কোন্দল মেটাতে বৈঠকে মমতা, কলকাতায় না এসে দলকে বার্তা মুর্শিদাবাদের তৃণমূল নেতার

কলকাতায় এলেন না মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন৷

  • Share this:

#কলকাতা: বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অথচ সেই বৈঠকেও গরহাজির থেকে দলকে নিজের মনোভাব বুঝিয়ে দিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন৷

মুর্শিদাবাদে দীর্ঘদিন ধরেই জেলা নেতৃত্বের কোন্দলের জেরে ভুগছে তৃণমূল৷ জেলা সভাপতি আবু তাহেরের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না সভাধিপতি মোশারফ হোসেন ওরফে মধুর৷ সেই দ্বন্দ্ব মেটাতেই এ দিন কলকাতায় তৃণমূল ভবনে ডেকে পাঠানো হয় জেলা সভাপতি, সভাধিপতি সহ জেলা নেতৃত্বকে৷ বৈঠকে হাজির থাকার কথা খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করবেন তৃণমূলনেত্রী৷

কিন্তু বাকি সব নেতা কলকাতায় এলেও মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় আসেননি মোশারফ হোসেন ওরফে মধু৷ বৃহস্পতিবার দুপুরেও মুর্শিদাবাদের বাড়িতেই দেখা গিয়েছে মোশারফকে৷ বরাবরই শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে দলে পরিচিত তিনি৷ বেশ কয়েকমাস ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন মোশারফ৷ জেলা পরিষদের প্রয়াত কর্মাধ্যক্ষ মফেজুদ্দিন মণ্ডলের স্মরণসভাকে কেন্দ্র করে দলের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মণ্ডল। কয়েক মাস আগে দলের ব্যানার ছাড়াই দলকে কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৎকালীন দলের বিতর্কিত নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে মধু ওই স্মরণসভার আয়োজন করেছিলেন। এর পরেই পুলিশকে দিয়ে দল মধুর নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে দেওয়া হয়।

পরে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে মধু বৈঠক করে সুর বদল করেন। ‘দাদার অনুগামী’ থেকে ‘দিদির অনুগামী’ হন। গত মাসে বহরমপুরে সভাধিপতি সহ জেলা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করে জেলা নেতৃ্ত্ব। সেদিন দলের পাশে থাকার বার্তা দিলেও সভাধিপতি দলের এবং সরকারি কর্মসূচিতে অনুপস্থিত থাকছেন। অথচ একই সময়ে দলের ব্যানার ছাড়াই তিনি কর্মসূচি করছেন। এ সব নিয়ে গত সপ্তাহে মধুর বিরুদ্ধে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। কংগ্রেস, বিজেপি ঘুরে গত ৬ অগস্ট ফের তৃণমূলে ফিরেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। দলের যোগদানের পর থেকে রেজিনগরে (বেলডাঙা-২ ব্লকে) হুমায়ুন গোষ্ঠী কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, জেলার অন্য এলাকায় দলের কর্মসূচিতে তিনি ডাক পেলেও বেলডাঙা-২ ব্লক তৃণমূলের কর্মসূচিতে তিনি ডাক পাচ্ছেন না। এ দিন কলকাতার বৈঠকে হুমায়ুন কবীরকেও ডাকা হয়েছে৷

দলের ডাকে সাড়া না দিয়ে বৈঠকে যোগ না দেওয়ায় মোশারফের বিরুদ্ধে দল কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের৷ শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ এই নেতাও শাসক দলের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করেন কি না, সেটাও দেখার৷

Abir Ghosal

Published by:Debamoy Ghosh
First published: