EXCLUSIVE: টানা দু’ঘণ্টার জেরায় ইকবালের থেকে মিলল নারদকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র

নারদ ডট কম কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলের সঙ্গে খানাকুলের তৃণমূল বিধায়ক ইকবাল আহমেদের যোগসূত্র কে ?

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 19, 2016 08:54 PM IST
EXCLUSIVE: টানা দু’ঘণ্টার জেরায় ইকবালের থেকে মিলল নারদকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jul 19, 2016 08:54 PM IST

#কলকাতা: নারদ ডট কম কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলের সঙ্গে খানাকুলের তৃণমূল বিধায়ক ইকবাল আহমেদের যোগসূত্র কে ? জিজ্ঞাসাবাদের প্রথম দিনই এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের হদিশ পেল নারদকাণ্ডের SIT ৷ লালবাজারে টানা দু’ঘণ্টা ধরে তৃণমূল বিধায়ক ইকবালকে জেরা করে তদন্তকারী গোয়েন্দারা ৷

এসএমএইচ মির্জার পরে মঙ্গলবার নারদকাণ্ডে লালবাজারে হাজিরা দেন খানাকুলের তৃণমূল বিধায়ক ইকবাল আহমেদ ৷ নারদকাণ্ডের তদন্তের জন্য গঠিত কলকাতা পুলিশের SIT সোমবারই তাঁকে হাজিরার জন্য নোটিস পাঠায় ৷ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তোলা নারদ কাণ্ডের আসল চিত্র তুলে ধরতে কলকাতা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

সমন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই লালবাজারে হাজির হলেন খানাকুলের তৃণমূল বিধায়ক ও কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র ইকবাল আহমেদ ৷ জেরা পর্বে উঠে এল বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ৷

লালবাজার সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাজদার মির্জা নামে এক ব্যাক্তির নাম নেন ইকবাল ৷ রিপন স্ট্রিটের ওই ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবে SIT ৷

এদিন তৃণমূল সাংসদ সুলতান আহমেদের ছোট ভাই ইকবালকে প্রশ্ন করা হয় কিভাবে তাঁর সঙ্গে নারদ কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলের যোগাযোগ ঘটেছিল ৷ উত্তরে,

Loading...

পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন,স্থানীয় এক তরুণের মাধ্যমে মাধ্যমেই ম্যাথুর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তাঁর ৷ যদিও তাঁর দাবি, তখন ম্যাথুর নাম ‘সন্তোষ’ বলে তিনি জানতেন ৷

মার্কুইস স্ট্রীটের এক রেস্তোরাঁয় ম্যাথুর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয় ইকবালের ৷ ইকবাল আহমেদের পুত্রের ওই রেস্তোরাঁয় ম্যাথু ওরফে সন্তোষকে নিয়ে আসেন ওই স্থানীয় যুবক ৷ ইকবাল, ওই যুবক ও ম্যাথুর মধ্যে যে কথোপকথন হয় তা অনেকটা এরকম ৷

যুবক- দাদা এ আপনার সঙ্গে একটু কথা বলতে চায় ৷

ম্যাথু ওরফে সন্তোষ- নমস্কার। আমার নাম সন্তোষ ৷

ইকবাল- নমস্কার ৷

যুবক- দাদা আমায় উনি চাকরি দেবেন ওর সংস্থায়। তুমি যদি একটু সাহায্য কর ৷

ইকবাল- বল কী করতে হবে?

ম্যাথু ওরফে সন্তোষ- আমায় কয়েকজন নেতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। পরে আমার ব্যবসায় কাজে আসবে ৷

ইকবাল- করিয়ে দেব, কোনও অসুবিধা নেই ৷

ম্যাথু ওরফে সন্তোষ- আমরা আপনার ফুটবল ক্লাব মহমেডান স্পোর্টিংকে স্পনসর করতে চাই। বছরে ২ কোটি টাকা আমি দিতে পারি ৷

ইকবাল- তার জন্য আমাদের কী করতে হবে?

ম্যাথু ওরফে সন্তোষ- কিচ্ছু করতে হবে না। ভোটের জন্যও আমি কয়েকজনকে টাকা দিতে চাই। আপনাদের তো অনেক খরচ। আপনি শুধু যোগাযোগ করিয়ে দেবেন ৷

এরপর খানাকুলের বিধায়ক জানিয়েছেন, ক্লাবের নামে ডোনেশনের কথা শুনে তাঁর মন নরম হয়ে যায় ৷ তিনি সরল মনে ম্যাথুর কথা বিশ্বাস করে তাঁকে বাকিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ৷

ম্যাথুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ওই যুবককে চিহ্নিত করার কাজে নেমে পড়েছে তদন্তকারী গোয়েন্দারা ৷

হাজিরার আগে ইটিভি নিউজ বাংলার প্রতিনিধির কাছে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের দাপুটে এই নেতা ৷ লালবাজারে যাওয়ার আগে দলের মধ্যে অন্তর্ঘাতের অভিযোগ তুললেন তিনি। বললেন, দলের কারও বিশ্বাসঘাতকতার জন্যই বিপাকে পড়েছেন তিনি ৷ একইসঙ্গে জানালেন, কিভাবে ম্যাথু স্যামুয়েলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় এবং কী কথা হয় তাদের মধ্যে সমস্ত কিছু তিনি পুলিশকে বিস্তারিত বলবেন ৷

৫২ ঘণ্টার নারদ স্টিং ফুটেজে খানাকুলের তৃণমূল বিধায়ককে টাকা নিতে দেখা যায় ৷ সেই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইকবাল আহমেদকে লালবাজারে ডেকে পাঠায় নারদকাণ্ডের জন্য গঠিত SIT ৷

গত সপ্তাহে নারদকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয় IPS মির্জাকে ৷ লালবাজারে দু’দিন ধরে প্রায় ঘণ্টা ছ’য়েক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে। রেকর্ড করা হয় তাঁর বয়ান এবং ভিডিও রেকর্ডিং করে রাখা হয় এই গোটা জিজ্ঞাসাবাদ প্রক্রিয়া ।

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে প্রকাশিত হওয়া নারদ ভিডিও ক্লিপ রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঢেউ তোলে ৷ ভিডিও ক্লিপটিতে তৃণমূলের ১১ জন শীর্ষ নেতা- নেত্রীদের লক্ষ লক্ষ টাকা নিতে দেখা যায় ৷ এই ক্লিপ নিয়েই ভোটের আগে তৈরি হয় প্রবল বিতর্ক ৷ শাসক দলের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানান বিরোধীরা ৷

দক্ষিণের সংবাদ সংস্থা নারদ ডট কম দাবি করেন, এই ভিডিও একদম খাঁটি ৷ ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই স্টিং অপারেশনটি তারা করেছিলেন বলে দাবি করেন সংস্থার কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েল ৷

গত ১৭ জুন নবান্নে বিশেষ বৈঠকের পর কলকাতা পুলিশের হাতে নারদ স্টিং কাণ্ডের তদন্তভার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নেমে পড়ে কলকাতা পুলিশ ৷ তদন্তের জন্য সিপি রাজীব কুমারের নেতৃত্বে SIT গঠন করে কলকাতা পুলিশ ৷ এছাড়া টিমে রয়েছেন জয়েন্ট সিপি (ক্রাইম) বিশাল গর্গ, কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইমের ওসি এবং ইকনমিক অফেন্স উইং শাখার ওসি-সহ কয়েকজন কর্তা ৷

First published: 07:44:11 PM Jul 19, 2016
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर