হাসপাতালের পর করোনা মোকাবিলায় সচেতনতার বার্তা দিতে বাজারে বাজারে মুখ্যমন্ত্রী!

হাসপাতালের পর করোনা মোকাবিলায় সচেতনতার বার্তা দিতে বাজারে বাজারে মুখ্যমন্ত্রী!

সাধারণ মানুষকে গৃহবন্দি থাকার পরামর্শ রাজ্য এবং কেন্দ্রের।

  • Share this:

#কলকাতাঃ সরকারি হাসপাতালের পড় এবার শরের বাজারগুলিতে পুছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  কয়েকটি সরকারি হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে হাসপাতালগুলিতে পৌঁছে যান। সেখানে উপস্থিত সকলের থেকে বিস্তারিত  খোঁজখবর নেন। এরপর আজ বুধবার নজরে এল অন্য ছবি।

কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যক্ষভাবে না পৌঁছলেও একেবারে সাধারণ মানুষের কাছে পরোক্ষভাবে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলছেন, 'ভিড় করবেন না। বাজার কিংবা ওষুধের দোকানের সামনে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করবেন না। করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।' কলকাতা শহরের বিভিন্ন প্রান্তের বাজারুলিতে ঘুরলে শোনা যাচ্ছে মূলত বাজার এলাকায় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর অডিও টেপ মাইকের মাধ্যমে প্রচার করছে পুলিশ।

শুরু লকডাউন। সাধারণ মানুষকে গৃহবন্দি থাকার পরামর্শ রাজ্য এবং কেন্দ্রের। অহেতুক বাড়ির বাইরে পা ফেলবেন না। ঘরে বসেই কাজ করুন। পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে থাকুন। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জিততে হলেই এটাই একমাত্র অস্ত্র। না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি সরকারের। এমনকী জেলও হতে পারে। করোনা সতর্কতায় একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য এবং কেন্দ্র। তবুও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই দেখা যাচ্ছে অনীহা। লকডাউনের  নির্দেশ জারি হওয়ার পরও শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণের নাগরিকরা যে এখনও  অনেকেই সচেতন নন তারই প্রমাণ মিলছে।

বাজার হোক কিম্বা ওষুধের দোকান, কিম্বা অন্য কোনও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান। অনেক সময়ই দেখা যাচ্ছে ক্রেতারা নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখেই ভিড় করছেন। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান খোলা থাকবে। তবে দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড়ান। বার বার বলছে সরকার। তবু যেন একটা আতঙ্ক কাজ করছে সাধারণ মানুষদের মধ্যে। ক্রেতাদের প্রশ্ন, ওষুধের দোকান খোলা থাকবে? লকডাউন চলাকালীন প্রতিদিন বসবে কী বাজার ? মিলবে কী  দুধ ?  কলকাতার বিভিন্ন বাজার, মুদি দোকান, ওষুধের দোকানে যারা ভিড় জমাচ্ছে তাদের মধ্যে তৈরি করা হচ্ছে 'সোশ্যাল ডিসটেন্স'। কোনওভাবে কেউ যাতে কারও সংস্পর্শে আসতে না পারে সে জন্যই পুলিশের পক্ষ থেকে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে 'লক্ষণরেখা'। চুন দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে বৃত্ত তৈরি করে সেই বৃত্তের মধ্যে মানুষজনকে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে কলকাতা পুলিশের তরফে।

এদিন, যোধপুর পার্কের বাজারে টের পাওয়া গেল  পুলিশের উদ্যোগে চলছে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি 'লক্ষণরেখা' তৈরীর কাজ। পাশাপাশি চলছে মুখ্যমন্ত্রীর সচেতনতামূলক অডিও টেপও। পুলিশের গাড়িতে বাঁধা মাইক থেকে যেখানে অনবরত রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মানুষজনকে হাতজোড় করে অনুরোধ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। এই ধরনের ব্যবস্থা করায় খুশি বাজার করতে আসা কিংবা ওষুধের দোকানের সামনে লাইনে দাঁড় হওয়া মানুষজন। পুলিশের ভূমিকায় খুশি তাঁরা।  এই জায়গা গুলিতে যারা ভিড় জমাচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের মধ্যে কমপক্ষে দু'হাত দূরত্ব তৈরি করে লাইনে দাঁড় করানো হচ্ছে। কেউ যাতে হুড়োহুড়ি করে আগে যাওয়ার চেষ্টা না করে সেজন্য তাদের জন্য 'লক্ষণরেখা' তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ চক কিম্বা চুন দিয়ে একটি গোলাকার জায়গা তৈরি করা হচ্ছে এবং যে সমস্ত ক্রেতারা আসছেন তাদেরকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁরা যেন নির্দিষ্ট  জায়গায় দাঁড়িয়েই  নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করেন।

VENKATESWAR  LAHIRI 

First published: March 25, 2020, 11:22 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर