‘ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দলের স্বার্থই বড়’, একুশের মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মীদের গোষ্ঠীকোন্দল থামানোর হুঁশিয়ারি নেত্রীর

দলীয় কর্মীদের জন্য স্বচ্ছতার বার্তা। লোভে পা না দেওয়ার সাবধান বাণী। পুরনো, ল‍ড়াকু কর্মীদের আহ্বান। রাজ্যের যুব সম্প্রদায়কে দিশা দেখানোর আশ্বাস।

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 21, 2016 06:57 PM IST
‘ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দলের স্বার্থই বড়’, একুশের মঞ্চ থেকে দলীয় কর্মীদের গোষ্ঠীকোন্দল থামানোর হুঁশিয়ারি নেত্রীর
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 21, 2016 06:57 PM IST

#কলকাতা: দলীয় কর্মীদের জন্য স্বচ্ছতার বার্তা। লোভে পা না দেওয়ার সাবধান বাণী। পুরনো, ল‍ড়াকু কর্মীদের আহ্বান। রাজ্যের যুব সম্প্রদায়কে দিশা দেখানোর আশ্বাস। সবমিলিয়ে, দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম একুশের সমাবেশেই দলের গাইডলাইন বেঁধে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার ডাকে শহিদ স্মরণে ফের জনজোয়ার ধর্মতলায়। তারকাদের উপস্থিতিতে ঝলমলে মঞ্চ। টুকরো টুকরো ছবিতে উঠে এল তৃণমূলের সুখী সংসার। জনসমুদ্র বার বার গর্জে উঠল মমতার বার্তা পেয়ে। ফের প্রমাণ হল, প্রতিষ্ঠানের তকমা নিয়েও তিনিই জনপ্রিয়তম, তিনিই জননেত্রী।

একুশের মঞ্চে আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনিই। দলনেত্রী কী বলেন সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন রাজ্যের তৃণমূল কর্মীরা। সমাবেশে উত্তর পেয়ে গেলেন তাঁরা ৷

একুশের মঞ্চ থেকে কর্মী সমর্থকদের তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্যতা না থাকলে রাজনীতি করার অধিকার নেই ৷ বিশ্বাসযোগ্যতাই রাজনীতি ভিত্তি ৷ তৃণমূল মানে উন্নয়ন করে মানুষকে পাশে আনা ৷ সব কর্মীরা নেতা, বিধায়ক, সাংসদ হয় না ৷ কিন্তু যে মানুষের পাশে থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে ধরে ৷ আমি সেই কর্মীকে সম্মান জানাই। এরা না থাকলে সরকার হয় না।’

 নির্বাচনের সময় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল তৃণমূলের সব থেকে বড় চিন্তার বিষয় ৷ সেই কথা মাথায় রেখে এদিন নেত্রী গোষ্ঠীকোন্দল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেন ৷ তিনি বলেন, ‘ কোনও লড়াই-বিবাদে আমরা জড়াব না ৷ এটা আমাদের শপথ নিতে হবে ৷ ব্যক্তিস্বার্থ নয়, দলের স্বার্থই বড় ৷’

দলনেত্রী ঘোষণা করে দিলেন, নতুন আর পুরনোয় বিরোধ নয়।  তিনি চান এই দুইয়ের মিশেল।

একইসঙ্গে দলের পুরনো কর্মীদের আহ্বান জানিয়ে নেত্রী বলেন, আমি সেই তৃণমূল কর্মীদের চাই, যারা গুলির বিরুদ্ধে লড়তে ভয় পায় না। যারা মণ্ডা মিঠাইয়ের লোভে পা দেয় না। আমি সেই তৃণমূলকর্মী চাই। যারা গুলির বিরুদ্ধে লড়তে ভয় পায় না ৷ যারা পুরনো দিনের লড়াকু, আমি সেই তৃণমূলকর্মী চাই ৷’

পঞ্চায়েত ও পুরসভার প্রতিনিধিদের জন্যও বেঁধে দিলেন রুটম্যাপ। একুশের মঞ্চ থেকে নেত্রীর হোমটাস্ক, ‘প্রত্যেকে ফিরে গিয়ে প্রশাসনিক ক্যালেন্ডার তৈরি করুন. কোনদিন কী করবেন তা ঠিক করুন। মানুষ-তৃণমূল কংগ্রেস ও আমরা। এটা ত্রিস্তর প‍ঞ্চায়েত ব‍্যবস্থার মতো।’

শুধু দলীয় কর্মী নয়, অভিভাবকের মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুঁয়ে গেলেন রাজ্যের যুব সম্প্রদায়ের মনও। বললেন, ‘সমাজের বিশিষ্ট মানুষকে, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান করতে হবে ৷ বাংলার ছাত্র যৌবন হতাশ হবেন না ৷ মনে রাখবেন আপনাদের জন্য দিদি আছে ৷ চাকরি নিয়ে সমস্যা হবে না ৷ সবাইকে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের ৷

ধর্মতলায় এদিন জড়ো হয়েছিলেন রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা মুখে মুখেই ছড়িয়ে পড়ল উত্তর থেকে দক্ষিণে।

First published: 06:57:29 PM Jul 21, 2016
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर