corona virus btn
corona virus btn
Loading

EXCLUSIVE: নিউজ এইট্টিন বাংলার হাতে পিকে'র রিপোর্ট কার্ড, তাবড় তৃণমূল মন্ত্রীরা ডাহা ফেল?

EXCLUSIVE: নিউজ এইট্টিন বাংলার হাতে পিকে'র রিপোর্ট কার্ড, তাবড় তৃণমূল মন্ত্রীরা ডাহা ফেল?
File Photo

সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি কাজের খতিয়ান ও দলীয় কর্মসূচির প্রচারে কোন বিধায়ক এগিয়ে? কোন বিধায়ক পিছিয়ে?

  • Share this:

#কলকাতা : নজরে সোশ্যাল মিডিয়া। ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর টিমের সমীক্ষার সম্পূর্ণ রিপোর্ট কার্ড এক্সক্লুসিভ নিউজ এইট্টিন বাংলার হাতে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি কাজের খতিয়ান ও দলীয় কর্মসূচির প্রচারে কোন বিধায়ক এগিয়ে? কোন বিধায়ক পিছিয়ে? শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের নিয়ে একটি সার্ভে করেছিল। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট কার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক তাবড় তাবড় মন্ত্রীরা ডাহা ফেল করলেন। তবে পাস করার তালিকাটাও কম নয়। বিগত লোকসভা ভোটে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক আসন হাতছাড়া হওয়ার পর নেতা-মন্ত্রীদের জনসংযোগ না করাকেই দায়ী করে তৃণমূল নেতৃত্ব৷ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন প্রার্থী তথা তাঁদের টিম মানুষের কাছে সরকারি কাজের খতিয়ান এবং দলীয় কর্মসূচি সঠিকভাবে পৌছে না দেওয়াতেই এই পরাজয়।

