প্রার্থী নন ওই কেন্দ্রের, তবু মমতার পাড়ায় বিক্ষোভের মুখে বাবুল! কী এমন ঘটল?

প্রার্থী নন ওই কেন্দ্রের, তবু  মমতার পাড়ায় বিক্ষোভের মুখে বাবুল! কী এমন ঘটল?

বাবুলকে ঘিরে বিক্ষোভ

খাস ভবানীপুরে, মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো কেন্দ্রে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় এলাকা ছাড়তে হয় বাবুলকে।

  • Share this:

    #কলকাতা: তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ২৯১ কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিলেন, তারপরও দলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ যে দেখা যায়নি, তা নয়। কিন্তু দিন কয়েকের মধ্যেই তা সামলে দিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সোনালি গুহ, জটু লাহিড়ি বা সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মতো কয়েকজন নেতা-বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন বটে, তবে তা বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি শাসক দল। কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকা ধাপে ধাপে প্রকাশ হতেই সেই যে বিক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়েছে, বৃহস্পতিবার শেষ চার দফার ভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই তা মাত্রা ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চলছে ভাঙচুর। এরই মধ্যে এবার খাস ভবানীপুরে, মুখ্যমন্ত্রীর পুরনো কেন্দ্রে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা টালিগঞ্জ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় এলাকা ছাড়তে হয় বাবুলকে।

    জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ভবানীপুরের হরিশ মুখার্জী রোডে টালিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী বাবুল সুপ্রিয়কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কর্মীরা। সেই সময় একটি ধাবায় গিয়েছিলেন বাবুল। সেই সময়ই বাবুলকে ঘিরে ধরে তৃণমূলকর্মীরা। চলতে থাকে বিজেপি বিরোধী স্লোগান। বাবুল অবশ্য কথাবার্তা চালিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। পরিস্থিতি দেখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে ওই জায়গা থেকে বের করে নিয়ে যান।

    এ নিয়ে একটি ভিডিও দিয়ে বাবুল ট্যুইটও করেন। লেখেন, 'প্রচারের পর বলবন্ত সিং ধাবায় গভীর রাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু গাড়ি থেকে নামার আগেই উত্তর কলকাতা তৃণমূল সেক্রেটারি ওয়াসিম আহমেদ ও কয়েকজন স্লোগান দিতে শুরু করল। রাজ্যে গণতন্ত্র কোথায়? এই সব কিছুর শেষ হবে ২ মে। খেলা নয়, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবার উন্নয়ন হবে।'

    ভোট দরজায় কড়া নাড়ছে। রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে। এই পরিস্থিতিতেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি অশান্ত হচ্ছে। কোথাও তা ঘটছে দলীয় গোষ্ঠীকোন্দলের কারণে, কোথাও বা তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের কারণে।

    বৃহস্পতিবারই তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা ভোটের এপিসেন্টার নন্দীগ্রাম। বুধবার বিকেলে নন্দীগ্রামের ভেটুরিয়া এলাকায় শুভেন্দুর কনভয় আটকে ঝাঁটা, জুতো হাতে বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। যদিও সেই বিক্ষোভকে তৃণমূলের 'ষড়যন্ত্র' বলেই দাবি করেছিল বিজেপি। কিন্তু সেই রেশ মিটতে না মিটতেই ফের বৃহস্পতিবার শুভেন্দুর প্রচারের সময় অশান্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া। দু'পক্ষের বেশ কয়েকজন আহতও হন বলে খবর। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বিঘ্নে রাজ্যের ভোট সম্পন্ন করাই চ্যালেঞ্জ নির্বাচনের কমিশনের কাছে।

    Published by:Suman Biswas
    First published:

    লেটেস্ট খবর