‘‌যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, তারা নাকি বাংলা গড়বে’‌, জবাব দিলেন পার্থ

‘‌যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, তারা নাকি বাংলা গড়বে’‌, জবাব দিলেন পার্থ

File Image

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহার হয়ে প্রচারে আসেন অমিত। সেদিনই ধস্তাধস্তিতে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল বিদ্যাসাগর কলেজে ।

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ রাজনৈতিক হিন্দুত্ব রুখতে তৃণমূলের অস্ত্র ‌‘‌বাংলা সংস্কৃতি’‌। আর এই অস্ত্রেই এবার অমিত শাহকে আক্রমণ করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ভার্চুয়াল রালিতে ইতিমধ্যেই বাংলা দখলের ডাক দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বাংলা গড়ার ডাকও দিয়েছেন তিনি। এবার অমিতকে আক্রমণ করতে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গ টেনে আনলেন তৃণমূলের মহাসচিব। তাঁর কড়া মন্তব্য, ‘‌যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে, তারা নাকি বাংলা গড়বে বলছে।’‌

গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রাহুল সিনহার হয়ে প্রচারে আসেন অমিত। সেদিনই ধস্তাধস্তিতে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল বিদ্যাসাগর কলেজে । বলা বাহুল্য, ওই ঘটনার পরই বিজেপির পক্ষে অত্যন্ত পজিটিভ কলকাতা উত্তর কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে হাওয়া জোরদার হয়। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মতো ঘটনা সেদিন ভালোচোখে দেখেনি উত্তর কলকাতার বনেদি পাড়া। এবার অমিতকে আক্রমণে সেই পুরোন অস্ত্রেই শান দিল তৃণমূল। এদিন পার্থ বললেন, ‘‌রবীন্দ্র , নজরুল, জীবনানন্দকে কে না চিনে কোন বাংলা গড়তে চাইছে ওরা?‌ বাংলা মনে বাংলার সংস্কৃতি। তৃণমূল এই সংস্কৃতির ধারক ও বাহক’‌। পার্থর সুরে সুর মিলিয়ে মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‌বাংলার প্রতি যদি অতই দরদ হয় তবে বাংলার পাওনা মেটাচ্ছে না কেন’‌।এদিন অমিতকে আক্রমণের নিশানায় আনার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতকেও নিশানায় আনেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় এক কোটি মানুষ তিরিশ টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা পাবেন বলে পরিসংখ্যান তুলে ধরে তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’‌–তে দেড় কোটি লোক বিনামূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার তূলনায় কেন্দ্রের সংখ্যাটা অনেক কম।

পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে মমতার ভূমিকার সমালোচনা করেছেন অমিত। এদিন তার পাল্টা তৃণমূলের দাবি, ২৪ মার্চ লকডাউন ঘোষণার পর পরিয়ায়ীদের জন্য ট্রেন ঘোষণা হয় ১ মে। এই তথ্য তুলে ধরে তৃণমূলের দাবি, পরিয়ায়ীদের দুঃখ দুর্দশার জন্য দায়ী কেন্দ্র। কেন্দ্রের পরিকল্পনাহীনতার জন্যই পরিযায়ী শ্রমিকরা সমস্যায় পড়েছেন। একথা বলার পাশাপাশি পার্থ চ্যাটার্জি এদিন দাবি করেন, ‘‌এ রাজ্যে ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা যাঁরা আছেন, তারা কেউ বাংলা ছেড়ে যাচ্ছেন না। এটা এই কথাই প্রমান করে যে, পরিযায়ীদের জন্য অন্যান্য রাজ্য থেকে বাংলার ব্যবস্থাপনা ভাল’‌। এদিন কেন্দ্র বাংলার জন্য কি করেছে, তা জানাতে পুস্তিকা প্রকাশের দাবি করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় ।

Sourav Guha

Published by:Uddalak Bhattacharya
First published:

লেটেস্ট খবর