পিকের রিপোর্ট কার্ড পিকের রিপোর্ট কার্ড

পরবর্তীকালে আমজনতার আরও কাছে পৌঁছে সরকারি কাজের কর্মকাণ্ড ও দলীয় কর্মসূচি প্রচারে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতা নেত্রীদের আরো বেশি করে সময় দিতে বলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। এই মর্মে গত কয়েক মাস ধরে প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন টিম আইপ্যাক গোপনে তৃণমূল বিধায়কদের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে নজরদারি চালিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু করেন। গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের আসন সংখ্যা অনেকটাই কমে যাওয়া এবং রাজ্যে বিজেপির রাজনৈতিক জমি অনেকটাই শক্ত হওয়ার পরপরই এ রাজ্যের রাজনৈতিক রণনীতি তৈরি করতে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয় প্রশান্ত কিশোর তথা তাঁর হাতে গড়া ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটিকে। পিকের পরামর্শেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের তথা দলীয় কাজকর্মের প্রচার এর পাশাপাশি জনসংযোগেও সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে নেতা-নেত্রীদের আগ্রহ বাড়াতে বলা হয় বলে দল। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তৃণমূলের বিধায়কদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর রেখে টানা সার্ভে চালান হয়। বিধায়কদের মূলত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট এর উপর নজর রেখে টিম পিকে যে প্রাথমিক রিপোর্ট কার্ড তৈরি করেছে সেই রিপোর্ট কার্ড নিউজ এইট্টিন বাংলার হাতে এসেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে যে, মোট সাতটি ভাগে ভাগ করে সেই রিপোর্ট কার্ড তৈরি করা হয়েছে। EXCELLENT , VERY GOOD , GOOD , NOT BAD , POOR , VERY POOR এবং CRITICAL৷ শাসক দলের প্রথম সারির কয়েকজন নেতা মন্ত্রীর কাছে রীতিমতো উদ্বেগের এই রিপোর্ট কার্ড। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার ও জনসংযোগে ডাহা ফেল করেছেন অনেকেই। তালিকায় শিক্ষামন্ত্রী তথা দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস , গৌতম দেব ,শশী পাঁজা, ইন্দ্রনীল সেন , চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য , রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় , স্বপন দেবনাথ , তাপস রায় , বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক তৃণমূল বিধায়ক ফেলের তালিকায় রয়েছেন। খারাপ এবং খুব খারাপের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রী অমিত মিত্র ,অরূপ রায় , মলয় ঘটক , পূর্ণেন্দু বসু , উজ্জ্বল বিশ্বাস , অরূপ রায় , তপন দাশগুপ্ত প্রমূখ। । সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালো , খুব ভালো এবং মন্দ নয় পারফরম্যান্স করা মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন ব্রাত্য বসু , জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক , শান্তিরাম মাহাত , চন্দ্রনাথ সিনহা ও সুজিত বোস। রিপোর্ট কার্ডে অসাধারণ পারফরম্যান্স শিরোপায় পাঁচ জন বিধায়কের নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এঁরা হলেন, মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা , শুভেন্দু অধিকারী, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। হাওড়া জেলার বিধায়ক লক্ষ্মীরতন শুক্লার পেজে প্রতিদিন গড়ে ৩৬৭১২ জন লাইক করার তথ্য রিপোর্টে উঠে আসায় তিনিই টিম পিকে'র রিপোর্ট কার্ডের সেরা ছাত্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। অন্য সেরা ৪ জন বিধায়কের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর পেজে প্রতিদিন ৩৩১৩০ জন , শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পেজে ৩২৪৬৩ জন , রবীন্দ্রনাথ ঘোষের পেজে ২২৫৫৬ জন এবং জিতেন্দ্র তেওয়ারির ফেসবুক পেজের পোষ্টের নিরিখে প্রতিদিন ২২৩০৮ জন লাইক করেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। একদিকে যখন সর্বোচ্চ গড়ে প্রতিদিন ৩৬৭১২ জন লাইক করেছেন তখন কোনও কোনও বিধায়কের সোশ্যাল মিডিয়ার পেজে মাত্র একজন লাইক করেছেন । আবার কোনও কোনও বিধায়কের ফেসবুক পোস্টে কোনও লাইকই দেননি কেউ- সমীক্ষা রিপোর্টে এমনও একাধিক বিধায়কের নামের পাশে উল্লেখ রয়েছে। আবার এমন অনেক তৃণমূল বিধায়কের সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও অ্যাকাউন্টেরই হদিস মেলেনি। পিকে'র রিপোর্ট কার্ডে তারও উল্লেখ রয়েছে। সূত্রের খবর, এই রিপোর্ট কার্ড শীঘ্রই রাজ্যের সমস্ত তৃণমূল বিধায়কদের কাছে পাঠানো শুরু হবে। পাশাপাশি দলীয় নির্দেশের পরেও যাঁদের এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় আগ্রহই জন্মায়নি বিশেষ করে সেই সমস্ত নেতা-মন্ত্রীদের কার্যত নির্দেশ আকারে দলীয় কর্মসূচি ও সরকারি কাজের খতিয়ান নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতে বলা হবে বলেও বিশ্বস্ত সূত্রের খবর। সামনেই পুরসভা এবং তারপর বিধানসভা নির্বাচন। সেকথা মাথায় রেখে শুধুমাত্র ফেসবুকই নয় , নিয়মিত ইনস্টাগ্রাম, টুইটার অ্যাকাউন্টের ব্যবহারের মাধ্যমেও মানুষের আরও কাছে পৌঁছানোর রণকৌশল নিয়েছে টিম পিকে। বিশেষ করে বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের উপরই আস্থা রাখছে তৃণমূল শিবির। তবে পিকে ‘মাস্টারমশাইয়’-এর সাজেশন তৃণমূলী ‘ছাত্র ছাত্রী’দের অনেকেই যে এখনও অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন না - এই রিপোর্ট কার্ডে তারই প্রমাণ মিলল।

VENKATESWAR  LAHIRI 
Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: February 16, 2020, 10:00 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर