বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়, স্লোগান নিয়ে বুক বাঁধছে তৃণমূল

বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়, স্লোগান নিয়ে বুক বাঁধছে তৃণমূল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নতুন অস্ত্র নতুন স্লোগান।

রীতিমতো কর্পোরেট ধাঁচায় অনুষ্ঠান করে লঞ্চ করা হল এই স্লোগান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, কাকলী ঘোষ দস্তিদার, সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা।

  • Share this:

#কলকাতা: মা মাটি মানুষ হোক বা বদলা নয় বদল চাই, অতীতে বারংবার ব্রক্ষাস্ত্র হয়ে উঠেছে তৃণমূলের স্লোগান। এবারও তাই পদ্মের সঙ্গে ঘাসফুলের যুদ্ধে স্লোগানে ভরসা রাখছে তৃণমূল। এবার তাদের স্লোগান, বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়। স্লোগান লঞ্চ হয়ে গেল আজ, শনিবার, তৃণমূল ভবনে। রীতিমতো কর্পোরেট ধাঁচায় অনুষ্ঠান করে লঞ্চ করা হল এই স্লোগান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সী, কাকলী ঘোষ দস্তিদার, ডেরেক ওব্রায়েন,  সুব্রত মুখোপাধ্যায়রা।

বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়, স্লোগানের মাহাত্ম্যটা ঠিক কী?  বুঝেশুনেই শব্দ বাছাই করেছেন কৌশলীরা। বহিরাগত তত্ত্বটিতে জোর দিয়ে বোঝানো হচ্ছে অন্যকে ডেকে আনা মানে সংস্কৃতির মূলে আঘাত, পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তথা ঘরের মেয়ের কোনও বিকল্প নেই , এই বার্তাও দেওয়া যাচ্ছে। তাকে কেন দরকার ? তৃণমূলের সাফ জবাব- উন্নয়নই মূল কারণ। পার্থ চট্টোপাধ্যায় আজ বলেন, "এই বাংলার সাথে মাটির টান আছে। আছে আত্মিক যোগাযোগ। তার হাত ধরেই নেত্রী বিগত এক দশকে বাংলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিতে উন্নয়নের জোয়ার এনেছেন। স্বাস্থ্যসাথী পাচ্ছেন সকলে। খাদ্য সাথী প্রকল্পে সাহায্য পেয়েছে মানুষ। বাংলার সামগ্রিক পট পরিবর্তনে বাংলার গরিমা রক্ষা করেছেন তিনি অভিভাবক হিসাবে। সকলের খবর রেখেছেন। বাংলার মাটির কথা তিনি বোঝেন। তাই বাংলার মেয়েকে আবারও চাই। আশা করব রাজ্যের মানুষ সব পরিবার উপকৃত হয়েছেন। তাই বাংলা নিজের মেয়েকে চায়।"


বার্তাটি অনেকটা এরকম যে, বাংলা মমতার হাতেই সুরক্ষিত বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি। প্রবীণ তৃণমূল নেতা সুব্রত বক্সীও এদিন বলছিলেন,  "মমতা বন্দোপাধ্যায় হাতে বাংলার শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সুরক্ষিত। তাই এই স্লোগানকে সামনে রেখে এগোনো হবে। এই ভোট আমাদের কাছে কঠিন নয়। ইতিমধ্যেই উন্নয়নকে সামনে রেখে আমরা এগোবো। আমরা রিপোর্ট কার্ড পেশ করেছি। মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছি।"

বাংলার মেয়ে তাই বাংলাকে চেনেন মমতা, এই বার্তার পাশাপাশি মেয়ে  এই শব্দটাতেও জোর দিতে চাইছে তৃণমূল। ভোটের আগে উত্তর প্রদেশে নারীসুরক্ষার মতো বিষয়টি বেশ কয়েকবার উঠে এসেছে তৃণমূল নেত্রীর বক্তব্যেও। আজ সেই সুরেই কাকলী ঘোষ দস্তিদারও বলেন,"বাংলার মাটিকে চেনেন উনি। মানুষের অগাধ বিশ্বাস আছে ওঁর ওপর। নারীবিদ্বেষী বর্গীরা কোনওভাবে আক্রমণ করতে পারবেন না। উনি সারা জীবন আপোষহীন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাই বাংলার মেয়েকেই চায় মানুষ মমতা বন্দোপাধ্যায় মানুষকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান।"

বাংলা তার মেয়েকেই চায় স্লোগানের মধ্যেই  লুকিয়ে আছে তাঁকে কেন চায় এবং কাকে চায় না, সেই বার্তাও। সুব্রত মুখোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, "ভোটের আগে অনেক দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা মুখ্যমন্ত্রী খুঁজে দেখছেন। আমাদের মমতা বন্দোপাধ্যায় আছেন। নিষ্ঠা, সাহস, লড়াই নিয়ে তিনি আছেন। তিনিই হবেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী।মহিলা সংরক্ষণে তিনি এগিয়েছেন। গুণগত মানে তিনি এগিয়ে। তিনি গ্রাম বাংলার উন্নতি করেছেন।।মানুষের সাথে তার অবিচ্ছেদ্য যোগ রয়েছে। গ্রামের মানুষদের তিনি দেখেছেন।গ্রামের মানুষদের কথা তিনি ভেবেছেন। তার কাজের জেদ আছে। তার কোনও বিকল্প নেই। বাংলার প্রগতি, সংস্কৃতি নিয়ে তিনি এগিয়েছেন। তিনি যা কাজ করেছেন তার কোনও নজির নেই ভারতে। পরিযায়ী শ্রমিকদের তিনি সাহায্য করেছেন। বিজ্ঞান ভিত্তিক চিন্তা তিনি করেছেন। ছুটি নেই, খিদে নেই তার। তাই তার বিকল্প নেই। একটাও নাম বলতে পারেনি।"

রাজনৈতিক মহল বলছে, মমতার তোলা স্লোগান যে ভাবে ঘরে ঘরে আলোড়ন তুলেছিল, তার নজির দেশেই কম। প্রতিতুলনায় আসবে আব কি বার মোদি সরকারের মতো ট্রেন্ডিং স্লোগান। এবারে মমতা কি সেই মোদি ম্যাজিককে পিছনে ফেলতে পারবেন এই স্লোগানের হাত ধরে, আশাবাদী তৃণমূল শিবির।

Published by:Arka Deb
First published: