কেন খারিজ সিবিআই-এর আর্জি? আদালতে এই পাঁচ যুক্তিতে জোর দিলেন কল্যাণ

সুব্রত- ফিরহাদদের হয়ে আদালতে সওয়াল কল্য়াণের৷

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিশেষ সিবিআই আদালতে এ দিন প্রথমে ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের দাবি জানায় সিবিআই৷ পরে অবস্থান বদল করে জেল হেফাজতের কথা বলে তারা৷

  • Share this:

    #কলকাতা:  সকালে গ্রেফতার হয়ে সন্ধেবেলা অন্তবর্তী জামিন পেয়ে গেলেন ফিহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ তিন তৃণমূল নেতার হয়ে আদালতে যিনি সওয়াল করেন, তৃণমূলের সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিশেষ সিবিআই আদালতে এ দিন প্রথমে ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের দাবি জানায় সিবিআই৷ পরে অবস্থান বদল করে জেল হেফাজতের কথা বলে তারা৷ এর পাশাপাশি সিবিআই-এর অভিযোগ খণ্ডন করতে আদালতে বেশ কিছু যুক্তি দেন তৃণমূল নেতাদের আইনজীবী৷ মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর জোর দিয়ে সওয়াল করেন তিনি৷ এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আদালতে কী কী যুক্তির উপরে মূলত জোর দেন কল্যাণ-

    ১. দুর্নীতি দমন আইনে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে৷ কিন্তু যে সাজানো ভিডিও-র উপরে ভিত্তি করে সিবিআই এই অভিযোগ আনছে, সেখানে তাঁর কোনও মক্কেলই ঘুষ চায়নি বলে দাবি করেন কল্য়াণ৷  তৃণমূল সাংসদের যুক্তি, তাঁদেরকে যেচে টাকা দেওয়া হয়েছে৷ ফলে তা ঘুষ হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত নয়৷

    ২. সুপ্রিম কোর্ট গত ৭ মার্চ রায় দিয়েছে, করোনা অতিমারির কথা মাথায় রেখে অপ্রয়োজনে কাউকেই হেফাজতে নেওয়া যাবে না৷ ২০১৭ সালের মামলায় কেন এতদিন বাদে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে সিবিআই?

    ৩. রাজ্যপাল যে অনুমোদন দিয়েছেন, তা অসাংবিধানিক৷ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার পরামর্শ ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না৷ সিবিআই গত জানুয়ারি মাসে এই অনুমোদন চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দেয়৷ কিন্তু রাজ্যপাল তা রাজ্য সরকারকে জানাননি৷ গত ৩ মে পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদে ছিলেন, ৫ মে ফের তিনি শপথ নেন৷ অথচ তাঁকে বা সরকারের মন্ত্রিসভাকে একবারও এই অনুমোদন দেওয়ার কথা জানাননি রাজ্যপাল৷ এমন কি, প্রোটেম স্পিকার সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও তিনি কিছু জানাননি৷

    ৪. শুধু তাই নয়, রাজ্যপাল প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ থেকে পিছনের দরজা দিয়ে সিবিআই-কে অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কল্যাণ৷ তাঁর দাবি, রাজ্যপাল যদি এই অনুমোদন দিতেও চান, তাহলে তা রাজ্য সরকারের মারফতই তাঁকে সিবিআই-কে জানাতে হতো৷

    ৫. ২০১৪ সালে নারদ স্টিং অপারেশনের সময় থেকে এখনও মন্ত্রী রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়৷ এই সময়ের মধ্যে তাঁদের বা মদন মিত্রের বিরুদ্ধে কোনও সাক্ষীকে ভয় দেখানোর বা প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ ওঠেনি৷ তাঁরা কোথাও আত্মগোপনও করেননি৷ ফলে জামিন পেলে তাঁরা এখন প্রভাব খাটিয়ে প্রমাণ নষ্ট করবেন, এমন আশঙ্কা ভিত্তিহীন৷

    কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, এই মামলায় মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীর মতো বিজেপি নেতারা অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁদের গ্রেফতার করা হল না, বিচারকের সামনে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: