প্রার্থী হতে না পেরে কেঁদেছিলেন, আজ মুকুলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মমতা-'ঘনিষ্ঠ' নেত্রী!

প্রার্থী হতে না পেরে কেঁদেছিলেন, আজ মুকুলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন মমতা-'ঘনিষ্ঠ' নেত্রী!

শনিবার সন্ধ্য়া সাতটায় মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সোনালি।

শনিবার সন্ধ্য়া সাতটায় মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সোনালি।

  • Share this:

    #কলকাতা: প্রার্থীতালিকা ঘোষণা হওয়ার পরই বুঝে গিয়েছিলেন এবার শিঁকে ছেড়েনি তাঁর। প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁর নাম। তারপরই কাঁদতে-কাঁদতে সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, 'দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ছিলাম। আর তার ভালোই সম্মান পেলাম।' সরাসরি মমতাকে নিশানা করেই 'দিদি' ঘনিষ্ঠ সোনালি তোপ দাগেন, 'মমতা দি'র বাড়ির লোক ছিলাম আমি। আমার সঙ্গে মমতা দি এমনটা করতে পারেন, বিশ্বাসই হচ্ছে না।' আর সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরাসরি বিজেপি নেতার মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন সাতগাছিয়ার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক সোনালি গুহ। আজ, শনিবার সন্ধ্য়া সাতটায় মুকুল রায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন সোনালি। নিজমুখেই সংবাদমাধ্যমে স্বীকার করে নিয়েছেন সে কথা। অর্থাৎ, দল ছাড়ার বিষয়ে সোনালি যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তা স্পষ্ট। মুকুল রায়ের দাবি, বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়ে ফোন করেছিলেন সোনালি। দল এ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।

    প্রার্থী হতে না পেরেই সোনালির এই ক্ষোভ, তা তিনি নিজেও গোপন করেননি। কিন্তু এই মুহূর্তে বিজেপিতে গেলেই কি প্রার্থী হতে পারবেন? সোনালির অবশ্য দাবি, তিনি বিজেপিতে প্রার্থী হওয়ার জন্য় যেতে চান না। তাঁর কথায়, 'আমাকে বিজেপিতে জায়গা দিলেই হবে। আমি প্রচার করব।' বস্তুত, শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ২৯১ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতেই দিকেদিকে শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ। সেই তালিকা থেকে বাদ যাননি সোনালিও। আর এবার সরাসরি বিজেপির পথে তিনি। উল্লেখ্য, এবার সোনালির কেন্দ্রে মোহনচন্দ্র নস্করকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল।

    পথে নেমেছেন ভাঙড়ের দাপুটে নেতা আরাবুল ইসলামও। গতকালই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাঙরের ডাকাবুকো নেতা আরাবুল আক্ষেপের সুরে লিখেছিলেন, 'দলে আজকে আমার প্রয়োজন ফুরোল'। চোখের জলও চেপে রাখতে পারেননি। কান্নায় ভিজে গিয়েছিল আরাবুলের চোখ। এদিন সরাসরি পথে নেমেই বিক্ষোভ দেখান আরাবুল। শনিবার নিজের অনুগামীদের নিয়ে ভাঙরে মিছিল করেন এই দাপুটে নেতা। কিন্তু দলের বিরুদ্ধে এভাবে পথে? আরাবুল অনুগামীদের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে বীরভূম থেকে বাম সমর্থিত নির্দল প্রার্থী চিকিৎ‍সক রেজাউল করিমকে ভাঙড়ে প্রার্থী করেছে দল। কিন্তু তাঁকে এলাকার তৃণমূল কর্মীরা কখনই মেনে নিতে পারবেন না। তবে, দল প্রার্থী না করলেও ভাঙড়ের মানুষ জন্য় তিনি কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন আরাবুল।

    অপরদিকে,হাওড়ার শিবপুরের বিদায়ী বিধায়ক জটু লাহিড়ি এদিন বলেন, 'আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি। এখানে তৃণমূলের কোনও নেতা নেই। কোনও সম্মান পাচ্ছিলাম না এখানে। তাই বিজেপিতে গিয়েছি। আমাকে প্রার্থী করতে হবে না। জায়গা দিলেই হল। কিন্তু অসম্মান করবেন না।' রবিবার নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশেও তিনি যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবীণ জটু লাহিড়ি। উল্লেখ্য, বয়সজনিত কারণে এবার শিবপুরে জটু লাহিড়িকে প্রার্থী করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জায়গায় প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এরপরই জটু লাহিড়ির বিজেপিতে যোগদানের দাবি। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতির দাবি, জটু লাহিড়ির যোগদান নিয়ে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই।

    First published:

    লেটেস্ট খবর