কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

'ত্রুটিমুক্ত, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে’, নির্বাচন কমিশনের সর্বদলীয় বৈঠকে দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

'ত্রুটিমুক্ত, নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করতে হবে’, নির্বাচন কমিশনের সর্বদলীয় বৈঠকে দাবি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের

এদিনের বৈঠক থেকে ক্রুটি মুক্তি ভোটার তালিকা তৈরি ছাড়াও অন্য রাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদেরও সঠিকভাবে নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবি তুললেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৷

  • Share this:

#কলকাতা: সোমবার থেকেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের কার্যত দামামা বেজে গেল। ভোট প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে সোমবার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক বৈঠক করলেন সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। বৈঠকের মূল আলোচ্য সূচি ছিল ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা। ১৮ নভেম্বর ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ হবে। সেই কাজ কেমন চলছে তা হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক। এদিনের বৈঠক থেকে ক্রুটি মুক্তি ভোটার তালিকা তৈরি ছাড়াও অন্য রাজ্য থেকে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদেরও সঠিকভাবে নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের দাবি তুললেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ৷

এদিনের বৈঠক থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটার তালিকা তৈরি নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও পরামর্শ দেয় নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের। বিশেষত বুথ গুলিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বুথ লেভেল অফিসার দের অনুপস্থিতি, করোনা পরিস্থিতিতে কিভাবে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব তা নিয়ে আলোচনা, কারণ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেলে বা আবেদনপত্র গ্রহণ না করা হলে কী কারণে নাম বাতিল করা হচ্ছে বা আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না তার কারণ সবিস্তারে জানানো সহ একাধিক পরামর্শ ও অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আগামী ১১ নভেম্বর রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসক দিন নিয়ে ভার্চুয়ালি বৈঠক করবে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক। মূলত এর ভিত্তিতেই ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে সংশোধিত ভোটার তালিকা চূড়ান্ত ভাবে প্রকাশ করা হবে ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি।

বিধানসভা ভোটের আগে আপাতত রাজ্য রাজনীতি সরগরম হতে চলেছে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকার দাবি নিয়ে। অন্তত সোমবারের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক এর ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকের এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া গেল। এদিনের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও সুব্রত বক্সী, বিজেপি তরফে জয়প্রকাশ মজুমদার ও প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিআইএমের তরফে রবীন দেব, কংগ্রেসের তরফে ঋজু ঘোষাল সহ একাধিক দলের নেতৃত্ব এদিন উপস্থিত ছিলেন।

সর্বদলীয় বৈঠক শেষে তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন " আমরা বলেছি সমস্ত ভোটার যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে। ভোটার লিস্ট থেকে কেন নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে সেটার কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানতে পারেন। ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির দাবি জানিয়েছি। সমস্ত ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা নির্বাচন কমিশনকেই দায়িত্ব নিতে হবে এবং তা বলেছি কমিশনকে। যে সমস্ত অঞ্চলে করোনার প্রকোপ বেশি, পরিযায়ী শ্রমিক অন্যান্য জায়গা থেকে ফিরে এসেছেন তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে কমিশনকে সেটাও আমাদের তরফে বলা হয়েছে।"

অন্যদিকে সিপিআইএমের তরফের রবীন দেব বলেন " ভোটার লিস্ট সংশোধনের জন্য জেলাগুলিতে যাতে একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয় সেই বিষয় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। কারণ নাম কেন বাতিল করা হচ্ছে কেন আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বলেও আমাদের তরফে দাবি রাখা হয়েছে।"

যদিও এদিনের সর্বদলীয় বৈঠকে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। বিজেপির তরফে জয়প্রকাশ মজুমদারের অভিযোগ " নির্বাচন কমিশনের নিজেদের পরিকাঠামো নেই। ভোটার তালিকা সংশোধন এর যাবতীয় কাজ করার জন্য রাজ্য প্রশাসনের ওপরই নির্ভর করতে হয়। আপনারা জানেন এখন রাজ্য প্রশাসনের কর্মীদের শাসকদলের চাপে কিভাবে কাজ করতে হচ্ছে। আমরা জানিয়েছি এখন সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে সেটা জানিয়েছি। আমরা এটাও বলেছি বুথ লেভেল অফিসাররা বুথে থাকেন না। বাড়ি থেকেই অনেক সময় কাজ হয়ে যায়। এটার জন্য নজরদারি দরকার।"

এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ চলবে ১৮  নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই সময়ে চলবেন নাম তোলা ও বাদ দেওয়ার আবেদন গ্রহণ,শুনানি। তবে ১৮ই নভেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে আপাতত বুথ পুনর্গঠন,বুথের পরিকাঠামো,ভোটার তালিকাতে একই পরিবারের সকল সদস্য যাতে একই পার্ট নম্বরের মধ্যে থাকে সেই সংক্রান্ত কাজ চলছে। একই ভোটারের একাধিক নাম একাধিক স্থানে একই ভোটারের নাম ইত্যাদি সংশোধন করে যতটা সম্ভব নির্ভুল খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। অফলাইন ছাড়াও অনলাইনেও ধারাবাহিকভাবে সংশোধনের কাজ চলছে। তবে বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যে এবার বুথের সংখ্যা কার্যত বাড়তে চলেছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।

 সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: November 9, 2020, 6:33 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर