগ্রাফি এখন যে কেউ বাজার থেকে ড্রোন কিনে ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। যা আসলে নিরাপত্তার দিক থেকে বিপদজনক বলে দ

  • Share this:

#কলকাতা: কিছুদিন আগেই সংরক্ষিত অরণ্যে ড্রোন উড়িয়ে জরিমানা দিতে হয়েছে চিত্র পরিচালক সৃজিতকে। মুম্বই, দিল্লি, হায়দরাবাদ বিমানবন্দরে বিমান ওঠা নামা করার সময় পাইলট মাঝে মধ্যেই অভিযোগ করেন ড্রোন চলে আসছে সামনে। যা থেকে ভয়ংকর বিপদ অবধি ঘটতে পারে। এমনকি কলকাতায় কিছুদিন আগেই ভিকটোরিয়া মেমোরিয়ালের ছবি তুলতে ড্রোন ওড়ানোর জন্য গ্রেফতার হয়েছিলেন এক চিনা নাগরিক। গোটা দেশে এমন ভুরি ভুরি অভিযোগ সংরক্ষিত জায়গায় বারবার বিনা অনুমতিতে ড্রোন উড়িয়ে ছবি তোলা হয়েছে যা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে ভীষণ চিন্তার। তাই চলতি বছর থেকেই ড্রোন নিয়ে কড়া হচ্ছে কেন্দ্র। যে বা যারা ড্রোন ওড়ান তাদের প্রত্যেককেই ৩১ জানুয়ারি মধ্যে ড্রোন রেজিস্টর করতে হবে।

কেন্দ্রীয় সরকারের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে https://digitalsky.dgca.gov.in/ ওয়েবসাইটে গিয়ে করতে হবে আবেদন। তার পরেই দেশের অসামরিক বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ নিয়মানুযায়ী নিতে হবে ইউনিক আইনডেটিফিকেশন নাম্বার। ড্রোন ব্যবহারকারীর থাকতে হবে আনম্যানড এয়ার ক্রাফট অপারেটর পারমিট। ১৪ জানুয়ারি থেকে আবেদন করা যাচ্ছে এই নাম্বার পেতে।আবেদন করতে পারা যাবে ৩১ জানুয়ারি অবধি। অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক সূত্রে খবর, আবেদন যথাযথ হলে পাওয়া যাবে ড্রোন অ্যাকনলেজমেনট নাম্বার। এমনকি ড্রোন ব্যবহারকারীকে দেওয়া হবে ওনারশিপ অ্যাকনলেজমেনট নাম্বার। আগামী মাস থেকে এগুলি না থাকলে ড্রোন ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।

বর্তমানে বহু ব্যক্তি আছেন ড্রোন ব্যবহার করেন। কেউ ব্যবহার করেন নিছক মজা করার জন্য। কেউ ব্যবহার করেন আবার প্রফেশনাল অর্থাৎ নিজের কাজের জন্য। তাছাড়া অনেকেই এখন ড্রোন উপহার হিসাবেই অনেক কে দিয়ে থাকেন। ফলে যত দিন যাচ্ছে তত চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রোনের। আরা তাতেই বেজায় সমস্যায় পড়েছেন বিমান নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা। কারণ মাটি থেকে অনেকটা উঁচুতেই বিচরণ এই ড্রোনের। যা মাঝে মধ্যেই ঢুকে পড়ছে বিমান চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুটে বা পথে। নিয়মানুযায়ী কোথায় কখন ড্রোন ওড়ানো হবে, কতক্ষণ ওড়ানো হবে, কতদূর বা কতটা জায়গা জুড়ে ওডানো হবে তা জানাতে হয় প্রশাসন ও অবশ্যই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে।

যদিও অধিকাংশ ড্রোন ব্যবহারকারী এই নিয়ম মানেন না। তাদের জন্যই এবার ড্রোন নিয়ে কড়াকড়ি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের বাজারে যে-সব ড্রোন ব্যবহার করা হয় তা মূলত রকমের হয়। প্রথমত, ন্যানো ড্রোন যা ২৫০ গ্রাম বা তার কম ওজনের হয়। দ্বিতীয় মাইক্রো ড্রোন যা ২৫০ গ্রাম থেকে ২ কিলোগ্রাম ওজনের হয়। তৃতীয়ত স্মল ড্রোন যা ২ কিলোগ্রাম থেকে ২৫ কিলোগ্রাম ওজনের হয়। চতুর্থত মিডিয়াম ড্রোন যা ২৫ কিলোগ্রাম থেকে ১৫০ কিলোগ্রাম ওজনের হয়। শেষ হল লার্জ ড্রোন যা ১৫০ কিলোগ্রামের বেশি ওজনের হয়। ড্রোন ওড়ানোর সাধারণ নিয়মগুলি হল, ন্যানো ছাড়া যে-কোনও ধরনের ড্রোন ওড়ানোর আগে তা নথিভুক্ত করানো দরকার।

নথিভুক্ত হলে প্রতিটি ড্রোনের জন্য পৃথক নম্বর বা 'ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর' পাওয়া যাবে। অন্যদিকে বাণিজ্যিকভাবে ড্রোন ব্যবহারের জন্য অনুমতি (পারমিট) প্রয়োজন। ন্যানো ড্রোনের জন্য পারমিট না লাগলেও তা  ৫০ ফুটের বেশি উচ্চতায় ওড়ানো নিষিদ্ধ। মাইক্রো ড্রোনের সর্বাধিক উচ্চতা হতে পারে ২০০ ফুট।এছাড়া  ড্রোন ওড়ানোর সময় খেয়াল রাখতে হয় ড্রোন যেন পাইলটের বা ব্যবহারকারীর দৃষ্টিসীমার বাইরে না চলে যায়। তবে 'নো ফ্লাই জোন'-এ ড্রোন ওড়ানো একেবারেই নিষিদ্ধ। যেমন, বিমানবন্দর, ফৌজি এলাকা, সচিবালয়, মন্ত্রক, বিশেষভাবে চিহ্নিত এলাকা, নয়া দিল্লির বিজয়চক-এই সব এলাকার উপর ড্রোন ওড়ানো যাবে না।নিয়ম আগে থেকে থাকলেও তা মানতে চাননা অনেকেই। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সীর সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করেছে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। তারপরেই ড্রোন ওড়ানোর রাশ টানতে উদ্যেগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

First published: January 15, 2020, 8:56 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर