• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • TMC BLAMES NARENDRA MODI FOR HARASMENT OF ALAPAN BANDYOPADHYAY DMG

TMC on Alapan Bandyopadhyay: আলাপনকে নিয়ে প্রতিশোধের রাজনীতি কেন্দ্রের, মোদিকে দায়ী করে সরব তৃণমূল

আলাপন কাণ্ডে মোদিকেই নিশানা করলেন সৌগত৷

TMC on Alapan Bandyopadhyay: গতকাল, সোমবার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব এবং বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Alapan Bandyopadhyay) কঠোর চিঠি পাঠিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ মন্ত্রক৷

  • Share this:

#কলকাতা: এ রাজ্যে নির্বাচনে বিজেপি পরাজিত হওয়ার কারণেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Alapan Bandyopadhyay) নিয়ে কেন্দ্র প্রতিশোধের রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) ৷ এ দিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনই দাবি করেন সাংসদ সৌগত রায় এবং সুখেন্দুশেখর রায়৷ শাসক দলের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের কাজে বাধা দিতেই রাজ্যের আইএস- আইপিএস অফিসারদের হেনস্থা করা হচ্ছে৷ এর জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকেও আঙুল তুলেছেন সৌগতবাবু৷ অবসরপ্রাপ্ত কোনও আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে এ ভাবে বিভাগীয় তদন্ত করা যায় না বলেও দাবি করেছেন সুখেন্দুশেখর রায়৷

গতকাল, সোমবার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব এবং বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কঠোর চিঠি পাঠিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ মন্ত্রক৷ তিরিশ দিনের মধ্যে চিঠির জবাব না দিলে বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সশরীরে হাজির না হলে আলাপনের বিরুদ্ধে একতরফা পদক্ষেপেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে৷ এমন কি, আলাপনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সাক্ষীদের বক্তব্যও শোনা হয়েছে৷

এই প্রসঙ্গে এ দিন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, 'বিজেপি-র এই রাজনীতি প্রতিশোধের রাজনীতি৷ পশ্চিবঙ্গে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর বিজেপি রাজ্য সরকারের কাজকর্মকে বিপর্যস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা অতিমারির সময় কাজ করছিলেন৷ তখন কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলল৷ আমাদের সবথেকে সৎ আমলাদের ভাল ভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না কেন্দ্রীয় সরকার৷ এটা খুবই দুঃখজনক৷ ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্ত দফতর৷ ফলে যা হচ্ছে ধরে নিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই হচ্ছে৷ আর তার জেরেই আমরা এই নিষ্ঠুর আচরণ দেখছি৷ গত সপ্তাহে প্রাক্তন মুখ্যসচিবের মাতৃবিয়োগ হয়েছে৷ এমন পরিস্থিতিতে এ রকম কিছু করা যায়, তা ভাবা যায় না৷ '

সৌগত রায় আরও বলেন, '৩১ মে যখন ওঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়, তখন উনি অবসর গ্রহণ করেছেন৷ আলাপনের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ হল, উনি এবং মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে একটি বৈঠকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করিয়েছিলেন৷ মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন খারাপ আবহাওয়ার জন্য তাঁরা সাগরদ্বীপ থেকে রওনা দিতে পারেননি৷ এবং হেলিকপ্টার রওনার দেওয়ার অনুমতি পেতেও দেরি হয়৷ কারণ তখন কলাইকুণ্ডায় প্রধানমন্ত্রী বিমান অবতরণের কথা ছিল৷ এটাও মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন৷ তা ছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর আকাশ পথে ইয়াস বিপর্যস্ত এলাকা দেখতে যাওয়ার সূচি পূর্ব নির্ধারিত ছিল৷ সেকথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন৷ আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আর একটা অভিযোগ হল প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের যে বৈঠক ডেকেছিলেন তাতে উনি উপস্থিত ছিলেন না৷ এর জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে৷ কিন্তু এই অভিযোগ অত্যন্ত দুর্বল কারণ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের প্রধান৷ আর সেখানে মুখ্যসচিব এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারপার্সন৷ মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব যেখানে বিপর্যয় মোকাবিলার দায়িত্বে রয়েছেন৷ ফলে তাঁরা এই ধরনের বৈঠকে বাধা দেবেন এই অভিযোগ হাস্যকর৷'

তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, ২৮ মে যখন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি গিয়ে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তখন তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে কাজ করছিলেন৷ এটাও নিয়ম বিরুদ্ধ বলে অভিযোগ করেছেন সৌগত বাবু৷ পাশাপাশি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লি গিয়ে কাজে যোগ দিতে যাওয়ার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা কতটা বিধিসম্মত তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ৷ সৌগত বাবুর যুক্তি, ওই চিঠিতে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোনও পোস্টিং দেওয়া হয়নি৷ কেন্দ্রীয় সরকার কোনও অফিসারকে এ ভাবে জোর করতে পারে না বলেও দাবি করেছেন সৌগত রায়৷ পাশাপাশি কোনও অফিসারকে ডেকে নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের মত নেওয়ার কথা আইনেই বলা আছে বলে দাবি করেছেন সৌগত৷

দমদমের সাংসদের অভিযোগ, 'কেন্দ্রের এই ধরনের অর্ডারের একটাই উদ্দেশ্য, একটাই লক্ষ্য রাজ্যের অফিসারদের বিচলিত করা, তাঁদের স্বাধীন ভাবে কাজ করতে না দেওয়া৷ তাঁদের মনে করিেয় দেওয়া যে ঘাড়ের কাছে কেন্দ্র নিঃশ্বাস ফেলছে৷ এটা কাম্য নয়৷ কেন্দ্র আলাপনবাবুর সঙ্গে যা করছে তাতে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হচ্ছে৷ আইএএস আপিএস অফিসাররা সংবিধানগত ক্ষমতা পান৷ সেখানে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিবের সঙ্গে যা করা হল সেটা অন্যায়, অন্যায্য, নিষ্ঠুর, অমানবিক৷ আলাপন বাবু কী করবেন, আদালতে যাবে কি না, সেটা তাঁর বিষয়৷ কিন্তু দলের পক্ষ থেকে আমরা এর প্রতিবাদ করছি৷'

অন্যদিকে একই সুরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, আর্থিক তছরূপের অভিযোগ না থাকলে কোনও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসারের বিরুদ্ধে এ ভাবে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা যায় না৷ সুখেন্দুশেখর বাবু বলেন, 'এর পরে তো কুড়ি বছর আগে অবসর নেওয়া কোনও অফিসারের বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনে তদন্ত শুরু করা হবে৷'

Abir Ghosal
Published by:Debamoy Ghosh
First published: