Home /News /kolkata /
কোয়ারেন্টাইনে প্রাণের বন্ধু, মানসিক চাপ কমাতে কনফারেন্স কলে মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র, হনুমান চালিশা পাঠ

কোয়ারেন্টাইনে প্রাণের বন্ধু, মানসিক চাপ কমাতে কনফারেন্স কলে মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র, হনুমান চালিশা পাঠ

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সিঙ্গাপুর থেকে দিল্লিতে অবতরণের পর দ্বারকার পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে কোয়ারেন্টাইনে বাগুইআটির গুপ্ত দম্পতি।

  • Share this:

#কলকাতাঃ শরীর সুস্থ। তারপরও বিদেশ থেকে ফেরায় সতর্কতা হিসেবে ১৪ দিন কাটাতে হচ্ছে কোয়ারেন্টাইনে। সময় যে কাটছে না কিছুতেই বাগুইআটির অঞ্জলি গুপ্ত এবং তাঁর স্বামীর। তাই বন্ধুরা ফাঁক পেলেই বসে পড়ছেন গল্প করতে। আর নিত্যম করে বন্ধুর মনের জোর বাড়াতে কনফারেন্স কলে পাঠ করছেন মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, হনুমান চালিশা বা গায়েত্রী মন্ত্র।

সিঙ্গাপুর থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর করোনা ভাইরাসের সতর্কতা জন্য এখন দ্বারকার পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন বাগুইআটির গুপ্ত দম্পতি। ইতিমধ্যেই সাত দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু শরীরের মারণ ভাইরাস সংক্রমণের কোনও রকম উপসর্গ দেখা যায়নি। এখনও বাকি ৭ দিন। তারপর বাড়ি ফিরতে পারবেন তাঁরা। কারণ ভাইরাসের মোকাবিলায় সরকারী বিধি নিষেধ মেনে চলতেই হবে। কিন্তু সময় কাটছে কীভাবে?

স্বাভাবিকভাবেই গুপ্ত দম্পতির এখন একমাত্র ভরসা বা সঙ্গী মোবাইল। ফোনেই  চলছে যত কর্মকাণ্ড। কনফারেন্স কলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। আবার সেই ফোনেই বন্ধুরা যোগাচ্ছেন মনোবল। জানা গিয়েছে, নেহাতই রান্নাবান্না বা পর নিন্দা পর চর্চা নয়। গুপ্ত পরিবারকে মানসিক জোর বাড়াতে বন্ধুরা পাঠ করছেন  মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র। কখনও কখনও হনুমান চালিশা। সকাল এবং সন্ধ্যা আধ ঘন্টা করে চলছে তাঁদের  কনফারেন্স কল। অঞ্জলি গুপ্ত বলেন, 'এখানে প্রথম দুদিন সময় কাটছিল না। তার পর বন্ধুদের সঙ্গে ফোন শুরু হল। পাড়ায় সবাই মিলে আমরা সন্ধ্যা বেলা মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র, হনুমান চালিশা পাঠ করতাম। বিদেশে থাকায় দেড় মাস বন্ধ ছিল। এখন আবার শুরু করেছি। কনফারেন্স কলের বন্ধুদের মুখ দেখতে পাচ্ছিনা ঠিকই। কিন্তু ভীষণভাবে মানসিক শক্তি পাচ্ছি।'

বাগুইআটির একই পাড়ায় থাকেন সুদেষ্ণা রায়। কনফারেন্স কলের প্রধান উদ্যোগী  তিনিই। তিনি বলেন, 'ওঁনারা ওখানে রয়েছেন। তাই আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করছি যদি মানসিক চাপ কিছুটা কমে।' হাইকোর্টের আইনজীবী সঞ্চিতা বর্মণ রায়ও তাঁদের কনফারেন্স কলের নিয়মিত সদস্যা। তিনি বলেন, 'আমাদের সনাতন বিষয়গুলোর মাধ্যমে অনেক অসাধ্য সাধন করা যায়। এই কঠিন সময়ে মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্রের মধ্যে ভীষণ মানসিক শান্তি পাওয়া যায়। আমরা সেটাই চেষ্টা করেছি।'

শুধুমাত্র মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র বা হনুমান চালিশাই নয়। রাম নবমীর দিন হবে স্পেশ্যাল কনফারেন্স কল। পরিকল্পনা চলছে পয়লা বৈশাখ নিয়েও। তত দিনে পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক না হয়, তা হলে নববর্ষও পালন হবে কনফারেন্স কলেরই।

SOUJAN MONDAL

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: COVID-19, Quarantine

পরবর্তী খবর